(১৬) কাঁচা রসুন-পেঁয়াজ খেয়ে মসজিদে আসা:
এ মর্মে আবদুল্লাহ বিন ওমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী করীম (সঃ) বলেছেন: 'যে ব্যক্তি এ গাছ (রসুন) খায়, সে যেন আমাদের মসজিদের কাছে না আসে।' (বোখারী) জাবের বিন আবদুল্লাহ থেকে অন্য বর্ণনায় এসেছে, 'যে ব্যক্তি কাঁচা রসুন ও পেঁয়াজ খায়, সে যেন আমাদের থেকে দূরে থাকে কিংবা সে যেন আমাদের মসজিদ থেকে দূরে থাকে এবং নিজ ঘরে বসে থাকে।' (বোখারী)
হযরত আনাসের এক বর্ণনায় এসেছে, 'যে ব্যক্তি এ গাছ খায়, সে যেন আমাদের কাছে না আসে, অর্থাৎ সে যেন আমাদের সাথে নামায না পড়ে।'- (বোখারী)
হযরত ওমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। 'আমি নবী করীম (সঃ)-কে দেখেছি, তিনি যদি মসজিদে কারো মধ্যে এ দু'টোর গন্ধ পেতেন তাকে বাকী কবরস্থান পর্যন্ত পাঠিয়ে দেয়ার আদেশ দিতেন। কেউ যদি এ দু'টো খেতে চায় সে যেন রান্না করে খায়।' (মুসলিম)
নবী করীম (সঃ) আরো বলেছেন: 'আদম সন্তান যে সকল জিনিস দ্বারা কষ্ট পায় ফেরেশতারাও সে সকল জিনিস দ্বারা কষ্ট পায়।' (মুসলিম)
দুর্গন্ধের কারণে কাঁচা রসুন-পেঁয়াজ খেয়ে মসজিদে যাওয়া নিষেধ। রান্না করে খেলে মুখে গন্ধ থাকে না। তখন মসজিদে গেলে কোন দোষ নেই।
(১৭) ধূমপান করার পর মসজিদে যাওয়া: যে কারণে পেঁয়াজ-রসুন খেয়ে মসজিদে যাওয়া নিষেধ, সে কারণে ধূমপান করেও মসজিদে যাওয়া উচিত নয়। সে কারণটি হল মুখের দুর্গন্ধ। কোন কোন আলেমের মতে ধূমপানের দুর্গন্ধের হুকুম কাঁচা রসুন-পেঁয়াজের হুকুম অপেক্ষা আরো বেশি মারাত্মক। হোজাইফা বিন ওসাইদ থেকে বার্ণত। রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেন:
منْ أَذَى الْمُسْلِمِينَ فِي طُرُقِهِمْ - وَجَبَتْ عَلَيْهِمْ
لَعْنَتُهُمْ -
'যে ব্যক্তি রাস্তায় মুসলমানদেরকে কষ্ট দেয়, তার উপর তাদের অভিশাপ জরুরী হয়ে যায়।' (তাবরানী, আবু নাঈম ও ইবনে আদী)
রাস্তায় কষ্টদানকারী যদি অভিশাপের উপযোগী হয় তাহলে, মসজিদে কষ্টদানকারীর অবস্থা কিরূপ হবে? অবশ্যই এটা বিরাট অপরাধ। এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে হলে লেখকের 'ইসলামের দৃষ্টিতে ধূমপান ও গান-বাজনা' বইটি দ্রষ্টব্য।
মুনীর দামেস্কী বলেছেন, পেঁয়াজ-রসুনের উপকার সত্ত্বেও দুর্গন্ধের কারণে মসজিদে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। আর ধূমপানের ক্ষতি ছাড়া কোন উপকারই নেই এবং এর দুর্গন্ধ পেঁয়াজ-রসুন অপেক্ষা বেশি। তাই ধূমপানের পর মসজিদে যাওয়ার হুকুম আরো বেশি কঠিন।
0 comments:
Post a Comment
Thanks for your comments.