Thursday, July 16, 2026

সাজদার স্থানের প্রতি নযর রাখা ও বিনয়ী হওয়া

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ 
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

সাজদার স্থানের প্রতি নযর রাখা ও বিনয়ী হওয়া

রসূলুল্লাহ (সঃ) নামায পড়ার সময় মাথা নীচু করতেন এবং দৃষ্টি যমীনের উপর রাখতেন।(বায়হাকী, হাকেম) তিনি যখন কাবা শরীফের ভেতর ঢুকেন, তখন তাঁর দৃষ্টি সাজদার জায়গা ছাড়া আর কোনো দিকে নিবদ্ধ ছিল না, যে পর্যন্ত না তিনি সেখান থেকে বের হন।(বায়হাকী, হাকেম)

রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, ঘরে এমন কোনো জিনিস থাকা উচিত নয়, যা নামাযীর মনকে ব্যস্ত রাখতে পারে।(আবু দাউদ, আহমদ বিশুদ্ধ সনদ সহকারে)

তিনি নামাযে আকাশের দিকে তাকাতে নিষেধ করেছেন।(বোখারী, আবু দাউদ) শুধু তাই নয়, তাকীদ সহকারে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন, 'হয় লোকেরা আসমানের দিকে তাকানো বন্ধ করবে, আর না হয় তাদের চোখ আর ফিরে আসবে না।' অন্য এক বর্ণনায় বলা হয়েছে, 'আর না হয় তাদের চোখ কেড়ে নেয়া হবে।' (বোখারী, মুসলিম)

অন্য এক হাদীসে এসেছে, 'তোমরা যখন নামায পড়বে, তখন এদিক-ওদিক তাকাবে না। কারণ, আল্লাহ নিজ চেহারা বান্দার চেহারার দিকে নিবদ্ধ রাখেন যতোক্ষণ না বান্দা এদিক-ওদিক তাকায়।'( তিরমিযী, হাকেম) এদিক সেদিক তাকানোর বিষয়ে তিনি আরো বলেছেন, 'এটা হচ্ছে বান্দার নামাযে শয়তানের ছোবল।'(বোখারী, আবু দাউদ)

রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, 'নামাযে আল্লাহর দৃষ্টি সে পর্যন্ত বান্দার দিকে থাকে যে পর্যন্ত বান্দা এদিক-সেদিক না তাকায়। যখন সে এদিক-ওদিক তাকানোর জন্য মুখ ফিরায়, আল্লাহও নিজ মুখ ফিরিয়ে নেন।' (আবু দাউদ, ইবনু খোযায়মাহ ও ইবনু হিব্বান এটাকে সহীহ বলেছেন)

রসূলুল্লাহ (সঃ) নামাযে তিনটি কাজ নিষেধ করেছেন। প্রথম হচ্ছে দুই সাজদার মাঝখানে সোজা হয়ে না বসে মোরগের মতো ঠোকর দেয়া (অর্থাৎ সাজদা করা)। দ্বিতীয় হচ্ছে, কুকুরের মতো বসা এবং তৃতীয় হচ্ছে, শিয়ালের মতো এদিক-ওদিক তাকানো।(আহমদ, আবু ইয়ালী-তারগীব)

তিনি আরো বলেছেন, মৃত্যুপথ যাত্রীর শেষ নামাযের মতো মনোযোগ সহকারে নামায পড় এবং মনে কর যে, তুমি আল্লাহকে দেখছ। আর যদি তুমি তাঁকে নাও দেখ, তাহলে তিনি অবশ্যি তোমাকে দেখেন।(ইবনু মাজাহ, আহমদ, তাবারানী, ইবনু আসাকির)

রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, ফরয নামায উপস্থিত হলে কোন ব্যক্তি যদি ভালভাবে উযু করে, বিনয় (খুশু') সহকারে নামায পড়ে এবং ভালভাবে রুকু করে, তাহলে তা তার সগীরা গুনাহর ক্ষতিপূরণ (কাফ্ফারা) হবে যে পর্যন্ত সে কবীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকবে। এভাবেই যুগের পর যুগ চলতে থাকবে।(মুসলিম)

রসূলুল্লাহ (সঃ) চিহ্ন বিশিষ্ট কাল পশমী কাপড়ে নামায পড়েন এবং কাপড়ের চিহ্নের প্রতি একবার নযর করেন। নামায শেষ হলে তিনি বলেন, আমার এই কাপড়টি আবু জাহামের কাছে নিয়ে যাও এবং তার চিহ্নবিহীন মোটা কাপড়টি নিয়ে আস। কেননা, এই কাপড়টি আমাকে নামায থেকে অন্যমনস্ক করে দিয়েছিল।(বোখারী, মুসলিম, মালেক) অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, আমি নামাযে কাপড়ের চিহ্নের দিকে নযর করি যা আমাকে প্রায় ফেতনার মধ্যে ফেলে দিচ্ছিল।

আয়েশা (রাঃ)-এর একটি কাপড়ে ছবি ছিল এবং ছোট একটি ঘরে টানানো ছিল। রসূলুল্লাহ (সঃ) ঐ দিকে মুখ করেই নামায পড়তেন। তিনি বললেন, আয়েশা, ওটি আমার সামনে থেকে সরিয়ে নাও। নামাযে কাপড়ের ছবিটির প্রতি আমার দৃষ্টি যায়। (বোখারী, মুসলিম, আবু আওয়ানা। তিনি ছবিটি সরিয়ে নিতে বললেন, কিন্তু তা ছিঁড়ে ফেলতে না বলার কারণ, সম্ভবত তাতে কোনো প্রাণীর ছবি ছিল না। বোখারী ও মুসলিম শরীফের অন্য বর্ণনায় এসেছে, তিনি প্রাণীর ছবি ছিঁড়ে ফেলে দিয়েছেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে ফাতহুল বারী এবং গায়াতুল মোরাম ফী তাখরীজি আহাদীসিল হালাল ওয়াল হারাম গ্রন্থের ১৩১-১৪৫ নং হাদীসে)

রাসূলুল্লাহ (সঃ) আরো বলেছেন, খাবার উপস্থিত হলে কোন নামায নেই এবং পেশাব-পায়খানা আটকিয়ে রেখেও কোনো নামায নেই।(বোখারী মুসলিম, ইবনু আবী শায়বা) নামাযে বিনয়ের স্বার্থে এদু'টো বিষয়ের কথা বলা হয়েছে।

0 comments:

Post a Comment

Thanks for your comments.