(২৯) একামতের সময় সুন্নত বা নফল নামায পড়া: আবু হোরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত।
রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন:
إِذَا أَقِيمَتِ الصَّلَاةُ فَلَاصَلَاةَ إِلَّا الْمَكْتُوبَةَ
'নামাযের একামত হয়ে গেলে ফরজ নামায ছাড়া আর কোন নামায নেই।' (মুসলিম)
আবদুল্লাহ বিন বোহাইনা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (সঃ) ফজরের নামাযের একামতের সময় এক ব্যক্তিকে দু'রাকাত নামায পড়তে দেখেন। নবী করীম (সঃ)-এর নামায শেষে লোকেরা তাকে ঘিরে ফেলল। তখন রসূলুল্লাহ (সঃ) প্রশ্ন করেন, 'ফজরের ফরজ নামায কি ৪ রাকাত? ফজরের ফরজ নামায কি ৪ রাকাত?' (বোখারী, মুসলিম) অর্থাৎ একামতের পর তো মাত্র দু'রাকাত ফরজ নামায পড়ার কথা। কিন্তু লোকটি তো ৪ রাকাত পড়ল।
হাদীসের আলোকে ইবনে হেজাম বলেন: ফজরের ফরজ নামাযের একামত শুনার পর ফজরের দু'রাকাত সুন্নত পড়লে যদি জাম'আত কিংবা তাকবীরে তাহরীমা ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে তাহলে ঐ দু'রাকাত সুন্নত আগে পড়া জায়েয নেই। কেউ তা পড়লে আল্লাহর নাফরমানী করবে।
ইমাম নওয়ী (রঃ) বলেছেন, একামত শুনার পর অন্য নামায না পড়ার পেছনে যে যুক্তি রয়েছে তাহল, ফরজ নামাযের জন্য প্রথম থেকেই পূর্ণ প্রস্তুতি নেয়া এবং সুন্নত ও নফলের দ্বারা ফরজের সামান্যও ঘাটতি না করা।
ইবনে আবদুল বার বলেছেন, একামতের সময় নফল ও সুন্নত ত্যাগ করে ফরজ পড়ার পর তা আদায় করা সুন্নতের উত্তম অনুসরণ। একামতের মধ্যে حَتَّى عَلَى الصَّلَاةِ -এর অর্থ হল, এখন যে ফরজ নামায অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, তাতে দ্রুত এসে শরীক হও। তাই একামতের সময় নফল-সুন্নত না পড়ে ফরজ নামাযে শামিল হতে হবে।
কেউ কেউ হযরত আলী থেকে বর্ণিত হাদীসের বরাত দিয়ে বলেছেন: একামতের সময় নফল নামায পড়া জায়েয। সে হাদীসে আছে: 'নবী করীম (সঃ) একামতের সময় দু'রাকাত নামায পড়তেন।' (ইবনু মাজাহ)
এ হাদীসের ভিত্তিতে দলীল দেয়া যাবে না। কেননা, হাদীসটি দুর্বল। হাদীসের সনদে হারেস আওয়ার নামক রাবী দুর্বল। আল্লামা জাহাবী তাঁর 'মীজানুল এতেদাল, গ্রন্থে লিখেছেন: মুগীরা শাবী থেকে বর্ণনা সূত্রে বলেছেন, হারেস আওয়ার আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করেছে। সে ছিল মিথ্যাবাদী। ইবনু মুঈন তাকে দুর্বল এবং জারীর বিন আবদুল হামিদ তাকে মিথ্যুক বলেছেন, শাবী বলেছেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, সে মিথ্যুক।
কিছু কিছু আলেম একামতের সময় কিংবা পরে ফজরের সুন্নত পড়াকে জায়েয বলেছেন। ইমাম ইবনুল কাইয়েম তাঁর إِعْلَامُ الْمُوْقِعِيِينَ লিখেছেন: মুসলিম শরীফে বর্ণিত হাদীস অনুযায়ী একামত হয়ে গেলে ফরজ ছাড়া আর কোন নামায নেই। তাই একামতের পর ফজরের সুন্নত পড়া উপরোক্ত হাদীসের বিরোধী। তিনি বলেন, আবু হোরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত উপরোক্ত হাদীসের শেষে 'ফজরের দু'রাকাত সুন্নত ব্যতীত' এ অংশটি যোগ করাকে অস্বীকার করেছেন। তার মতে, শেষ অংশটুকু হাদীস নয়।
আবু হোরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন:
إِذَا أَقِيمَتِ الصَّلَاةُ فَلَا صَلَاةَ إِلَّا الْمَكْتُوبَةَ قِيلَ يَا رَسُولَ اللهِ وَلَا رَكْعَتَى الْفَجْرِ ؟ قَالَ : وَلَا رَكْعَتَي الْفَجْرِ -
'যখন নামাযের একামত দেয়া হয় তখন ফরজ ব্যতীত আর কোন নামায নেই। রসূলুল্লাহ (সঃ)-কে প্রশ্ন করা হল, ফজরের দু'রাকাত সুন্নতও নয়? তিনি জবাবে বলেন: না, ফজরের দু'রাকাত সুন্নতও নয়।' (বায়হাকী)
তবে, ফজরের ফরজ পড়ার পর দু'রাকাত সুন্নত পড়ে নিলে সুন্নতের ফজীলতও লাভ করা যায়। ফরজের পর সুন্নত না পড়ার কোন নিষেধাজ্ঞা হাদীসে নেই। তবে একামতের পর কেউ যেন নতুন করে নফল-সুন্নত নামায শুরু না করে। কেউ যদি একামতের আগে নফল-সুন্নত শুরু করেন তাহলে হালকাভাবে তা শেষ করে জামাতে শরীক হলে নিম্নোক্ত আয়াতের পরিপন্থী হবে না : وَلَا تُبْطِلُوا أَعْمَالَكُمْ 'তোমাদের আমল বরবাদ করো না।'
0 comments:
Post a Comment
Thanks for your comments.