(২৫) খতমে কোরআনের অযুহাতে তারাবীহর নামাযে তাড়াহুড়া করাঃ রমজানের প্রত্যেক রাত্রে তারাবীহর নামায সুন্নত। বহু ইমাম অজ্ঞতার কারণে কোরআন খতমের নামে তাড়াহুড়া করে তারাবীহর নামায পড়ান। তারা রুকু, সাজদা ঠিকমত আদায় করেন না এবং তাসবীহও ঠিকমত পড়ার সুযোগ দেননা। বলা যায় তারা মোরগের ঠোঁকর মারেন। এগুলো নিষিদ্ধ এবং এ দ্রুততা শয়তানের কাজ। নামায ফরজ হোক আর নফল-সুন্নতই হোক, নামাযের কেরাত, রুকু-সাজদা ধীরে-সুস্থে আদায় করতে হবে এবং বিনয় ও খুশু রক্ষা করতে হবে। আয়াত এবং রুকু-সাজদার তাসবীহ ও দোআগুলোর অর্থের দিকে খেয়াল করতে হবে। নবী করীম (সঃ) এবং সাহাবায়ে কেরাম কিংবা ইমামগণ খতমের নামে তাড়াহুড়া করে তারাবীহ আদায় করেন নি। ইমাম ও মুসল্লীগণ মনে করেন যে, তাড়াতাড়ি না করলে মুসল্লীরা নামাযে অংশ নিতে চাইবে না, তাদের উচিত ঐ সকল মুসল্লীকে তারাবীহর ফজীলত বুঝানো। আল্লামা গাজালী (রঃ) বলেছেন, যারা নামাযের অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য রক্ষা ব্যতীত বাহ্যিক দিকগুলো বাস্তবায়ন করে, তাদের উদাহরণ হল, কোন বাদশাহকে মৃত প্রাণী উপহার দেয়া যার প্রাণ নেই। আর যে বাহ্যিক দিকগুলোতে ত্রুটি করে তার উদাহরণ হল, বাদশাহকে অঙ্গহীন কানা-খোঁড়া প্রাণী উপহার দেয়া। এ উভয় উপহারদানকারীই আল্লাহর অধিকার নষ্ট করার দায়ে শাস্তি ও আজাবের সম্মুখীন হবে।
মোটকথা, নামাযে প্রশান্তি, স্থিরতা ও ধীর-সুস্থ পরিবেশের অভাব হলে নামাযের বিরাট একটি রোকনের ঘাটতি দেখা দেয়। ফলে এ নামায বিশুদ্ধ হয় না। তাই এ জাতীয় নামায পড়িয়ে অসুস্থ ও বৃদ্ধসহ বিভিন্ন লোকদেরকে কষ্ট দেয়া ইমামের উচিত নয়। পবিত্র কোরআন এ জাতীয় নামাযকে মোনাফেকদের নামায হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেঃ
وَإِذَا قَامُوا إِلَى الصَّلَاةِ قَامُوا كُسَالَى يُرَاءُونَ النَّاسَ وَلَا يَذْكُرُونَ اللَّهَ إِلَّا قَلِيلا -
'তারা যখন নামাযে দাঁড়ায় তখন অলসের মত দাঁড়ায়, তারা লোক দেখানোর কাজ করে, তাদের খুব কম সংখ্যকই আল্লাহকে স্মরণ করে।' তাদের নামায মোমেনদের সে আকঙ্ক্ষিত নামায নয় যাদের সম্পর্কে আল্লাহ কোরআনে বলেছেন:
قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُوْنَ - الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَاشِعُوْنَ .
'সে মোমেনরাই সফল হয়েছে যারা নিজেদের নামাযে বিনয়ী।' (সূরা মোমেন: ১-২) তারাবীহ খুবই ফজীলতপূর্ণ নামায। তাই তা ভালভাবে আদায় করা দরকার।
0 comments:
Post a Comment
Thanks for your comments.