(২৬) বিনা প্রয়োজনে নামাযে দু'চোখ বন্ধ করা: আল্লামা ইবনুল কাইয়েম (রঃ) বলেছেন: নামাযে চোখ বন্ধ করা নবী করীম (সঃ)-এর সুন্নতের পরিপন্থী। তিনি কখনও নামাযে এরূপ করতেন না। বরং তিনি নামাযে তাশাহহুদের বৈঠকে দোআর সময় আঙ্গুলের ইশারার দিকে তাকিয়ে থাকতেন। ইবনুল কাইয়েম (রঃ) চোখ বন্ধ না করার বিষয়ে খোমাইসা আবি জাহামসহ অন্যদের বর্ণিত কয়েকটি হাদীস উল্লেখ করেছেন। এর সমর্থনে আরো বলা যায় যে, কসুফের নামাযের সময় তার বেহেশতের আঙ্গুরের ছড়া ধরার চেষ্টা, একবার নামাযে দোজখ এবং তাতে বিড়ালের কাহিনী বিশিষ্ট মহিলাকে দেখা এবং তাঁর নামাযের সামনে দিয়ে পশু অতিক্রমের সময় তাকে বাধা প্রদানসহ বিভিন্ন ঘটনা রয়েছে। এগুলো প্রমাণ করে যে, তিনি নামাযে চোখ বন্ধ রাখতেন না।
নামাযে চোখ বন্ধ রাখার ব্যাপারে ওলামায়ে কেরামের মতভেদ আছে। ইমাম আহমদসহ একদল আলেমের মতে এটা মাকরূহ। তাঁরা বলেছেন, এটা ইহুদীদের কাজ। তবে অন্য একদল আলেমের মতে, তা জায়েয এবং তাঁরা এটাকে মাকরূহ বলেন নি। বরং তারা বলেছেন, এর মাধ্যমে নামাযের প্রাণ খুশু ও বিনয় অর্জন সহজ।
বিশুদ্ধ মত হল, চোখ খোলা রাখলে যদি তা খুশুর জন্য ক্ষতিকর না হয় তাহলে খোলা রাখাই উত্তম। আর যদি সামনে কারুকার্য, ডিজাইন বা অন্য কিছুর প্রতি দৃষ্টির কারণে খুশু বাধাপ্রাপ্ত হয় তাহলে চোখ বন্ধ রাখা মাকরূহ হবে না বরং শরীয়তের মূল উদ্দেশ্য পূরণে সহায়ক হওয়ার কারণে তা মোস্তাহাব।(
(২৭) প্রথম রাকাত অপেক্ষা ২য় রাকাত কিংবা প্রথম দু'রাকাত অপেক্ষা শেষ দু'রাকাতকে দীর্ঘ করা: নবী করীম (সঃ) এর বিপরীত করতেন। অর্থাৎ তিনি ১ম রাকাতকে ২য় রাকাত এবং প্রথম দু'রাকাতকে শেষ দু'রাকাত অপেক্ষা দীর্ঘায়িত করতেন।
আবু কাতাদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। 'রসূলুল্লাহ (সঃ) জোহরের প্রথম রাকাতগুলোকে দীর্ঘ এবং শেষ রাকাতদ্বয়কে সংক্ষিপ্ত করতেন। তিনি ফজরের নামাযেও এরূপ করতেন।' (বোখারী) আরেক বর্ণনায়, তিনি আসরের নামাযেও এরূপ করতেন বলে বর্ণিত হয়েছে। (বোখারী)
0 comments:
Post a Comment
Thanks for your comments.