Monday, August 10, 2026

দ্রুত মসজিদে যাওয়া

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ 
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

(১৪) দ্রুত মসজিদে যাওয়া

বিশেষ করে ইমাম রুকুতে যাওয়ার পূর্ব সন্দিক্ষণে তাড়াহুড়া করে নামাযে শামিল হওয়ার চেষ্টা করা। জাতীয় তাড়াহুড়া নিষিদ্ধ। আবু হোরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন: 'যখন নামাযের একামত দেয়া হয় তখন দৌড়ে এসোনা, বরং স্বাভাবিকভাবে হেঁটে আস, ধীরে-সুস্থে আস; যতটুকু নামায পাও ততটুকু পড়, আর যতটুকু পাওনি তা পূর্ণ কর।'

(বোখারী, মুসলিম, আহমদ, অন্য চারটি বিশুদ্ধ হাদীসগ্রন্থ)

ধীরে-সুস্থে এবং তাড়াহুড়া না করে নামাযে যোগদান কাম্য। তাড়াহুড়া করে নামাযে আসলে জোরে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে হয়। কিন্তু স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস সহকারে এবং দ্রুততা পরিহার করে নামাযে শরীক হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। মর্মে আরেকটি হাদীস বর্ণিত আছে। আবু বাকরাহ সাকাফী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি যখন মসজিদে পৌঁছলেন তখন নবী করীম (সঃ) রুকু অবস্থায় ছিলেন। তিনি নামাযের কাতারে শামিল না হয়ে কাতারের বাইরেই রুকুতে শামিল হলেন। তিনি নবী করীম (সঃ)-কে একথা জানান। নবী করীম (সঃ) বলেন: আল্লাহ তোমার আগ্রহ বৃদ্ধি করুন, তবে আর এরূপ করবে না।' (বোখারী)

ইবনে হাজার আসকালানী হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেছেন, 'আর এরূপ করবে না' এর অর্থ হল, তুমি যেভাবে দ্রুত এসেছ, কাতারবিহীন রুকুতে শামিল হয়েছ, তারপর কাতারে শরীক হয়েছ' আর এরূপ করবে না।

আবু হোরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন: তোমরা যখন একামত শুনবে, তখন নামাযের উদ্দেশ্যে রওনা হবে, তবে শান্তভাবে সম্মানের সাথে চলবে, তাড়াহুড়া করবে না, যে পরিমাণ নামায পাবে তা পড়বে এবং যে পরিমাণ পাবে না সে পরিমাণ পূর্ণ করবে।' (বোখারী)

হাদীসগুলোতে নামাযের একামতের সময় তাড়াহুড়া না করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু অন্য আরেক বর্ণনায় নামাযের কথাও এসেছে, 'তোমরা যখন নামাযের জন্য রওনা হবে' তাই তাড়াহুড়া নামায এবং একামত দু' অবস্থায়ই নিষিদ্ধ।

ইবনে হাজার আসকালানী (রঃ) বলেছেন: একামতের সময় তাড়াহুড়া করে না আসার একটি হেকমত হল, তাড়াহুড়া করে আসলে এবং নামাযে শরীক হলে বিনয় খুশু আসবে না। বরং যে আগে আসবে তার মনে সে খুশু বিদ্যমান থাকবে।

অন্য আরেক হাদীসে তাড়াহুড়া না করার আরেকটি হেকমত উল্লেখ আছে। আবু হোরায়রা থেকে বর্ণিত। আগে বর্ণিত হাদীসের শেষে উল্লেখ আছে: তোমাদের কেউ নামাযের ইচ্ছা পোষণ করে রওনা হলে সে নামাযের মধ্যেই বিবেচিত হবে। (মুসলিম) অর্থাৎ তার হুকুম মুসল্লীর হুকুমের মতই। তাই মুসল্লীর যা করণীয় বর্জনীয় তারও তা করণীয় বর্জনীয়। অর্থাৎ তাড়াহুড়া বর্জনীয়।

ইমাম ইবনে তাইমিয়াকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, আল্লাহ কোরআন মজীদে বলেন: 'হে ঈমানদারগণ, যখন শুক্রবারে তোমাদেরকে জুম'আর নামাযের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণ জিকরের দিকে দ্রুত ধাবিত হও।' আয়াতে وিفَاسْعُ শব্দের অর্থ হচ্ছে দ্রুত ধাবিত হও। শব্দের ভিত্তিতে নামাযের জন্য তাড়াহুড়া করার বিধান রয়েছে। ইমাম ইবনে তাইমিয়া বলেন: আয়াতে শব্দের অর্থ দৌড়-ঝাঁপ করা নয়। বরং উপরোল্লিখিত হাদীসে, ধীরে সুস্থে আসাকেই এর অর্থ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। বিভিন্ন ইমামগণ বলেছেন: কোরআনে শব্দের অর্থ হল, কাজ করা কর্ম তৎপর হওয়া। অর্থাৎ আজান শুনার পর নামাযের প্রস্তুতি নেয়া, দ্রুততা বা তাড়াহুড়া নয়। যেমন, কোরআনের অন্য আয়াতেও শব্দটি কাজ-কর্মের অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। আল্লাহ বলেন:

وَمَنْ أَرَادَ الْآخِرَةَ وَسَعَى لَهَا سَعْيَهَا وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَأُولَئِكَ كَانَ سَعْيُهُمْ مَشْكُورًا .

"যে ব্যক্তি আখেরাতের ইচ্ছা করে, সেজন্য আমল করে এবং সে যদি মোমেন হয় তাহলে তাদের আমল চেষ্টা-তৎপরতার যথার্থ মূল্যায়ন হবে।"

আল্লাহ আরো বলেন, إِنَّ سَعْيَكُمْ لَشَتَّى নিশ্চয়ই তোমাদের তৎপরতা ভিন্ন ভিন্ন।'

আল্লাহ আরো বলেন:

فِي إِنَّمَا جَزَاءُ الَّذِينَ يُحَارِبُونَ اللهَ وَرَسُولَهُ وَيَسْعَوْنَ ) الْأَرْضِ فَسَادًا

'যারা আল্লাহ তাঁর রসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং জমীনে ফেতনা-ফাসাদের চেষ্টা করে তাদের শাস্তি হল...

উপরোল্লিখিত আয়াতসমূহে ' শব্দের অর্থ হল কাজ তৎপরতা, তাড়াহুড়া কিংবা দ্রুততা নয়। সকল আয়াত দ্বারা উল্লেখিত প্রশ্নের সমাধান হয়েছে।

এছাড়াও হযরত ওমর বিন খাত্তাব (রাঃ) আয়াতটি নিম্নোক্তভাবে পড়েছেনঃ فَامُضُوا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ অর্থাৎ 'আল্লাহর জিকরের তথা নামাযের উদ্দেশ্যে রওনা কর।' ইবনে তাইমিয়ার জবাব এখানেই শেষ।

ইবনে হাজম তাঁর 'মোহাল্লা' গ্রন্থে আবু জার (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: কেউ নামাযের উদ্দেশ্যে রওনা হলে রাস্তায় থাকা অবস্থায় নামাযের একামত হলে সে যেন তাড়াহুড়া না করে এবং আগের চলার গতি অপেক্ষা যেন দ্রুত না চলে। বরং যতটুকু ইমামের সাথে পাবে ততটুকু পড়বে এবং যতটুকু না পাবে ততটুকু পূর্ণ করে নেবে।

সুফিয়ান বিন যিয়াদ থেকে বর্ণিত। যোবায়ের বিন আওয়াম তাকে রাস্তায় দ্রুত চলতে দেখে বলেন: পরিমিত গতিতে চল, তুমি নামাযের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত, প্রতিটা পদক্ষেপে আল্লাহ তোমার একটি মর্যাদা বাড়াবেন অথবা একটি গুনাহ মাফ করে দেবেন।

নামাযে ইমামের আগে আগে কাজ করা

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ 
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

(১৩) নামাযে ইমামের আগে আগে কাজ করা

এটা বিরাট ভুল। ব্যাপারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আবু হোরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন: 'তোমাদের কেউ কি আল্লাহকে ভয় করে না? ইমামের আগে কেউ মাথা তুললে আল্লাহ তার মাথাকে গাধার মাথা কিংবা তার চেহারাকে গাধার চেহারায় রূপান্তরিত করবেন।' (বোখারী)

ইমামের সাথে নামায পড়ার ব্যাপারে চারটি অবস্থা হতে পারে। এর মধ্যে তিনটি নিষিদ্ধ এবং একটি আদিষ্ট। চারটি অবস্থা হল:

. مُسَابَقَةُ )মোসাবাকা): ইমামের আগে আগে রুকু-সাজদাসহ

বিভিন্ন কাজ করা।

. مُوَافَقَةُ )মোআফাকা): মোটেও দেরী না করে ইমামের সাথে সাথে

রুকু-সাজদাসহ বিভিন্ন কাজ করা।

. مَتَابَعَةُ )মাতাবাআ): ইমাম কোন কাজ করলে এর সামান্য পরে

সে কাজটি করা।

8. مَخَالَفَةُ )মোখালাফা): ইমাম কোন কাজ শেষ করেছেন। তা

সত্ত্বেও বেশ দেরী করে সে কাজটি করা। এর মধ্যে কেবল ৩নং متابعة

(মোতাবাআ) কাজটি করার জন্য আমরা আদিষ্ট। বাকি তিনটি কাজ ইমামের অনুসরণের খেলাপ। একটি অগ্রগামীতা, একটি পশ্চাদগামীতা, একটি সাথে সাথে করা। কেবল ইমামের অনুসরণ কাম্য।

ইমামের অনুসরণের ব্যাপারে আবু হোরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন: পূর্ণ অনুসরণের ভিত্তিতে নামায পরিপূর্ণ করার জন্য ইমাম নির্ধারণ করা হয়েছে। তোমরা ইমামের বরখেলাপ করবে না। ইমাম তাকবীর বললে তোমরাও তাকবীর বলবে এবং রুকু করলে রুকু করবে, তিনি

رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ Coast 6 سَمِعَ اللَّهِ لِمَنْ حَمِدَهُ **

এবং তিনি যখন সাজদা করবেন তখন তোমরাও সাজদা করবে।'

(বোখারী, মুসলিম, আহমদ, আবু দাউদ)

হাদীসে ইমামের পূর্ণাঙ্গ অনুসরণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ কোন কিছুতে ইমামের অগ্রগামীতা বা পশ্চাতগামীতা অথবা বরখেলাপী করা নিষিদ্ধ। হযরত আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেন: 'হে লোকেরা! আমি তোমাদের ইমাম, তোমরা রুকু, সাজদা, কেয়াম, বৈঠক সালাম ফিরানোর সময় আমার অগ্রগামী হবে না।' (মুসলিম, আহমদ)


হযরত আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন: 

ইমামের অনুসরণের মাধ্যমে নামাযকে পূর্ণ করার জন্য ইমাম নির্ধারণ করা হয়েছে। তাই ইমাম রুকুতে যাওয়ার আগে তোমরা রুকুতে যাবে না এবং ইমাম উঠার আগে তোমরা উঠবে না।' (বোখারী)

হাদীসগুলোতে অগ্রগামীতা পশ্চাদগামীতা ব্যতিরেকে ইমামের যথার্থ অনুসরণের কথা বলা হয়েছে।

প্রথম জাম'আত না পেলে দ্বিতীয় জাম'আত না করা এবং লোক থাকা সত্ত্বেও জাম 'আত ছাড়া একাকী নামায পড়া ভুল

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ 
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

(১১) প্রথম জাম'আত না পেলে দ্বিতীয় জাম'আত না করা এবং লোক থাকা সত্ত্বেও জাম 'আত ছাড়া একাকী নামায পড়া ভুল কেননা, জাম'আতে নামায পড়ার ব্যাপারে অধিকাংশের মত হল তা ফরজ। একমাত্র হানাফী মাজহাবে এটাকে ওয়াজিবের কাছাকাছি সুন্নতে মোআক্কাদা বলা হয়েছে। এর নিচে আর কেউ বলেনি। কোন ফরজ বা ওয়াজিব ছুটে গেলে সময় থাকলে অবশ্যই সে সময়ের ভেতর তা আদায়ের চেষ্টা করতে হবে।

'আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সঃ) এক ব্যক্তিকে একা নামায পড়তে দেখে বলেন: 'এমন কে আছে, যে ব্যক্তির জন্য সদকার নিমিত্ত তার সাথে নামায পড়বে?' (আবু দাউদ- 'একই মসজিদে দ্বিতীয়বার জামাতে নামায আদায়' অধ্যায়)

তিরমিজী শরীফে 'যে মসজিদে একবার জামাত হয়েছে সে মসজিদে দ্বিতীয়বার জামাত অনুষ্ঠান' অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে, 'যখন নবী করীম (সঃ)-এর নামায শেষ হল, তখন এক ব্যক্তি আসল। তিনি বলেন: 'কে আছে এমন যে তার সাথে ব্যবসা করবে?' তখন এক ব্যক্তি দাঁড়াল তার সাথে নামায আদায় করল।'

দুটো হাদীস দ্বারা একই মসজিদে ২য় জামাতের পরিস্কার প্রমাণ মিলে। কোন কারণে একাধিক লোকের একই নামায কাজা হলে তাও জাম'আত সহকারে পড়ার বিধান রয়েছে। এমনকি, সুন্নতে মোআক্কাদা নামায ফরজের আগে পড়তে না পারলে জাম'আতের পর পুনরায় তা পড়ে নিতে হয়।

যারা মসজিদে ২য় জাম'আত দ্বারা ১ম জাম'আতের গুরুত্ব কমে যায় যুক্তিতে ২য় জাম'আত করেন না, তাদের যুক্তি খুবই দুর্বল। দুর্বল যুক্তি দ্বারা কোরআন হাদীসের অকাট্য প্রমাণসমূহ বাতিল হতে পারে না। ** নামায জাম'আতে পড়ার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে কয়েকটা প্রমাণ পেশ করছি।-أَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَأتُو الزَّكَاةَ وَارْكَعُوا مَعَ الرَّاكِعِينَ - : Gate on

"তোমরা নামায কায়েম কর, যাকাত আদায় কর এবং রুকুকারীদের সাথে রুকু কর।" (সূরা বাকারা ৪৩)

আয়াতে একদিকে নামায কায়েম এবং অন্যদিকে রুকুকারীদের সাথে রুকু আদায়ের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নামায কায়েমের মধ্যে জাম'আতে নামাযও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দ্বিতীয়তঃ 'রুকুকারীদের সাথে রুকু কর' আয়াত পরিস্কার জাম'আতে নামায আদায়ের নির্দেশ দিচ্ছে। জাম'আত ছাড়া একই সাথে 'রুকুকারীদের সাথে রুকু আদায়ের' আর কোন ব্যবস্থা হতে পারে না।

সূরা নেসার ১০২ নং আয়াতে যুদ্ধকালীন নামাযের পদ্ধতি শিক্ষা দেয়া হয়েছে। কঠিন মুহূর্তেও জাম'আতসহকারে নামায পড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যুদ্ধের সময়ে যদি জাম'আতসহকারে নামায আদায়ের নির্দেশ দেয়া হয়, তাহলে শান্তির সময় জাম'আতের আদেশ আরো জোরদার হবে।

শুধু তাই নয়, কোন কারণে কেউ জাম'আত না পেলে কোন সুন্নত নফল আদায়কারীর পেছনে দাঁড়িয়ে ফরজ নামায জাম'আতসহকারে পড়তে পারে। মাসলা বোখারী মুসলিম দু'টো হাদীস গ্রন্থে উল্লেখ আছে। সাহাবী মোআ' (রাঃ) নবী করীম (সঃ)-এর সাথে এশার নামায জামাতে পড়ে পরে নিজ পল্লীতে এসে অন্যান্য মুসল্লীদের এশার জামা'আতের ইমামতির ঘটনা খোদ বোখারী শরীফেই বর্ণিত আছে। তাই ২য় জাম'আত হোক বা ৩য় জাম'আত হোক, নামায অবশ্যই জাম'আতে পড়তে হবে।

এমনকি ঘরে এসে স্ত্রীর সাথে হলেও জাম'আতে নামায পড়তে হবে। তাই দ্বিতীয় জাম'আতকে অস্বীকার করার উপায় নেই।

(১২) মুসল্লীর প্রথম তাশাহহুদ শেষ হয়ে গেলে তখনও যদি ইমামের তাশাহহুদ শেষ না হয় বরং ইমাম তখনও বসা- এমতাবস্থায় তাশাহ্হুদের পুনরাবৃত্তি করা ঠিক নয়। আবদুল্লাহ বিন মাসউদ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, তোমরা যখন প্রত্যেক দুই রাকাত শেষে বস, তখন তাশাহহুদ অর্থাৎ আত্তাহিয়্যাতু... আবদুহু ওয়া রসূলুহু পর্যন্ত পড় এবং যেকোন ভাল দোআ নির্বাচন করে তা পড়। (নাসাঈ, আহমদ, তাবরানী) আল্লামা নাসেরুদ্দিন আলবানীও দোআ পড়ার পক্ষে রায় দিয়েছেন।

** সৌদী আরবের সকল মসজিদে ২য় জাম'আত অনুমোদিত।

কুকুরের মত দুই উরু দাঁড় করে নিতম্বের উপর বসা

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ 
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

(১০) কুকুরের মত দুই উরু দাঁড় করে নিতম্বের উপর বসা: 

এভাবে বসা নিষেধ। কিন্তু দুই সাজদার মাঝে বসার ব্যাপারে মতভেদ আছে। মুসলিম শরীফে তাউস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আমরা আবদুল্লাহ বিন আব্বাসকে দুই পায়ের পাতা দাঁড় করে বসার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করায় তিনি উত্তর দেন, এটা মহানবী (সঃ)-এর সুন্নত। শুধু দুই সাজদার মাঝে সংক্ষিপ্ত বৈঠকে তা বৈধ। ইবনে আব্বাসের ব্যাখ্যা হল, নিতম্বের সাথে পায়ের গোড়ালী মিলবে। অপরদিকে, নিতম্ব মাটিতে বিছিয়ে দুই পা দাঁড় করানো এবং দুই হাত মাটিতে রাখা, এটাই কুকুরের মত বসা। আর হাদীসে এটাকেই নিষেধ করা হয়েছে।

আবু হোরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আমার বন্ধু নবী করীম (সঃ) আমাকে তিনটি কাজ করতে নিষেধ করেছেন। . মোরগের মত সাজদায় ঠোঁকর মারা অর্থাৎ তাড়াহুড়া করে সাজদা করা। . কুকুরের মত বসা এবং . শিয়ালের মত এদিক-ওদিক উঁকি-ঝুঁকি মারা। (আহমদ, আবু ইয়ালী)

বর্ণনা দ্বারা বুঝা গেল, দুই সাজদার মাঝে বসার পদ্ধতি দুই রকম। . বাম পা বিছিয়ে দিয়ে ডান পা দাঁড় করানো। এটাই নবী করীম (সঃ)-এর প্রসিদ্ধ সুন্নত। অন্যান্য সকল বৈঠকে এভাবেই বসার নিয়ম। . দুই পায়ের গোড়ালীর উপর দুই নিতম্ব রেখে বসা।

নামাযে এদিক-ওদিক ঝুঁকে যাওয়া কিংবা বিনা প্রয়োজনে আগে-পিছে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত কাজ, এটা নামাযের বিনয় বা খুশুর খেলাপ। ইবনে আওন বলেছেন, মুসলিম বিন ইয়াসার নামক প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন ইমাম নামাযে এমনভাবে দাঁড়াতেন যেন তাকে কোন কিছুর সাথে পেরেক মেরে সোজা করে রাখা হয়েছে। তিনি মোটেও নড়াচড়া করতেন না।(তাহজীব আত-তাহজীব)