(৩০) নামাযের মধ্যে ইশারায় সালামের জবাব না দেয়া: কেউ মসজিদে প্রবেশ করে সালাম দিলে মুখে সালামের জবাব দেয়া যাবে না। কিন্তু ইশারার মাধ্যমে জবাব দেয়া যাবে। এ মর্মে আবদুল্লাহ বিন ওমার (রাঃ) বলেন: 'আমি বেলালকে জিজ্ঞেস করলাম, নবী করীম (সঃ) কিভাবে নামাযে আনসারদের সালামের জবাব দিতেন? বেলাল বলেন, তিনি এভাবে জবাব দিতেন। একথা বলে বেলাল নিজ হাতের অগ্রভাগ সোজা করে দেখান।'-(আবু দাউদ, তিরমিজী)
আল্লামা সানআনী বলেন, এ হাদীস প্রমাণ করে যে, কথার মাধ্যমে নয়, বরং ইশারার মাধ্যমে সালামের জবাব দিতে হবে।
জাবের (রাঃ) থেকে বর্ণিত। 'রসূলুল্লাহ (সঃ) তাঁকে এক কাজে পাঠিয়েছিলেন। তিনি ফিরে এসে রসূলুল্লাহ (সঃ)-কে নামাযে পেলেন। তিনি
তাঁকে সালাম দেন। নবীজি ইশারায় জবাব দেন।' (মুসলিম)
ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। 'তিনি নবী করীম (সঃ)-কে নামাযের মধ্যে সালাম দিলে তিনি মাথা নেড়ে সালামের জবাব দেন।' (বায়হাকী)
এ সকল হাদীস দ্বারা বুঝা যায়, কথার মাধ্যমে সালামের উত্তর দেয়া সম্ভব না হওয়ায় তিনি ইশারার মাধ্যমে জবাব দিয়েছেন। মাথা, হাত বা আঙ্গুলের ইশারায় সালামের উত্তর দিলে চলবে। প্রশ্ন হল, নামাযের মধ্যেও কেন সালামের উত্তর দিতে হয়? উত্তর হল, আল্লাহ কোরআন মজীদে বলেছেন:
وَإِذَا حُتِيْتُمْ بِتَحِيَّةِ فَحَيُّوا بِأَحْسَنِ مِنْهَا أَوْرُدُّوهَا
'আর তোমাদেরকে কেউ সালাম দিলে তোমরাও তার জন্য তার চাইতে উত্তম জবাব দাও অথবা তার অনুরূপ সালামই দাও।' (সূরা নেসা-৮৬) আল্লাহর আদেশ হল সালামের জবাব দেয়া। নামাযে কথার মাধ্যমে উত্তর দেয়া সম্ভব না হওয়ায় ইশারায় উত্তর দিতে হয়।
(৩১) নামায কাজা হলে সাথে সাথে কাজা আদায় না করা: অনেকে পরের দিনের জন্য অপেক্ষা করে এবং কাজা আদায় করে। এটা বিরাট ভুল, সুস্থ হওয়ার সাথে সাথে কিংবা মনে পড়ার সাথে সাথে কাজা আদায় করতে হবে। রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন:
مَنْ نَسِى صَلَاةً أَوْ نَامَ عَنْهَا فَكَفَّارَتُهَا أَنْ تُصَلِّيهَا إِذَا
ذَكَرَهَا
'কেউ ভুলে কিংবা ঘুমের কারণে নামায না পড়ে থাকলে স্মরণ হওয়া মাত্র তা আদায় করা এর কাফফারা।' (বোখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, তিরমিজী)
0 comments:
Post a Comment
Thanks for your comments.