Sunday, July 19, 2026

সালাতে হাত আগে মাটিতে রেখে সাজদায় যাওয়া

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ 
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

হাত আগে মাটিতে রেখে সাজদায় যাওয়া 

তিনি মাটিতে দুই হাঁটু রাখার আগে দুই হাত রাখতেন।(ইবনু খোযায়মাহ, দার কুতনী। হাকেম একে সহীহ বলেছেন এবং আল্লামা যাহাবী একে সমর্থন করেছেন। এ হাদীসের বিরোধী হাদীস সহীহ নয়। ইমাম মালেক, আহমদ ও আওযাঈর মতও এটাই)

দুই পায়ে তিনি এরূপ করার আদেশ দিয়ে বলেছেন, 'তোমাদের কেউ সাজদাহ করলে দুই পায়ে সে উটের মত না বসে, বরং হাঁটু রাখার আগে যেন দুই হাত মাটিতে রাখে। (আবু দাউদ, সোগরা ওয়া কোবরা-নাসাঈ, সনদ সহীহ)

উটের বিরোধীতার উপায় হল, উট প্রথমে পেছনের দুই পায়ের উপর বসার উদ্যোগ নেয়। তাই প্রথমে দুই হাত মাটিতে রেখে সাজদা করলে উটের বসার বিরোধীতা হয়।

তিনি আরও বলেছেনঃ কপালের মত হাতও সাজদাহ করে। তোমাদের কেউ মাটিতে কপাল দিয়ে সীজদাহ করার আগে দুই হাত মাটিতে রাখবে।

যখন সাজদাহ থেকে উঠবে, তখন দুই হাতও উঠাবে। (ইবনু খোযায়মাহ, আহমদ, আস-সেরাজ। হাকেম একে সহীহ বলেছেন এবং আল্লামা যাহাবী তা সমর্থন করেছেন)

তিনি দুই হাতের তালুর উপর ভর দিতেন এবং তা বিছিয়ে দিতেন।(আবু দাউদ। হাকেম একে সহীহ বলেছেন এবং আল্লামা যাহাবী তা সমর্থন করেছেন) তবে আঙ্গুলগুলো কেবলামুখী করে(বায়হাকী-সনদ সহীহ, ইবনু আবী শায়বা ১/৮২/২, আস-সেরাজ) মিলিয়ে রাখতেন। (ইবৰু খোযায়মাহ, বায়হাকী। হাকেম একে সহীহ বলেছেন এবং আল্লামা যাহাবী তা সমর্থন করেছেন)

তিনি দুই হাতের তালু মাটিতে কাঁধ বরাবর রাখতেন এবং কখনও কখনও দুই কান বরাবর রাখতেন। (আবু দাউদ। তিরমিযী একে সহীহ বলেছেন)

তিনি নিজের কান ও কপাল মাটিতে মযবুত করে রাখতেন। তিনি ভুল নামায আদায়কারীকে বলেছিলেন, তুমি যখন সাজদাহ করবে, মযবুত ভাবে তা করবে। (আবু দাউদ, নাসাঈ-সনদ সহীহ)

অন্য এক রেওয়ায়াতে এসেছে, যখন তুমি সাজদাহ করবে, তখন কপাল ও হাত মযবুত ভাবে রাখবে এবং প্রত্যেক অঙ্গ যেন তার নিজ স্থানে প্রশান্তির সাথে বহাল হয়। (ইবনু খোযায়মাহ-সনদ সহীহ)

তিনি আরো বলেছেন, সেই ব্যক্তির নামায হয় না, যার নাক ও কপাল মাটি স্পর্শ করে না।(দারু কুতনী, তাবারানী, আখবারে ইসপাহান-আবু নাঈম)

তিনি দুই হাঁটু ও দুই পায়ের আঙ্গুল সুপ্রতিষ্ঠিত রেখে সাজদাহ করতেন। (বায়হাকী সনদ সহীহ) পায়ের আঙ্গুলের মাথা কেবলামুখী করে রাখতেন,(বোখারী, আবু দাউদ) পায়ের দুই গোঁড়ালি মিলিয়ে রাখতেন। (তাহাবী, ইবনু খোযায়মাহ) এবং দুই পা দাঁড় করিয়ে রাখতেন (বায়হাকী-সনদ সহীহ) এবং অনুরূপ করার জন্য আদেশ করেছেন। (তিরমিযী, হাকেম)

রসূলুল্লাহ (সঃ) সাত অঙ্গে সাজদাহ করতেন। অঙ্গগুলো হচ্ছে, দুই হাতের তালু, দুই হাঁটু, দুই পায়ের পাতা, কপাল ও নাক।

তিনি সাজদায় শেষের দু'টি অঙ্গকে (অর্থাৎ কপাল ও নাক) এক অঙ্গ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আরেক বর্ণনায় এসেছে, আমাকে সাত হাড়ে সাজদাহ করার আদেশ দেয়া হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে দুই হাত। অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, দুই হাতের তালু, দুই হাঁটু এবং দুই পায়ের আঙ্গুল। এই কথা বলে তিনি কপাল ও নাকের প্রতি ইঙ্গিত দেন। আর আমি যেন কাপড় ও চুল এলোমেলো হয়ে গেলে তা ঠিক না করি। রুকু ও সাজদায় এরূপ করতে নিষেধ করা হয়েছে। (বোখারী, মুসলিম)

তিনি বলেছেন, বান্দাহর সাজদার সময় তার সাতটি অঙ্গ এক সাথে সাজদাহ করে। সেই অঙ্গগুলো হচ্ছে, কপাল, দুই হাতের তালু, দুই হাঁটু ও দুই পা।(মুসলিম, আবু আ'ওয়ানা, ইবনু হিব্বান)

এক ব্যক্তি নিজ চুল খোঁপার মত বেঁধে রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর পিছে নামায পড়েন। তিনি তাঁকে লক্ষ্য করে বলেন, 'তার উদাহরণ হল দুই হাত বাঁধা নামাযীর মত।(হাদীসটির অর্থ হল, চুল খোলা থাকলে সাজদার সময় তা মাটিতে পড়ত এবং নামাযীকে এর সওয়াব দেয়া হত। কিন্তু চুল বাঁধা থাকার অর্থ হল, চুলের সাজদাহ না করা। একে দুই হাত বাঁধা নামাযীর সাথে তুলনা করা হয়েছে। কেননা, হাত বাঁধা থাকলে সাজদার সময় হাত মাটিতে পড়ে না। আমার মতে এই হুকুম পুরুষের জন্য, মেয়েদের জন্য নয়। শাওকানী ইবনু আরাবী থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন)

তিনি আরো বলেন, 'বাঁধা চুল শয়তানের আসন। (আবু দাউদ। তিরমিযী এটিকে উত্তম হাদীস এবং ইবনু খোযায়মাহ ও ইবনু হিব্বান একে সহীহ হাদীস বলেছেন)

তিনি দুই হাত মাটিতে লম্বা করে বিছিয়ে দিতেন না। (বোখারী, আবু দাউদ) বরং তা যমীন থেকে উপরে এবং পেটের দুই পাশ থেকে দূরে রাখতেন এমন কি পেছন থেকে তাঁর বগলের নীচের শুভ্রতা দৃষ্টিগোচর হত। (বোখারী, মুসলিম)কোন ছোট ভেড়া-বকরীর বাচ্চা তাঁর হাতের নীচ দিয়ে যেতে চাইলে যেতে পারত। (মুসলিম, আবু আওয়ানা, ইবনু হিব্বান)

এক সাহাবী একটু বাড়িয়ে বলেছেন, রসূলুল্লাহ (সঃ) যখন সাজদায় যান, তখন তাঁর দুই হাত পেটের দুই পাশ থেকে এতটুকু দূরত্বে থাকে যে, আমরা সেখানে আশ্রয় নিতে পারি। (আবু দাউদ, ইবনু মাজাহ-সনদ ভাল)

তিনি এরূপ করার আদেশ দিয়ে বলেছেন, তুমি যখন সাজদাহ করবে, তখন তোমার দুই হাতের তালু মাটিতে রাখবে এবং দুই কনুই উপরে রাখবে।(মুসলিম, আবু আওয়ানা) তিনি আরো বলেছেন, তোমরা সাজদায় সোজা থাক এবং কুকুরের মত দুই হাত সামনের দিকে বিছিয়ে দিও না। (বোখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, আহমদ) তিনি অন্য এক হাদীসে বলেছেন, তোমরা কুকুরের মত দুই হাত বিছিয়ে দিও না। (আহমদ। তিরমিযী এটিকে সহীহ বলেছেন) তিনি আরও বলেছেন, তোমরা হিংস্র প্রাণীর মত হাত বিছিয়ে দিও না, দুই হাতের তালুর উপর ভর রাখ এবং দুই বাহুকে আলাদা রাখ। এই ভাবে করলে তোমার সকল অঙ্গ সাজদাহ করবে। (ইবনু খোযায়মাহ। আলমোখতারাহ আল-মাকদেসী, হাকেম এটিকে সহীহ বলেছেন এবং আল্লামা যাহাবী তা সমর্থন করেছেন)

0 comments:

Post a Comment

Thanks for your comments.