Wednesday, August 12, 2026

নামাযে নাড়াচাড়া করা

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ 
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

(৩৯) নামাযে নাড়াচাড়া করা: কেউ কেউ নামাযে দাঁড়িয়ে হাত দিয়ে বেশ কিছু কাজ করে। তাতে তার শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের নাড়াচাড়া হয়। এর উদাহরণ অনেক। যেমন () নাক পরিস্কার করা। এটা নামাযের বাইরেই অপসন্দনীয়, নামাযের ভেতর কিভাবে পসন্দনীয় হবে? () মাথা নাড়ানো।

() পাগড়ী, টুপি মাথার রূমাল ঠিক করা। () পকেটের জিনিস খুঁজে

দেখা। () দাঁত পরিস্কার করা। () ঘড়ি নাড়ানো কিংবা ঘড়ির দিকে তাকানো। () দাঁড়ি নাড়াচাড়া করা। () দু'আঙ্গুলের মাঝখানে সর্বদা মেসওয়াক রাখা।

এক ব্যক্তি সৌদী আরবের পরলোকগত প্রধান মুফতী শেখ আবদুল আযীয বিন বাজকে প্রশ্ন করেন যে, আমি নামাযে অধিক নাড়াচাড়াকারী ব্যক্তি। শুনেছি, তিনবার নাড়াচাড়া করলে নামায বাতিল হয়ে যায়। প্রশ্নের জবাবে শেখ বিন বাজ বলেন: মোমেনের জন্য নিয়ম হল, ফরজ, নফল সুন্নত নামাযে শারীরিক মানষিক বিনয় সহকারে নামায আদায় করা। কেননা,

আল্লাহ বলেছেন:

قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ - الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ

خَاشِعُونَ -

'মোমেনরা অবশ্যই সফল হয়েছে। যারা নামাযে বিনয়ী।' (সূরা মোমেনুন : -) বিনয় প্রশান্তি নামাযের অপরিহার্য রোকন। নবী করীম (সঃ) ভুল নামায আদায়কারীকেও কথাই বলেছিলেন। তাই এটা ছাড়া নামায বিশুদ্ধ হবে না।

তবে, তিনটি কাজ করলে নামায বাতিল হবে বলে যে কথা প্রচলিত আছে, তা কিন্তু হাদীসে নেই। বরং সেটা কোন আলেমের কথা যার সমর্থনে কোন প্রমাণ নেই। তবে, নামাযে অপ্রয়োজনীয় কাজ নাড়াচাড়া করা মাকরূহ। যেমন, নাক ঝাড়া, দাঁড়ি নাড়ানো, কাপড়-চোপড় নাড়াচাড়া করা ইত্যাদি। বেশি বেহুদা কাজ দ্বারা নামায বাতিল হবে। তাই বিনয় প্রশান্তির লক্ষ্যে অল্প বেশি সব ধরনের নাড়াচাড়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

অল্প কাজ বা নাড়াচাড়া দ্বারা নামায বাতিল হবে না। বিচ্ছিন্ন-বিক্ষিপ্ত কাজ দ্বারাও নামায নষ্ট হবে না। এর প্রমাণ হল, একদিন নবী করীম (সঃ) নামাযরত অবস্থায় হযরত আয়েশার জন্য দরজা খুলে দেন।

আবু কাতাদার বর্ণিত হাদীসে এসেছে, একদিন নবী করীম (সঃ) লোকদের নামাযের ইমামতি করেন, তাঁর কাঁধে ছিল তাঁর মেয়ে যয়নাবের কন্যা উমামা। তিনি সাজদায় গেলে তাকে নিচে নামিয়ে রাখতেন এবং দাঁড়ালে আবার তাকে তুলে নিতেন।

সালাতে মুসল্লীর সামনে দিয়ে অতিক্রম করা

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ 
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

(৩৮) মুসল্লীর সামনে দিয়ে অতিক্রম করা: এটা বিরাট গুনাহ। আবুল জোহাইম থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন: যদি মুসল্লীর সামনে দিয়ে অতিক্রমকারী জানত যে, তার কি গুনাহ, তাহলে তার জন্য মুসল্লীর সামনে দিয়ে অতিক্রম করা অপেক্ষা ৪০ পর্যন্ত অপেক্ষা করা উত্তম হত।' রসূল হাদীসের এক বর্ণনাকারী আবুন নাদ্র বলেন: আমি জানিনা, নবী করীম (সঃ) ৪০ দিন, মাস না বছর বলেছেন। (শরহে মুসলিম, ইমাম.নওয়ী)

আবু সালেহ সাম্মান থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: 'আমি আবু সাঈদ (রাঃ)-কে জুমার দিন লোকদেরকে আড়ালকারী একটি জিনিসের দিকে মুখ করে নামায পড়তে দেখেছি। আবু মুঈত গোত্রের এক যুবক তাঁর সামনে দিয়ে পার হওয়ার ইচ্ছা করল। আবু সাঈদ (রাঃ) তাঁকে নিজ বুক দিয়ে ঠেলা দেন। যুবকটি পারাপারের অন্য কোন পথ না দেখে আবারও তাঁর সামনে দিয়ে পার হওয়ার চেষ্টা করে। এবারও আবু সাঈদ পূর্বাপেক্ষা আরো জোরে ঠেলা দেন। যুবকটি আবু সাঈদের আচরণের বিরুদ্ধে শাসক মারওয়ানের কাছে অভিযোগ করে। আবু সাঈদও তাঁর পেছনে পেছনে মারওয়ানের কাছে যান। মারওয়ান জিজ্ঞেস করেনে, হে আবু সাঈদ, আপনার আপনার ভাতিজার ঘটনা কি? আবু সাঈদ বলেন: আমি নবী করীম (সঃ)-কে বলতে শুনেছি, তোমাদের কেউ মানুষ থেকে আড়াল সৃষ্টিকারী সুতরার দিকে নামায পড়ার সময় সামনে দিয়ে কেউ অতিক্রম করতে চাইলে তাকে ঠেলে সরিয়ে দেবে। সে সরতে না চাইলে তার সাথে যুদ্ধ-করবে। নিশ্চয়ই সে শয়তান।' (বোখারী)

ইমাম নওয়ী বলেছেন, ১ম হাদীসে নামাযের সামনে দিয়ে পার হওয়াকে হারাম করা হয়েছে। তাতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা হুমকীর উল্লেখ আছে।

আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী বলেছেন, হাদীসের মর্মানুযায়ী এটা কবীরা গুনাহর শামিল। তিনি আরো বলেন, প্রকাশ্য হাদীসের দাবী হল, মুসল্লীর সামনে দিয়ে মোটেও অতিক্রম করা যাবে না। জায়গা না থাকলে অপেক্ষা করতে হবে যে পর্যন্ত না মুসল্লী নামায থেকে অবসর হয়। আবু সাঈদের কাহিনী একথার সহায়ক।

আল্লামা শাওকানী বলেছেন, নামাযীর সামনে দিয়ে পার হওয়া জাহান্নাম ওয়াজিবকারী কবীরা গুনাহ। তাতে ফরজ নফল-সুন্নত সমান।

সৌদী আরবের প্রয়াত মুফতী জেনারেল শেখ আবদুল আযীয বিন বাজ (রঃ) বলেছেন: প্রকাশ্য হাদীসের দাবী হল, মুসল্লীর সামনে দিয়ে যাওয়া হারাম এবং মুসল্লীর তা প্রতিরোধ করার অধিকার আছে। তবে কেবলমাত্র একটি সময়ে মুসল্লীর সামনে দিয়ে যেতে পারবে যখন পার হতে বাধ্য হয় এবং এছাড়া আর কোন পথ না থাকে। তবে মুসল্লী থেকে দূর দিয়ে অতিক্রম করলে এবং তার সামনে সুতরাহ না থাকলেও গুনাহ হবে না। সেটা সুতরার সামনে দিয়ে অতিক্রম করারই সমান।

দূরত্বের পরিমাণ: এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল, মুসল্লী থেকে কতটুকু দূর দিয়ে গেলে গুনাহ হবে না? প্রশ্নের জবাব হল, বহু সংখ্যক ওলামায়ে কেরামের মতে, সুতরাহ ছাড়া মুসল্লী যে জায়গায় দাঁড়াবে সে জায়গা থেকে তিন হাত পরিমাণ দূর দিয়ে গেলে গুনাহ হবে না। গুনাহ কেবল সে ব্যক্তির হবে যে তিন হাতের ভেতর দিয়ে অতিক্রম করবে।

ইবনু হাজমের মতে, যে ব্যক্তি মুসল্লী থেকে তিন হাতের বেশি দূর দিয়ে অতিক্রম করবে, তার গুনাহ হবে না এবং মুসল্লীও অতিক্রমকারীকে বাধা দেবে না। কিন্তু যদি তিন হাত বা এর কম পরিমাণ দূর দিয়ে যায় তাহলে অতিক্রমকারী ব্যক্তি গুনাহগার হবে। সুতরাহ হলে, এর পেছন দিয়েই অতিক্রম করতে পারবে। তখন আর গুনাহ হবে না।

ইমামের সামনে সুতরাহ থাকলে মুসল্লীর সামনে দিয়ে অতিক্রম করলে কোন অসুবিধে নেই। ইমাম বোখারী 'ইমামের সুতরাহ পেছনের মোক্তাদীর সুতরাহ' শিরানামে আবদুল্লাহ বিন আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: 'আমি একটি গর্ধভীর উপর আরোহণ করা অবস্থায় মিনায় পৌঁছি। তখন আমি বালেগ ছিলাম। নবী করীম (সঃ) সেখানে সামনে দেয়ালবিহীন এক স্থানে লোকদেরকে নিয়ে নামায পড়ছিলেন। আমি একটি কাতারের সামনে দিয়ে অতিক্রম করি, তারপর সওয়ারী থেকে অবতরণ করি এবং গর্ধভীটিকে ঘাস খাওয়ার জন্য ছেড়ে দেই। তারপর জাম'আতে নামাযে শামিল হই। কেউ আমার প্রতি আপত্তি জানান নি।'

ইমাম ইবনে তাইমিয়া, ইবনে আব্বাসের হাদীসের ভিত্তিতে বলেছেন, ইমাম মোক্তাদী কারো সামনে হাতের মধ্য দিয়ে পার হওয়া ঠিক নয়।

সৌদী সুপ্রিম ওলামা কাউন্সিলের সদস্য শেখ আবদুল্লাহ জিবরীন বলেছেন, নামাযীর সামনে দিয়ে অতিক্রম না করার কারণ উভয়ক্ষেত্রেই বিদ্যমান। আর তা হল, নামায থেকে মুসল্লীর মন অন্য দিকে সরিয়ে নেয়া। পক্ষান্তরে, ইবনে আব্বাসের হাদীস দ্বারা একথা বুঝা জরুরী নয় যে, তিনি নামাযের কাতারের একেবারে সামনে দিয়ে অতিক্রম করেছেন। হাতে পারে, তিনি তিন হাত দূর দিয়ে অতিক্রম করে বলেছেন, আমি কাতারের সামনে দিয়েই অতিক্রম করেছি।

অনেকে দূর দিয়ে পর্যন্তও নামাযীর সামনে দিয়ে অতিক্রম করতে ইতস্ততঃ করে আসলে ইত্যস্ততার কোন দরকার নেই।

বাইরে সুতরাহ ছাড়া নামায পড়া

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ 
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

(৩৭) বাইরে সুতরাহ ছাড়া নামায পড়া : মসজিদে নামায পড়লে ইমামের স্থান মেহরাব সুনির্দিষ্ট থাকে বলে সেখানে সুতরার দরকার হয়না। কিন্তু অন্যত্র কিংবা মসজিদের পেছনের অংশে নামায পড়লে সুতরাহ দিতে হবে। আবদুল্লাহ বিন ওমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রসুলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন: 'তোমরা সুতরাহ ছাড়া নামায পড়বে না এবং তোমাদের নামাযের সামনে দিয়ে কাউকে অতিক্রম করতে দেবে না। যদি সে না মানে তাহলে, তার সাথে লড়াই কর। কেননা, তার (শয়তান) সঙ্গী তার সাথে আছে।' (ইবনু খোযাইমাহ, হাকেম, বায়হাকী) হাকেম বলেছেন, মুসলিমের শর্তানুযায়ী হাদীসটি বিশুদ্ধ এবং আল্লামা জাহাবী একে সমর্থন করেছেন।

আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন, নবী করীম (সঃ) বলেছেন: 'তোমাদের কেউ নামায পড়লে যেন সামনে সুতরাহ রাখে এবং এর নিকটবর্তী হয়। কেউ সামনে দিয়ে অতিক্রম করতে চাইলে তার সাথে লড়াই করবে; সে হচ্ছে শয়তান।' (আবু দাউদ, ইবনু মাজাহ, বায়হাকী, ইবনু খোযাইমা এবং ইবনে আবি শায়বা)

সুতরার দূরত্বের পরিমাণ: সুতরার মুসল্লীর মধ্যকার দূরত্বের পরিমাণ কতটুকু হওয়া দরকার? বিষয়ে আবদুল্লাহ বিন ওমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। 'তিনি নিজে কা'বার ভেতর প্রবেশ করে দরজাকে পেছনে রেখে সামনের দিকে অগ্রসর হতেন এবং কা'বার দেয়াল থেকে প্রায় তিন হাত দূরে অবস্থান করে নামায পড়তেন। হযরত বেলাল (রাঃ)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, নবী করীম (সঃ) সে জায়গাতেই নামায পড়েছিলেন। এর দ্বারা প্রমাণ মিলে যে, তাঁর সুতরার মাঝখানের দূরত্ব ছিল প্রায় তিন হাত।' (বোখারী)

সহল বিন সা' থেকে বর্ণিত। 'রসূলুল্লাহ (সঃ) মোসাল্লা কা'বার দেয়ালের মাঝে একটি ভেড়া অতিক্রমের জায়গা ছিল।' ইমাম নওয়ী (রঃ) তাঁর শরহে মুসলিম গ্রন্থে লিখেছেন, এখানে 'মোসাল্লা' বলতে, সাজদার জায়গা বুঝানো হয়েছে।

আউন বিন আবি জোহাইফা থেকে বর্ণিত। 'তিনি বলেন, আমি আমার বাপের কাছে শুনেছি, নবী করীম (সঃ) (মক্কার মাআবদায়) বাতহায় দু'রাকাত করে জোহর আসর আদায় করেছেন। তাঁর সামনে ছিল 'নজাহ। তাঁর সামনে দিয়ে নারী গাধা অতিক্রম করেছে।' (বোখারী, মুসলিম)

ইবনুল আসীর তাঁর 'আন-নেহায়া' গ্রন্থে লিখেছেন, 'নজাহ হচ্ছে, তীরের অর্ধেক বা আরো একটু বড় ঠিক পরিমাণ। 'নজায় তীরের মত দাঁত আছে।

আবদুল্লাহ বিন ওমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। 'নবী করীম (সঃ)-এর সামনে হারবাহ নামক যুদ্ধাস্ত্র দাঁড় করানো হত এবং তিনি এর দিকে ফিরে নামায পড়তেন।' (বোখারী, মুসলিম, নাসাঈ) 'হারবাহ' হচ্ছে সুঁচালো মাথা বিশিষ্ট লোহার তৈরি ছোট যুদ্ধাস্ত্র।

আবদুল্লাহ বিন ওমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। 'নবী করীম (সঃ) নিজ সওয়ারীকে সামনে রেখে নামায পড়তেন।' (বোখারী, মুসলিম, আবু দাউদ)

সুতরাহর পরিমাণ: সুতরাহ কত বড় হবে? মর্মে হযরত আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। 'তিনি বলেন, তাবুক যুদ্ধে নবী করীম (সঃ)-কে সুতরাহর পরিমাণ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি জবাবে বলেন: সওয়ারীর পিঠে রাখা আসনের কাঠের মত উঁচু হলেই চলবে।' (মুসলিম)

তালহা বিন ওবায়দুল্লাহ থেকে বর্ণিত। 'রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেন, নামাযের সময় সামনে সওয়ারীর আসনের কাঠের মত উঁচু জিনিস দাঁড় করালেই চলবে। এরপর সামনে দিয়ে কি যায় তা নিয়ে আর কোন পরোয়া নেই।' (মুসলিম)

ইমাম নওয়ী বলেছেন: সওয়ারীর আসনের শেষ মাথায় লাগানো কাঠের পরিমাণ হল হাতের হাড়ের পরিমাণ, অর্থাৎ হাতের দুই-তৃতীয়াংশ। পুরো হাত পরিমাণ নয়।

দাগ কি সুতরার বিকল্প হতে পারে? দাগ সুতরার বিকল্প হতে পারে না। তাই উঁচু সুতরাহ ব্যবহার করতে হবে। যে হাদীসে সুতরাহ না পেলে বিকল্প হিসেবে দাগ দেয়ার কথা এসেছে সে হাদীসের সনদ দুর্বল। তাই সে হাদীস গ্রহণযোগ্য নয়। ইমামের সুতরাহ মোক্তাদীর জন্য যথেষ্ট।

দুর্বল হাদীসগুলোর একটা হল: আবু মাহজুরা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আমি নবী করীম (সঃ)-কে মসজিদে হারামে বাবে বনি শায়বা দিয়ে প্রবেশ করতে দেখেছি। তিনি কা'বা শরীফের সামনে কেবলামুখী হয়ে দাঁড়ান, একটি দাগ বা রেখা টানেন, তারপর। তাকবীরে তাহরীমার মাধ্যমে নামায শুরু করেন। লোকেরা কা'বা দাগের মাঝে তওয়াফ করতে থাকে।' (আবু ইয়ালী) হাদীসের সনদে হাসান বিন ওবাদ অজ্ঞাত ব্যক্তি। ইমাম জাহাবী বলেন, তিনি কে আমরা জানিনা। এছাড়াও সনদে ইবরাহীম বিন আবদুল মালেকও দুর্বল ব্যক্তি। তাই হাদীসটি দুর্বল। বিষয়ে এরূপ আরো কয়েকটি দুর্বল হাদীস রয়েছে।

দুই হারাম শরীফে সুতরাহর প্রয়োজনীয়তা: দুই হারাম শরীফ অর্থাৎ মক্কার মসজিদে হারাম এবং মদীনার মসজিদে নবওয়ীতেও সুতরাহর প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। কেননা, সুতরার ব্যাপারে রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর আদেশ সকল মসজিদের জন্য প্রযোজ্য। তা থেকে কোন মসজিদকে বাদ দেয়া হয়নি। তাই দুই হারাম শরীফও আদেশের শামিল। যদি ইমাম মসজিদের দেয়াল কিংবা মেহরাবের কাছে না দাঁড়ান।

সুতরাহ সম্পর্কিত একাধিক হাদীস তিনি মদীনার মসজিদে নবওয়ীতে বসেই বলেছেন। অপরদিকে মক্কার মসজিদে হারামে সুতরাহ সম্পর্কে আবদুল্লাহ বিন আবি আওফা থেকে বর্ণিত। 'তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সঃ) ওমরাহ করেন, বাইতুল্লাহর তওয়াফ করেন এবং মাকামে ইবরাহীমের পেছনে দু'রাকাত নামায পড়েন। তাঁর সাথীরা মানুষ থেকে তাঁকে আড়াল করে রাখেন।' (বোখারী)

ইয়াহইয়া বিন আবি কাসীর থেকে সহীহ সনদ সহকারে বর্ণিত। 'তিনি বলেন, আমি মসজিদে হারামে আনাস বিন মালেককে সামনে লাঠি দাঁড় করিয়ে নামায পড়তে দেখেছি।' (ইবনে আবি শায়বা)

সালেহ বিন কাইসান থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'আমি ইবনে ওমারকে কা'বার দিকে মুখ করে নামায পড়তে দেখেছি। তিনি তাঁর সামনে দিয়ে কাউকে অতিক্রম করতে দেননি। বরং বাধা দিয়েছেন।' (বোখারী)