তাশহহুদের মধ্যে আঙ্গুল নাড়ানো
রসূলুল্লাহ (সঃ) বাম হাতের তালু বাম হাঁটুর উপর বিছিয়ে দিতেন, ডান হাতের সকল আঙ্গুল মুষ্টিবদ্ধ করে রেখে কেবল তর্জনী বা শাহাদত অঙ্গুলির দ্বারা কেবলার দিকে ইঙ্গিত দিতেন এবং এর দিকে চোখ দিয়ে তাকিয়ে থাকতেন। (মুসলিম, আবু আওয়ানাহ, ইবনু খোযায়মাহ্
তিনি যখন আঙ্গুল (তর্জনী) উঠাতেন, তখন তা নাড়তে থাকতেন ও দোআ করতেন। (ইমাম তাহাবী বলেন, 'দোআ করেন' এ কথা দ্বারা বুঝা যায় যে, এটা তিনি নামাযের শেষে করতেন। কিন্তু আমি বলবো, আঙ্গুল নাড়া ও ইশারা অব্যাহত রাখা সুন্নত। কেননা, দোআ হচ্ছে, এর আগে। এটা ইমাম মালেকসহ অন্যদের মত। ইমাম আহমদকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, নামাযী কি আঙ্গুল দ্বারা ইঙ্গিত করবে? তিনি বলেন, অবশ্যই। (মাসায়েল আনিল ইমাম আহমদ- ইবনু হানী)
আমি বলি, এর দ্বারা পরিষ্কার হয়ে যায় যে, তাশাহহুদে আঙ্গুল নাড়ানো, রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর কাছ থেকে প্রমাণিত সুন্নত। ইমাম আহমদসহ হাদীসের অন্যান্য ইমামরা তা আমল করেছেন। যারা এটাকে বেহুদা কাজ মনে করে, তারা যেন আল্লাহকে ভয় করে। তারা বেহুদা মনে করে আঙ্গুল নাড়ে না। অথচ তারা জানে না যে, এটা প্রমাণিত এবং তারা এর বিভিন্ন রকম ব্যাখ্যা দেয়, যা আরবী ভাষার নিয়ম বিরোধী এবং ইমামদের বুঝ-জ্ঞানের পরিপন্থী। যারা এই জিনিসকে ঠাট্টা করে, তারা মূলত সুন্নতকেই ঠাট্টা করে এবং যা শেষ পর্যায়ে রসূলুল্লাহকে ঠাট্টা করার নামান্তর। কেননা, তিনিই তো এই সুন্নতটি চালু করেছেন। তিনি আঙ্গুল নাড়াতেন না মর্মে বর্ণিত, হাদীসের সনদ ভিত্তিহীন।)
তিনি আরও বলেন, এই আঙ্গুল অর্থাৎ তর্জনী শয়তানের জন্য লোহার চেয়েও কঠিন।
রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সাহাবীগণ দোআয় ইশারা করার সময় এক আঙ্গুল
দিয়ে অন্য আঙ্গুল ধরতেন।
রসূলুল্লাহ (সঃ) দুই তাশাহহুদেই অনুরূপ করতেন।
রসূলুল্লাহ (সঃ) এক ব্যক্তিকে দুই আঙ্গুল দিয়ে দোআ করতে দেখে নিজ তর্জনী দিয়ে ইশারা করে বলেন, এভাবে এক প্রকাশ কর, এক প্রকাশ কর।
0 comments:
Post a Comment
Thanks for your comments.