Saturday, August 8, 2026

বিতরের নামাযে কুনূত ও পাঁচ ওয়াক্ত নামাযে দীর্ঘ দোআ কুনুতে নাজেলা

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ 
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

পাঁচ ওয়াক্ত নামাযে দীর্ঘ দোআ কুনুতে নাজেলা

রসূলুল্লাহ (সঃ) যখন করোর উপর বদ দোআ কিংবা কারোর জন্য দোআ করার ইচ্ছা করতেন, তখন শেষ রাকআতে রুকু থেকে মাথা উঠাবার এবং সামি-আল্লাহু লিমান হামিদাহ আল্লাহুম্মা রাব্বানা লাকাল হামদ বলার পর তা করতেন। (বোখারী আবু দাউদতিনি আওয়াজ করে দোআ করতেন, (বোখারী আবু দাউদদু'হাত তুলতেন (আহমদ, তাবারানী- সনদ সহীহ। এটা ইমাম আহমদ ইসহাকের মাযহাব। আল-মাসায়েল- আল-মুরুজী, পৃঃ ২৩। তবে দু'হাত দিয়ে মুখ মোছার সপক্ষে কোন বর্ণনা নেই। তাই এতে হাত দিয়ে মুখ মোছা বিদআত। নামাযের বাইরেও হাত দিয়ে মুখ মোছা ঠিক নয়। মুখ মোছার ব্যাপারে বর্ণিত হাদীসগুলো দুর্বল এবং কিছু আছে অত্যধিক দুর্বল। আমি আবু দাউদের দুর্বল হাদীস (২৬২) এবং সহীহ হাদীসে (৫৯৭) তা বিস্তারিত বর্ণনা করেছি। ইযয বিন আবদুস সালাম এক ফতোয়ায় বলেছেন, অজ্ঞ লোকেরা ব্যতীত তা কেউ করে না) এবং পেছনের লোকেরা আমীন বলতেন। (আবু দাউদ, আস-সেরাজ। হাকেম এটিকে সহীহ বলেছেন এবং আল্লামা যাহাবী তা সমর্থন করেছেন)

তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাযেই দোআ কুনূত পড়েছেন। (আবু দাউদ, আস-সেরাজ, দারু কুতনী-সনদ দু'টোই সহীহতিনি কারো জন্য নেক দোআ কিংবা বদ দোআ করার উদ্দেশ্যেই নামাযে দোআ কুনূত বা দোআ করেছেন। (ইবনু খোযায়মাহ, কিতাবুল কুনুত-আল খাতীব-সনদ সহীহতিনি কখনও কখনও বলেছেন:

اللَّهُمَّ أَنْجِ الْوَلِيدَ وَسَلَمَةَ بْنَ هَاشِمٍ وَعَيَّاشَ بْنَ أَبِي رَبِيعَةَ اللَّهُمَّ اشْدُدْ وَطَأَتَكَ عَلَى مُضَرَ وَاجْعَلْهَا سِنِينَ كَسِنِي يُوسُفَ اللهُمَّ الْعِنْ لِحْيَانَ وَرَعلًا وَذَكْوَانَ وَعَصِيَّةَ عَصَتِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ .

অর্থঃ হে আল্লাহ! ওয়ালিদ, সালামাহ বিন হাশেম এবং আইয়াশ বিন আবী রাবীআ'হকে রক্ষা কর। হে আল্লাহ! তুমি মোযার সম্প্রদায়কে শক্ত করে পাকড়াও কর এবং তাদের উপর ইউসুফ (আঃ)-এর কাওমের মত বছরের পর বছর দুর্ভিক্ষ দাও। হে আল্লাহ! লেহইয়ান, রা', যাকওয়ান এবং 'সিয়্যা সম্প্রদায়ের উপর অভিশাপ নাযিল কর। তারা আল্লাহ তাঁর রসূলের নাফরমানী করেছে। (বোখারী, আহমদ, মুসলিম)

তিনি দোআ শেষ করে আল্লাহু আকবার বলে সাজদায় যেতেন। (নাসাঈ, আহমদ, আস-সেরাজ, মোসনাদে আবু ইয়ালী-সনদ ভাল)

বিতরের নামাযে কুনূত

রসূলুল্লাহ (সঃ) কখনও কখনও বিতরের নামাযে দোআ কুনূত পড়তেন। (ইবনু নসর, দার কুতনী- সনদ সহীহ)

আমরা বলেছি, রসূলুল্লাহ (সঃ) কখনও কখনও বিতরের নামাযে কুনুত পড়েছেন। যদি তিনি সর্বদা কুনুত পড়তেন, তাহলে সাহাবায়ে কেরাম তা দেখতেন এবং বর্ণনা করতেন। একমাত্র উবাই বিন কা' একা এক বর্ণনায় তা বলেছেন। সর্বদা করলে অন্যান্য সহাবায়ে কেরামও তা দেখে বর্ণনা করতেন। এর দ্বারা বুঝা যায় যে, তিনি কখনও কখনও তা করেছেন। এতে প্রমাণিত হয় যে, কুনুত ওয়াজিব নয়। অধিকাংশ ওলামার মত এটাই। তাই ইবনুল হাম্মাম তাঁর ফাতহুল কাদীরে লিখেছেন, যারা বলেন, এটা ওয়াজিব, তাদের একথা দুর্বল। তিনি নিজ মাযহাবের বিপরীত কথাকে নিরপেক্ষভাবে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

 

তিনি রুকুর আগে কুনূত পড়তেন। (ইবনু আবী শায়বা, আবু দাউদ, নাসাঈ সুনানে কোবরা, আহমদ, তাবারানী, বায়হাকী, ইবনু আসাকির- সনদ সহীহ) তিনি সর্বদা বিতরে কুনূত পড়েননি। (আবু দাউদ, নাসাঈ, আহমদ, বায়হাকী শায়বা, তাবরানী-সনদ সহীহ)

বিতরের নামাযে কেরাআত শেষ হলে নিম্নোক্ত কুনূত (দোআ') পড়ার জন্য তিনি হাসান বিন আলী (রাঃ)-কে শিক্ষা দিয়েছেন:

اللَّهُمَّ اهْدِنِي فِيمَنْ هَدَيْتَ وَعَافِنِي فِيمَنْ عَافَيْتَ وَتَوَلَّنِي فِيمَنْ تَوَلَّيْتَ وَبَارِكْ لِي فِيْمَا أَعْطَيْتَ وَقِنِي شَرَّمَا قَضَيْتَ فَإِنَّكَ تَقْضِي وَلَا يُقْضَى عَلَيْكَ وَإِنَّهُ لَا يَذِلُّ مَنْ وَالَيْتَ وَلَا يَعِزُّ مَنْ عَادَيْتَ تَبَارَكْتَ رَبَّنَا وَتَعَالَيْتَ لَا مُنْجَا مِنْكَ إِلَّا إِلَيْكَ -

অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি যাদেরকে হেদায়াত করেছ আমাকে হেদায়াত দিয়ে তাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত কর। আমাকে সুস্থতা শান্তি দিয়ে জাতীয় সুস্থতা শান্তিপ্রাপ্ত লোকদের মধ্যে গণ্য কর। তুমি যাদের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছ, আমাকে তাদের মধ্যে শুমার কর। তুমি যা দান করেছ তাতে আমাকে বরকত দাও। ভাগ্যের মন্দ লিখন থেকে আমাকে মুক্তি দাও। তুমিই ফয়সালাকারী, তোমার উপর কোন ফয়সালাকারী নেই। তুমি যাকে বন্ধু বানিয়েছ, সে কখনও লাঞ্ছিত হয় না এবং তুমি যার সাথে শত্রুতা কর সে সম্মান লাভ করতে পারে না। হে আমাদের রব! তুমি বরকতময় সুমহান, তুমি ছাড়া মুক্তির কোন স্থান নেই। (ইবনু খোযায়মাহ, ইবনু আবী শায়বা)


0 comments:

Post a Comment

Thanks for your comments.