Monday, July 20, 2026

তাশাহহুদের শব্দাবলী

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ 
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

তাশাহহুদের শব্দাবলী:

রসূলুল্লাহ (সঃ) কয়েক প্রকারের তাশাহহুদ শিক্ষা দিয়েছেন।

১. ইবনে মাসউদের তাশাহহুদ:

ইবন মাসউদ (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ (সঃ) আমাকে তাশাহ্হুদ শিক্ষা দিয়েছেন যেমন করে তিনি আমাকে কোরআন শিক্ষা দিয়েছেন। সেটি হচ্ছে:

التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتِ وَالطَّيِّبَاتِ السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ -أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَاشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ.

অর্থ: 'আল্লাহর জন্য সালাম, শান্তি, স্থায়িত্ব, তিনি দোআয় ব্যবহৃত সকল সম্মানজনক সম্বোধনের উপযুক্ত এবং সকল পবিত্রতা তাঁরই জন্য। হে নবী! আপনার উপর শান্তি এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত নাযিল হোক। আমাদের উপর এবং সকল নেক লোকের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। (একথা বললে আসমান ও জমীনের সকল নেক'লোকের কাছে পৌঁছে।)

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই। এবং আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মোহাম্মদ (সঃ) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।"

(তিনি তখন আমাদের মধ্যে বিদ্যমান। তাঁর ইন্তেকালের পর আমরা

السَّلَامُ عَلَى النَّبِيِّ 2018

অর্থ: নবীর উপর শান্তি বর্ষিত হোক।

অর্থাৎ, রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর ইন্তেকালের পর সাহাবায়ে কেরাম।

ا to السَّلامُ عَلَى النَّبِي a face السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ

(হে নবী, আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক-এর পরিবর্তে বলতেন, নবীর উপর শান্তি বর্ষিত হোক) (আয়েশা (রাঃ)-ও এভাবে তাশাহ্হুদ শিক্ষা দিয়েছেন। মোসনাদে সেরাজ, আল-ফাওয়ায়েদ-মোখাল্লাস, উভয় সনদ সহীহ)

২. ইবনে আব্বাসের তাশাহহুদ:

ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ (সঃ) আমাদেরকে তাশাহ্হুদ শিক্ষা দিয়েছেন, যেমন করে তিনি আমাদেরকে কোরআন শিক্ষা দিয়েছেন তিনি শিখিয়েছেন:

التَّحِيَّاتُ الْمُبَارَكَاتُ الصَّلَوَاتُ الطَّيِّبَاتُ لِلَّهِ السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ -

অন্য বর্ণনায় রসূলুল্লাহর স্থলে এসেছে (মুসলিম, আবু আওয়ানা, শাফেঈ, নাসাঈ)

. عبده ورسوله

৩. ইবনে উমরের তাশাহহুদ :

ইবনে উমর (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ (সঃ) তাশাহুদে বলতেন:

التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتِ السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ وَاشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ (আবু দাউদ, দারু কুতনী)


৪. আবু মূসা আশআরীর তাশাহহুদ :

আবূ মূসা আশআরী (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, তোমাদের কেউ বৈঠকে বসলে সে যেন প্রথমে বলে:

التَّحِيَّاتُ الطَّيِّبَاتِ الصَّلَوَاتُ لِلَّهِ السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ لَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ أَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلَهَ إِلَّا ورسوله - (মুসলিম, আবু আওয়ানাহ, আবু দাউদ, ইবনু মাজাহ)

৭টি শব্দ নামাযের তাহিয়্যাহ

৫. উমার বিন খাত্তাবের তাশাহহুদ:

উমার (রাঃ) মিম্বার থেকে লোকদেরকে তাশাহ্হুদ শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তোমরা বলঃ

التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ الزَّاكِيَاتُ لِلَّهِ الطَّيِّبَاتُ لِلَّهِ السَّلَامُ عَلَيْكَ

অবশিষ্টাংশ আবদুল্লাহ বিন মাসউদের তাশাহহুদের অনুরূপ। (মালেক, বায়হাকী, সনদ সহীহ। এটি সাহাবী থেকে বর্ণিত হলেও রসূলুল্লাহ (সঃ) থেকে বর্ণিত হাদীসের মর্যাদা সম্পন্ন। কেননা, তিনি নিজের থেকে একথা বলেননি)

প্রথম তাশাহহুদ ওয়াজিব ও তাতে দোআ পড়া

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ 
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

প্রথম তাশাহহুদ ওয়াজিব ও তাতে দোআ পড়া

রসূলুল্লাহ (সঃ) প্রতি দুই রাকআত শেষে আত্তাহিয়্যাহ্ পড়তেন। (মুসলিম, আবু আওয়ানাহ) তিনি বসে প্রথম যা পড়তেন তা হচ্ছে, আত্তাহিয়্যাতু। (বায়হাকী আয়েশা (রাঃ) থেকে উত্তম সনদ সহকারে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন)

তিনি প্রথম দুই রাকআতের পর তা পড়তে ভুলে গেলে সহু সাজদাহ (ভুলের সাজদাহ) করতেন। (বোখারী, মুসলিম)

তিনি আত্তাহিয়্যাতু পড়ার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, তোমরা যখন প্রতি দ্বিতীয় রাকআতে বসবে, তখন আত্তাহিয়‍্যাতু... বলবে এবং আকর্ষণীয় দোআ নির্ধারণ করে আল্লাহর কাছে 'সেই দোআ করবে। (নাসাঈ, আহমদ, আল কাবীর- তাবারানী- সনদ সহীহ) অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, 'প্রত্যেক বৈঠকে আত্তাহিয়্যাতু পড়বে।'(নাসাঈ- সনদ সহীহ) তিনি ভুল নামায আদায়কারীকে অনুরূপ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

রসূলুল্লাহ (সঃ) সাহাবায়ে কেরামকে কোরআনের সূরার মত তাশাহহুদ শিক্ষা দিয়েছেন। (বোখারী, মুসলিম) তবে তা চুপে চুপে পড়া সুন্নত।(আবু দাউদ, হাকেম এটাকে সহীহ বলেছেন এবং আল্লামা যাহাবী তা সমর্থন করেছেন)

তাশহহুদের মধ্যে আঙ্গুল নাড়ানো

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ 
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

তাশহহুদের মধ্যে আঙ্গুল নাড়ানো

রসূলুল্লাহ (সঃ) বাম হাতের তালু বাম হাঁটুর উপর বিছিয়ে দিতেন, ডান হাতের সকল আঙ্গুল মুষ্টিবদ্ধ করে রেখে কেবল তর্জনী বা শাহাদত অঙ্গুলির দ্বারা কেবলার দিকে ইঙ্গিত দিতেন এবং এর দিকে চোখ দিয়ে তাকিয়ে থাকতেন। (মুসলিম, আবু আওয়ানাহ, ইবনু খোযায়মাহ্) তিনি যখন আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করতেন, তখন বৃদ্ধাঙ্গুলিকে মধ্যমার উপর রাখতেন (মুসলিম, আওয়ানাহ) এবং কখনও তাকে গোলাকার কুন্ডলীর মত করতেন। (আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনু খোযায়মাহ, ইবনু হিব্বান)

তিনি যখন আঙ্গুল (তর্জনী) উঠাতেন, তখন তা নাড়তে থাকতেন ও দোআ করতেন। (ইমাম তাহাবী বলেন, 'দোআ করেন' এ কথা দ্বারা বুঝা যায় যে, এটা তিনি নামাযের শেষে করতেন। কিন্তু আমি বলবো, আঙ্গুল নাড়া ও ইশারা অব্যাহত রাখা সুন্নত। কেননা, দোআ হচ্ছে, এর আগে। এটা ইমাম মালেকসহ অন্যদের মত। ইমাম আহমদকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, নামাযী কি আঙ্গুল দ্বারা ইঙ্গিত করবে? তিনি বলেন, অবশ্যই। (মাসায়েল আনিল ইমাম আহমদ- ইবনু হানী)

আমি বলি, এর দ্বারা পরিষ্কার হয়ে যায় যে, তাশাহহুদে আঙ্গুল নাড়ানো, রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর কাছ থেকে প্রমাণিত সুন্নত। ইমাম আহমদসহ হাদীসের অন্যান্য ইমামরা তা আমল করেছেন। যারা এটাকে বেহুদা কাজ মনে করে, তারা যেন আল্লাহকে ভয় করে। তারা বেহুদা মনে করে আঙ্গুল নাড়ে না। অথচ তারা জানে না যে, এটা প্রমাণিত এবং তারা এর বিভিন্ন রকম ব্যাখ্যা দেয়, যা আরবী ভাষার নিয়ম বিরোধী এবং ইমামদের বুঝ-জ্ঞানের পরিপন্থী। যারা এই জিনিসকে ঠাট্টা করে, তারা মূলত সুন্নতকেই ঠাট্টা করে এবং যা শেষ পর্যায়ে রসূলুল্লাহকে ঠাট্টা করার নামান্তর। কেননা, তিনিই তো এই সুন্নতটি চালু করেছেন। তিনি আঙ্গুল নাড়াতেন না মর্মে বর্ণিত, হাদীসের সনদ ভিত্তিহীন।)


তিনি আরও বলেন, এই আঙ্গুল অর্থাৎ তর্জনী শয়তানের জন্য লোহার চেয়েও কঠিন। (আহমদ, বাযযার, বায়হাকী)

রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সাহাবীগণ দোআয় ইশারা করার সময় এক আঙ্গুল

দিয়ে অন্য আঙ্গুল ধরতেন। (ইবনু আবী শায়বা সনদ উত্তম)

রসূলুল্লাহ (সঃ) দুই তাশাহহুদেই অনুরূপ করতেন। (নাসাঈ, বায়হাকী সনদ সহীহ)

রসূলুল্লাহ (সঃ) এক ব্যক্তিকে দুই আঙ্গুল দিয়ে দোআ করতে দেখে নিজ তর্জনী দিয়ে ইশারা করে বলেন, এভাবে এক প্রকাশ কর, এক প্রকাশ কর। (ইবনু আবী শায়বা, নাসাঈ, হাকেম)

সালাতে তাশাহুদ পড়া

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ 
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

প্রথম তাশাহহুদ

দ্বিতীয় রাকআত শেষে নবী (সঃ) তাশাহহুদ পড়ার জন্য বসতেন। তিনি ফজরের মত দুই রাকআত বিশিষ্ট নামাযের শেষ বৈঠক(নাসাঈ সনদ সহীহ) কিংবা তিন ও চার রাকআত বিশিষ্ট নামাযের প্রথম বৈঠকে পা বিছিয়ে বসতেন (বোখারী, আবু দাউদ) যেমন করে দুই সাজদার মাঝে বসতেন। তিনি ভুল নামায আদায়কারীকে অনুরূপ আদেশ দিয়ে বলছিলেন, তুমি যখন নামাযের মাঝামাঝি বসবে, তখন প্রশান্তি সহকারে বসবে এবং বাম উরু বিছিয়ে দেবে ও পরে তাশাহ্হুদ পড়বে। (আবু দাউদ, বায়হাকী সনদ ভাল)

আবু হোরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আমার বন্ধু রসূলুল্লাহ (সঃ) আমাকে কুকুরের মত বসতে নিষেধ করেছেন। (আহমদ, ইবনু আবী শায়বাহ, আত-তায়ালিসী। আবু ওবায়দাহসহ অন্যরা বলেছেন, কুকুরের মত বসার অর্থ হল, মাটিতে দুই পাছা বিছিয়ে হাঁটু দাঁড় করিয়ে দুই হাত মাটিতে রাখা। দুই সাজদার মাঝে উল্লিখিত বসা বর্তমান বসা থেকে ভিন্ন)

অন্য এক হাদীসে এসেছে, তিনি শয়তানের মত পায়ের গোড়ালির উপর বসতে নিষেধ করেছেন। (মুসলিম, আবু আওয়ানা, ইত্যাদি)

তিনি তাশাহহুদের জন্য বসলে উরুর উপর ডান হাতের তালু রাখতেন।

অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, ডান হাঁটুর উপর রাখতেন এবং বাম হাতের তালু নিজ উরুর উপর রাখতেন। অন্য আরেক বর্ণনায় এসেছে, বাম হাঁটুর উপর রাখতেন। (মুসলিম, আবু আওয়ানা, ইত্যাদি)

নবী (সঃ) ডান কনুইর নীচ অংশ ডান উরুর উপর রাখতেন। (আবু দাউদ, নাসাঈ সনদ সহীহ। এ কথার অর্থ হল, তিনি নিজ কনুই দুই পাঁজর থেকে দূরে রাখতেন না)

এক ব্যক্তি বাম হাতের উপর ভর করে নামাযে বসা ছিল। রসূলুল্লাহ (সঃ) তাকে অনুরূপ করতে নিষেধ করে বলেছেন, এটা ইহুদীদের নামায (পদ্ধতি)। (বায়হাকী, হাকেম একে সহীহ বলেছেন এবং আল্লামা যাহাবী একে সমর্থন করেছেন) অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, 'এরকম বস না, এটা হচ্ছে শাস্তিযোগ্য লোকদের নামায। (আহমদ, আবু দাউদ- সনদ ভাল) অন্য আরেক হাদীসে এসেছে, এটা অভিশপ্তদের নামায। (আবদুর রাযযাক। আবদুল হক একে সহীহ বলেছেন)

সালাতে প্রত্যেক রাকআতে সূরা ফাতেহা পড়া ওয়াজিব

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ 
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

প্রত্যেক রাকআতে সূরা ফাতেহা পড়া ওয়াজিব

তিনি ভুল নামায আদায়কারীকে প্রত্যেক রাকআতে সূরা ফাতেহা পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রথম রাকআত শেষ হলে তিনি ভুল নামায আদায়কারীকে বলেছেন, 'তুমি তোমার প্রত্যেক নামাযে এভাবে করবে। '(বোখারী, মুসলিম)অন্য এক রেওয়ায়াতে এসেছে, 'প্রত্যেক রাকআতে'। (আহমদ- সনদ ভাল)

তিনি বলেছেন, 'প্রত্যেক রাকআতে কেরাআত পড়তে হবে। '(ইবনু মাজাহ, ইবনু হিব্বান, আহমদ। জাবের বলেছেন, যে ব্যক্তি নামাযের প্রত্যেক রাকআতে সূরা ফাতেহা না পড়ে তার নামায হয়নি, তবে ইমামের পেছনে নামায পড়া এর ব্যতিক্রম (মোআত্তা মালেক)।

সালাতে বৈঠক ও পরবর্তী রাকআতের উদ্দেশ্যে উঠার জন্য দুই হাতের উপর ভর দেয়া

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ 
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

বিশ্রামের বৈঠক

তিনি দ্বিতীয় সাজদাহ থেকে সোজা হয়ে বাম পায়ের উপর বসতেন এবং প্রত্যেক হাড় তার স্ব স্ব স্থানে বহাল হওয়া পর্যন্ত বিশ্রাম নিতেন। (বোখারী, আবু দাউদ। ইমাম শাফেঈ ও আহমদ এই সুন্নতের উপর আমল করেছেন। এটাই সঠিক, সুন্নত পালনের আগ্রহ থাকা দরকার। নবী (সঃ) বৃদ্ধ ও যৌবনকালে হাতের উপর ভর দিয়ে দাঁড়াতেন)

পরবর্তী রাকআতের উদ্দেশ্যে উঠার জন্য দুই হাতের উপর ভর দেয়া

রসূলুল্লাহ (সঃ) দ্বিতীয় রাকআতের উদ্দেশ্যে উঠার সময় মাটিতে ভর দিয়ে উঠতেন।(বোখারী, শাফেঈ)

তিনি উপরে উঠার সময় দুই হাতের উপর ভর দিয়ে উঠতেন। (আবু ইসহাক আল হারবী, সনদ সহীহ। এক হাদীসে এসেছে যে, তিনি তীরের মত সোজা হয়ে দাঁড়াতেন, দু'হাতের উপর ভর দিয়ে দাঁড়াতেন না। এটি জাল হাদীস) রসূলুল্লাহ (সঃ) দ্বিতীয় রাকআতের জন্য উঠে প্রথমে সূরা ফাতেহা পড়তেন এবং চুপ থাকতেন না। (মুসলিম, আবু আওয়ানাহ। অর্থাৎ প্রথম রাকআতের মতো সোবহানাকা পড়ার জন্য চুপ থাকতেন না। বরং সূরা ফাতেহা পড়া শুরু করতেন। তবে আউযুবিল্লাহ পড়তেন না। প্রথম রাকআত ব্যতীত অন্যান্য রাকআতে আউযুবিল্লাহ পড়ার বিষয়ে ওলামাদের ২টি মত আছে। আমার মতে, তা প্রত্যেক রাকআতে পড়া বৈধ)

তিনি দ্বিতীয় রাকআতে তাই করতেন যা প্রথম রাকআতে করেছেন। তবে তিনি প্রথম রাকআতের চাইতে দ্বিতীয় রাকআতকে অপেক্ষাকৃত সংক্ষিপ্ত করতেন।

Sunday, July 19, 2026

দুই সাজদার মধ্যবর্তী বৈঠকের দোআ ও যিকর

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ 
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

দুই সাজদার মধ্যবর্তী বৈঠকের দোআ ও যিকর

তিনি এই বৈঠকে বলতেন:

اللهُمَّ a fat رَبِّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَاجْبَرْنِي وَارْفَعْنِي وَاهْدِنِي وَعَافِنِي وَارْزُقْنِي - 2 (আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, হাকেম)

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমাকে মাফ কর, দয়া কর, আমার অবস্থা পরিশুদ্ধ করে দাও, আমার মর্যাদা বাড়িয়ে দাও, আমাকে হেদায়াত দাও, সুস্থতা দাও, রিযক দাও।

তিনি কখনও বলতেন:

رَبِّ اغْفِرْ لِي اغْفِرْ لِي (ইবনু মাজাহ- সনদ সহীহ। ইমাম আহমদ এই দোআটি মনোনীত করেছেন) ইসহাক বিন রাহওয়ায়হ বলেছেন, এটা তিনবার বলা যায় কিংবা 'আল্লাহুম্মাগফিরলি'ও বলা যায়। রসূলুল্লাহ (সঃ) উভয়টাই দুই সাজদার মাঝে পড়েছেন।

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমাকে মাফ কর, আমাকে মাফ কর।

তিনি রাতের নামাযেও এই দুই দোআ পড়েছেন।  (নফল নামাযের দোআ ফরয নামাযে পড়া যায়। ইমাম শাফেঈ, আহমদ ও ইসহাকের মত এটাই। তিরমিযীও তাই বর্ণনা করেছেন। ইমাম তাহাবীও তাই বলেছেন)

তারপর তিনি তাকবীর বলে দ্বিতীয় সাজদায় যেতেন।(বোখারী, মুসলিম) তিনি ভুল নামায আদায়কারীকে অনুরূপ করার আদেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তুমি আল্লাহু আকবার বলবে এবং সাজদায় যাবে যেন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের জোড়াগুলো প্রশান্ত হয়। সকল নামাযে এভাবেই করবে। (আবু দাউদ। হাকেম এটিকে সহীহ বলেছেন এবং আল্লামা যাহাবী তা সমর্থন করেছেন) তিনি কখনও কখনও তাকবীরের সাথে হাত তুলতেন। (আবু আওয়ানহ, আবু দাউদ, সনদ সহীহ। ইমাম আহমদ, মালেক এবং শাফেঈ (রঃ)-ও একই মত পোষণ করেন)

তিনি প্রথম সাজদায় যা করতেন দ্বিতীয় সাজদায়ও অনুরূপ করতেন।

তারপর তাকবীর বলে মাথা তুলতেন।(মুসলিম, বোখারী) তিনি ভুল নামায আদায়কারীকে আদেশ দিয়ে বলেছেন, তারপর মাথা তুলবে ও তাকবীর বলবে (আবু দাউদ, হাকেম) এবং প্রত্যেক রাকআত ও সাজদায় এরূপ করবে। এভাবে করলে তোমার নামায পরিপূর্ণ হবে। যদি তা থেকে কিছু কম হয়, তাহলে তোমার নামায অপূর্ণ হবে। (আহমদ, তিরমিযী- সনদ সহীহ)

তিনি কখনও সাজদাহ থেকে উঠার সময় দু'হাত তুলতেন। (আবু আওয়ানা, আবু দাউদ, সনদ সহীহ। ইমাম আহমদ, শাফেঈ ও মালেক এই মতের সমর্থক)

দুই সাজদার মধ্যবর্তী সময় প্রশান্তি ওয়াজিব

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ 
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

দুই সাজদার মধ্যবর্তী সময় প্রশান্তি ওয়াজিব

রসূলুল্লাহ (সঃ) দু' সাজদার মধ্যবর্তী সময় এমনভাবে সোজা হয়ে প্রশান্তভাবে বসতেন যে, সকল হাড় নিজ নিজ স্থানে বহাল হত। (আবু দাউদ, বায়হাকী সনদ সহীহ) তিনি ভুল নামায আদায়কারীকে অনুরূপ করার আদেশ দিয়ে বলেছেন, তোমাদের কেউ অনুরূপ না করলে তার নামায পরিপূর্ণ হবে না। (আবু দাউদ, হাকেম)

তিনি দুই সাজদার মাঝখানে প্রায় সাজদার সমপরিমাণ সময় বসতেন। (বোখারী, মুসলিম) কখনও কখনও তিনি এত দীর্ঘ সময় বসে থাকতেন যে, কেউ কেউ বলত, তিনি ভুলে গেছেন। (বোখারী, মুসলিম)

সালাতে দুই সাজদার মাঝে দুই পায়ের গোড়ালি দাঁড় করানো

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ 
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

দুই সাজদার মাঝে দুই পায়ের গোড়ালি দাঁড় করানো

রসূলুল্লাহ (সঃ) কখনও দু' সাজদার মাঝে দু' পায়ের গোড়ালি ও দু' পায়ের আঙ্গুল দাঁড় করিয়ে বসতেন। (মুসলিম, আবু আওয়ানা, আবুশ শেখ, বায়হাকী। ইবনুল কাইয়েম দুই সাজদার মাঝে রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর পা বিছানোর বর্ণনা উল্লেখ করে বলেন, তিনি এই একটি মাত্র বৈঠক ছাড়া আর কোথাও পায়ের গোড়ালি দাঁড় করিয়ে বসার বর্ণনা দেখতে পাননি। এটা ইবনুল কাইয়েমের ভুল। কেননা, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী সহ অন্যারা ইবনে আব্বাস থেকে পায়ের গোড়ালির উপর বসার বর্ণনা দিয়েছেন। বায়হাকী ইবনে উমার থেকেও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে হাজার তাকে সমর্থন করেছেন। তাউস বলেছেন, তিনি ইবনে আব্বাস ও ইবনে উমারকে অনুরূপ বসতে দেখেছেন। একদল সাহাবী ও তাবেঈ পায়ের গোড়ালির উপর বসেছেন)

সাজদাহ থেকে উঠা

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ 
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

সাজদাহ থেকে উঠা

তিনি তাকবীর বলে সাজদাহ থেকে মাথা তুলতেন(বোখারী, মুসলিম) এবং এভাবে করার জন্য ভুল নামায আদায়কারীকে আদেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেনঃ কোন মানুষের নামায পরিপূর্ণ হয় না যে পর্যন্ত না সে সাজদাহ করে এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের জোড়াগুলো প্রশান্ত হয়, তারপর আল্লাহু আকবার বলে মাথা তোলে এবং সোজা হয়ে বসে। (আবু দাউদ। হাকেম এটিকে সহীহ বলেছেন এবং আল্লামা যাহাবী তা সমর্থন করেছেন) তিনি কোন কোন সময় এই তাকবীরের সাথে দু'হাত উপরে তুলতেন। (আহমদ, আবু দাউদ- সনদ সহীহ) ইমাম আহমদ এ তাকবীরসহ সকল তাকবীরে হাত তোলার পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন। ইবনুল কাইয়েম আল বাদায়ে গ্রন্থের ৪র্থ খণ্ডের ৮৯ পৃষ্ঠায় লিখেছেন, ইবনু আসরাম বর্ণনা করেছেন, একবার তাকে দু'হাত তোলার ব্যাপারে প্রশ্ন করা হয়। তিনি উত্তরে বলেন, প্রত্যেক বার উঠা-নামার সময় দু'হাত তুলতে হবে। ইবনু আসরাম বলেন, আমি নামাযে আবু আবদুল্লাহকে প্রত্যেক উঠা-নামায় দু' হাত তুলতে দেখেছি। ইবনুল মোনযের এবং শাফেঈ' মাযহাবের আবু আলীসহ ইমাম মালেক ও শাফেঈর (রঃ)-ও একই মত। (তারহুত্ তাসরীব)। আনাস, ইবনে উমার, নাফে, তাউস, হাসান বসরী, ইবনে সিরীন এবং আইউব সাখতিয়ানীও হাত তোলার পক্ষে ছিলেন। সহীহ সনদ সহকারে মোসান্নাফে ইবনে আবী শায়বায় তা বর্ণিত আছে।

তারপর তিনি বাম পা বিছিয়ে দিয়ে তার উপর প্রশান্তির সাথে বসতেন।(বোখারী, রাফউল ইয়াদাইন অধ্যায়, আবু দাউদ- সনদ সহীহ, মুসলিম, আওয়ানাহ) তিনি ভুল নামায আদায়কারীকে অনুরূপ আদেশ দিয়ে বলেছেন, তুমি যখন সাজদায় যাবে, মযবুতভাবে সাজদাহ করবে এবং যখন সাজদাহ থেকে উঠবে, তখন বাম রানের উপর বসবে। (আহমদ, আবু দাউদ- সনদ ভাল) তিনি ডান পা দাঁড় করিয়ে(বোখারী, বায়হাকী) আঙ্গুলকে কেবলামুখী রাখতেন। (নাসাঈ সনদ সহীহ)

মাটি ও চাটাইতে সাজদাহ করা

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ 
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

মাটি ও চাটাইতে সাজদাহ করা

রসূলুল্লাহ (সঃ) মাটিতেই অধিংকাশ সময় সাজদাহ করেছেন। (কেননা, তাঁর মসজিদে তখন চাটাই বা অন্য কিছু ছিল না। এ প্রসঙ্গে অনেক হাদীস আছে)

সাহাবায়ে কেরাম কঠোর ও প্রখর রোদে তাঁর সাথে নামায আদায় করতেন। যারা তাপের কারণে কপাল মাটিতে রাখতে পারতেন না, তারা কাপড় বিছিয়ে সাজদাহ করতেন।(মুসলিম, আবু আ'ওয়ানাহ)

তিনি আরও বলতেন; গোটা যমীন আমার উম্মতের জন্য মসজিদ ও পবিত্র করা হয়েছে। যখন এবং যেখানে নামাযের সময় হবে, সেখানেই তার মসজিদ ও সেখানেই পবিত্রতা। আমার পূর্বের লোকদের জন্য এ বিষয়ে কঠিন নিয়ম ছিল। তারা কেবল গীর্জায় নামায পড়ত। (আহমদ, আস-সেরাজ, বায়হাকী সনদ সহীহ)

কদাচিত তিনি কাদা মাটি ও পানিতে সাজদাহ করেছেন। একবার একুশে রমযানের ফজরের নামাযে তা ঘটেছিল। আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণের ফলে মসজিদের খেজুর পাতার চাল বেয়ে মসজিদে পানি পড়ে কাদা হয়ে যায়। তিনি সেই কাদাতে নামায পড়েন। আবু সাঈদ খুদ্রী (রাঃ) বলেন, আমি নিজ চোখে রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর কপাল ও নাকে কাদা দেখেছি।  (বোখারী, মুসলিম)

তিনি কখনও খোমরা এবং কখনও চাটাইর উপর নামায পড়তেন। (বোখারী, মুসলিম। খোমরা হচ্ছে সাজদার জন্য নাক ও কপাল রাখার ছোট মতো জায়নামায)

পরিধানের কাপড়ের এক অংশ বিছিয়ে দীর্ঘ সময় নামায পড়ায় তা কালো হয়ে গেছে। এ হাদীস প্রমাণ করে যে পরিধানের কাপড়ের অংশ বিশেষ বিছিয়ে নামায পড়া জায়েয। তবে সিলেকর কোন জিনিসের উপর বসা জায়েয নেই। এ বিষয়ে পরিষ্কার নিষেধাজ্ঞা আছে। (বোখারী, মুসলিম)

সালাতে সাজদার ফযীলত

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ 
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

সাজদার ফযীলত

রসূলুল্লাহ (সঃ) বলতেন, আমার উম্মাহর মধ্যে এমন কোন ব্যক্তি নেই, যাকে আমি কেয়ামতের দিন চিনতে পারবো না। সাহাবীরা জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রসূল! এত সৃষ্টির মধ্যে আপনি কি করে তাদেরকে চিনবেন? তিনি প্রশ্ন করেন, ঐ বিষয়ে তোমার রায় কি, তুমি যদি কোনো আস্তাবলে প্রবেশ করো আর সেখানে যদি কালো ঘোড়ার মধ্যে এমন একটি ঘোড়া থাকে যার পায়ের নীচের অংশ, হাত ও মুখ সাদা, তুমি কি তাকে পৃথক করে চিনতে পারবে না? সাহাবী জওয়াবে বললেন, 'জী হাঁ।' তখন রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেন, ঐ দিন আমার উম্মতের সাজদার কারণে সাদা ধবধবে চেহারা এবং উযুর কারণে হাত-পা উজ্জ্বল সাদা হবে। (আহমদ সনদ সহীহ, তিরমিযী- এ হাদীসে, হাত, পা ও মুখে উযুর চিহ্নকে ঘোড়ার হাত, পা ও মুখের শুভ্রতার সাথে তুলনা করা হয়েছে যে, এগুলোও অনুরূপ শুভ্র হবে)

রসূলুল্লাহ (সঃ) আরও বলেছেন, আল্লাহ যদি কোন দোযখবাসীকে দয়া করার ইচ্ছে করেন, তখন তিনি ফেরেশতাদেরকে আদেশ দেবেন এবং বলবেন, আল্লাহর ইবাদতকারীকে বের করে নিয়ে আষ। ফেরেশতারা তাকে দোযখ থেকে বের করে নিয়ে আসবে। তারা তাকে তার সাজদার চিহ্নের কারণে চিনতে পারবে। আল্লাহ দোযখের উপর সাজদার চিহ্নকে জ্বালানো হারাম করে দিয়েছেন। তাকে দোযখ থেকে বের করে নিয়ে আসা হবে। আগুন আদম সন্তানের শরীরের সকল অংশ খেলেও সাজদার অংশ খেতে পারবে না। (বোখারী, মুসলিম)

সালাতে সাজদাহ দীর্ঘায়িত করা

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ 
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

সাজদাহ দীর্ঘায়িত করা

রসূলুল্লাহ (সঃ) রুকুর মত দীর্ঘ সাজদাও করতেন। কখনো কখনো আকস্মিক কারণে সাজদাহ তিনি অতিমাত্রায় দীর্ঘায়িত করতেন।

এক সাহাবী বর্ণনা করেন, একবার রসূলুল্লাহ (সঃ) বিকেলের (আসর কিংবা মাগরিব) নামাযের জন্য সাথে হাসান কিংবা হোসাইনকে নিয়ে বেরিয়ে আসেন। নবী (সঃ) ইমামতির জন্য অগ্রসর হন এবং তাকে ডান পায়ের কাছে রাখেন। তারপর তাকবীর বলে নামায শুরু করেন। তিনি সাজদাহ করেন এবং তা খুব দীর্ঘায়িত করেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি মুসল্লীদের মাঝে মাথা তুলে দেখি, শিশুটি রসূলুল্লাহর পিঠের উপর এবং তিনি সাজদারত। আমি পুনরায় সাজদায় ফিরে যাই। রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নামায শেষে লোকেরা জিজ্ঞেস করে, হে আল্লাহর রসূল! আপনি আপনার এই নামাযের মধ্যে একটি দীর্ঘ সাজদাহ দিয়েছেন যার ফলে আমাদের মনে দুর্ঘটনার আশংকা জেগেছে, কিংবা ধারণা করেছিলাম যে, আপনার উপর ওহী নাযিল হচ্ছিল। তিনি উত্তরে বলেন, এগুলো কিছুই ঘটেনি। আমার সন্তানটি আমার উপর আরোহণ করায় আমি তাকে তার সখ পূরণের আগে দ্রুত নামিয়ে দিতে পছন্দ করিনি। (নাসাঈ, ইবনু আসাকির। হাকেম এটিকে সহীহ বলেছেন এবং আল্লামা যাহাবী একে সমর্থন করেছেন)

অন্য এক হাদীসে বর্ণিত আছে, রসূলুল্লাহ (সঃ) যখন নামায পড়েন, তখন হাসান ও হোসাইন তাঁর পিঠে আরোহন করে। লোকেরা যখন শিশু দু'টিকে আরোহণ করতে নিষেধ করেন, তখন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ইশারা দেন যে, তাদের বিষয়টা ছেড়ে দাও। নামায শেষে তিনি দুজনকে নিজের কোলে বসান এবং বলেন, যে আমাকে ভালবাসে, সে যেন এই দুজনকেও ভালবাসে। (ইবনু খোযায়মাহ, বায়হাকী। বোখারী ও মুসলিম শরীফে এ বিষয়ে আরও হাদীস আছে)

সালাতে সাজদায় কোরআন পড়া নিষিদ্ধ

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ 
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

সাজদায় কোরআন পড়া নিষিদ্ধ

রসূলুল্লাহ (সঃ) রুকু ও সাজদায় কোরআন পড়তে নিষেধ করেছেন। বরং তিনি সাজদায় অধিকতর দোআ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এমর্মে একটি হাদীস রুকু অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে।

তিনি বলেছেন, বান্দাহ সাজদাহ অবস্থায় আল্লাহর বেশী নিকটবর্তী হয়। তোমরা সাজদায় বেশী বেশী করে দোআ কর। (মুসলিম, আবু আ'ওয়ানা, বায়হাকী)

সালাতে সাজদার যিকর

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ 
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

সাজদার যিকর

রসূলুল্লাহ (সঃ) নামাযের এই গুরুত্বপূর্ণ রোকনটিতে বিভিন্ন প্রকার দোআ ও যিকর করেছেন। অর্থাৎ একেক সময় একেকটা পাঠ করেছেন। তিনি সাজদায় যা পড়েছেন, তা হচ্ছে নিম্নরূপ:

3. سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلَى - তিনবার পড়তেন।(আহমদ, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, দারু কুতনী, তাহাবী, বাযযার। তাবারানী ৭জন সাহবী থেকে তা বর্ণনা করেছেন)

আবার কখনও আরও বেশী পড়তেন। (আহমদ, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, দারু কুতনী, তাহাবী, বাযযার। তাবারানী ৭জন সাহবী থেকে তা বর্ণনা করেছেন) তিনি একবার রাতের নামাযে তা এত বেশী সময় পড়েছেন যা কেয়ামের সময়ের সমান ছিল। তিনি ঐ নামাযের কেয়ামে তিনটি লম্বা সূরা পড়েছেন এবং সেগুলোর মাঝে মাঝে দোআ এবং এস্তেগফার করেছেন। সূরাগুলো হল, সূরা বাকারা, সূরা নিসা এবং সূরা আলে-ইমরান। 'রাতের নামায' অধ্যায়ে তা আলোচনা করা হয়েছে।

2. سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلَى وَبِحَمْدِمٍ তিনবার পড়তেন।(আবু দাউদ, দারু কুতনী, আহমদ, তাবারানী, বায়হাকী। হাদিসটি সহীহ)

৩. سوء قدوس - কখনও এরূপ পড়তেন। (মুসলিম, আর আ'ওয়ানাহ)

سبوحٌ قُدُّوسٌ رَبُّ الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوحِ

অর্থ: আল্লাহ পবিত্র মোবারক, সকল ফেরেশতা এবং জিবরীলের প্রতিপালক।

سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ..

অর্থঃ হে আল্লাহ, হে আমাদের রব! তোমার পবিত্রতা ও প্রশংসা। হে আল্লাহ্! আমাকে মাফ কর।

তিনি এটি রুকু ও সাজদায় অনেক বেশী পড়তেন। (বোখারী, মুসলিম) আগেও এ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে

اللَّهُمَّ لَكَ سَجَدَتٌ وَبِكَ آمَنْتُ وَلَكَ أَسْلَمْتُ وَأَنْتَ رَبِّي سَجَدَ .. وَجْهِيَ لِلَّذِي خَلَقَهُ وَصَوَّرَهُ فَأَحْسَنَ صُوَرَهُ وَشَقَ سَمْعَهُ وَبَصَرَهُ فَتَبَارَكَ اللَّهُ أَحْسَنُ الْخَالِقِينَ

অর্থঃ হে আল্লাহ্! আমি তোমার জন্যই সাজদাহ করছি, তোমার প্রতিই ঈমান এনেছি, তোমার কাছেই আত্মসমর্পণ করেছি। তুমি আমার রব। যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, সুন্দর আকৃতি দান করেছেন এবং চোখ ও কান দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, আমার মুখমণ্ডল তাঁর কাছে সাদা অবনত। আল্লাহ বরকতময় এবং সর্বোত্তম স্রষ্টা। (মুসলিম, আবু আওয়ানাহ, তাহাবী, দারু কুতনী)

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي كُلَّهُ وَدِقَهُ وَجِلَّهُ وَأَوَّلَهُ وَآخِرَهُ وَعَلَانِيَتَهُ .

অর্থ: হে আল্লাহ! আমার সকল সূক্ষ্ম ও বাহ্যিক, প্রথম ও শেষ এবং প্রকাশ্য ও গোপন গুনাহ মাফ কর।  (মুসলিম, আবু আওয়ানাহ)

سَجَدَ لَكَ سَوَادِي وَخِيَالِي وَأَمَنَ بِكَ فَؤَادِي أَبُوءُ بِنِعْمَتِكَ .. عَلَى هُذِهِ يَدِي وَمَا جَنَبْتٌ عَلَى نَفْسِي

অর্থ: আমার মন-মগয তোমার উদ্দেশ্যে সাজদাহ করছে, আমার অন্তর তোমার প্রতি ঈমান এনেছে, আমি আমার উপর তোমার নেয়ামত স্বীকার করি। এই আমার হাত, আমি যে সকল অপরাধ করেছি তাও স্বীকার করি। (ইবনু নসর, বায্যার। হাকেম এটিকে সহীহ বলেছেন)

سُبْحَانَ ذِي الْجَبَرُوتِ وَالْمَلَكُوتِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْعَظْمَةِ ...

অর্থঃ সেই আল্লাহ্ পবিত্রতা, যিনি ক্ষমতা, বাদশাহী শ্রেষ্ঠত্ব ও মহত্বের অধিকারী। (আবু দাউদ, নাসাঈ সনদ সহীহ)

নিম্নলিখিত দোআগুলো রাত্রের নামাযে পড়তেন-

سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ ..

অর্থঃ হে আল্লাহ! তোমার পবিত্রতা ও প্রশংসা, তুমি ছাড়া কোন মাবুদ নেই। (মুসলিম, আবু আওয়ানা, নাসাঈ, ইবনু নসর)

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي مَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ .

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমার গোপন ও প্রকাশ্য গুনাহ মাফ কর। (ইবনু আবী শায়বাহ, নাসাঈ। হাকেম এটাকে সহীহ বলেছেন এবং আল্লামা যাহাবী এর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন)

اللَّهُمَّ اجْعَلْ فِي قَلْبِي نُورًا وَفِي لِسَانِي نُورًا وَاجْعَلْ فِي . دد سَمْعِي نُورًا وَاجْعَلْ فِي بَصَرِى نُورًا وَاجْعَلُ مِنْ تَحْتِى نُورًا وَاجْعَلْ مِنْ فَوْقِى نُورًا وَعَنْ يَمِينِي نُورًا وَعَنْ يَسَارِي نُورًا وَاجْعَلْ أَمَامِي

نُورًا وَاجْعَلْ خَلْفِى نُورًا وَاجْعَلْ فِى نَفْسِي نُورًا وَاعْظِمْ لِي نُورًا -

অর্থ: হে আল্লাহ! আমার অন্তর, জিহবা, কান, চোখ, নীচে, উপরে, ডানে-বাঁয়ে, সামনে- পিছে এবং দেহে নূর (আলো) দান কর এবং আমার নূরকে মহান করে দাও। (মুসলিম, আবু আ'ওয়ানা, ইবনু আবী শায়বা)

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ وَأَعُوذُ بِمُعَافَاتِكَ مِنْ .دد عقوبَتِكَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْكَ لَا أُحْصِى ثَنَاءٌ عَلَيْكَ أَنْتَ كَمَا اثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِكَ -

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি তোমার সন্তুষ্টির বিনিময়ে তোমার অসন্তোষ থেকে পানাহ চাই, তোমার ক্ষমা দ্বারা তোমার শাস্তি থেকে আশ্রয় চাই এবং তোমার ওসীলায় তোমার কাছে পানাহ চাই। তুমি নিজে নিজের যে রকম প্রশংসা করেছ আমি তোমার সে রকম প্রশংসা করতে অপারগ।(মুসলিম, আবুআওয়ানা, ইবনু আবী শায়বা)

সাজদায় প্রশান্তি লাভ করা

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ 
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

সাজদায় প্রশান্তি লাভ করা

রসূলুল্লাহ (সঃ) রুকু ও সাজদাহ পরিপূর্ণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি রুকু ও সাজদাহ অপূর্ণকারীকে ঐ ক্ষুধার্ত ব্যক্তির মতো বলেছেন, যে ক্ষুধার সময় একটি বা দু'টো খেজুর খায়, কিন্তু তাতে তার ক্ষুধা দূর হয় না। তিনি আরো বলেছেন, এ জাতীয় লোক খুবই নিকৃষ্ট চোর।

তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি রুকু ও সাজদায় পিঠ সোজা করে না, তার নামায বাতিল। রুকু অধ্যায়ে এ সম্পর্কিত আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়াও তিনি ভুল নামায আদায়কারী ব্যক্তিকে প্রশান্তির সাথে ধীরস্থিরভাবে নামায পড়ার আদেশ দিয়েছেন।