(৩৯) নামাযে নাড়াচাড়া করা: কেউ কেউ নামাযে দাঁড়িয়ে হাত দিয়ে বেশ কিছু কাজ করে। তাতে তার শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের নাড়াচাড়া হয়। এর উদাহরণ অনেক। যেমন (১) নাক পরিস্কার করা। এটা নামাযের বাইরেই অপসন্দনীয়, নামাযের ভেতর কিভাবে পসন্দনীয় হবে? (২) মাথা নাড়ানো।
(৩) পাগড়ী, টুপি ও মাথার রূমাল ঠিক করা। (৪) পকেটের জিনিস খুঁজে
দেখা। (৫) দাঁত পরিস্কার করা। (৬) ঘড়ি নাড়ানো কিংবা ঘড়ির দিকে তাকানো। (৭) দাঁড়ি নাড়াচাড়া করা। (৮) দু'আঙ্গুলের মাঝখানে সর্বদা মেসওয়াক রাখা।
এক ব্যক্তি সৌদী আরবের পরলোকগত প্রধান মুফতী শেখ আবদুল আযীয বিন বাজকে প্রশ্ন করেন যে, আমি নামাযে অধিক নাড়াচাড়াকারী ব্যক্তি। শুনেছি, তিনবার নাড়াচাড়া করলে নামায বাতিল হয়ে যায়। এ প্রশ্নের জবাবে শেখ বিন বাজ বলেন: মোমেনের জন্য নিয়ম হল, ফরজ, নফল ও সুন্নত নামাযে শারীরিক মানষিক বিনয় সহকারে নামায আদায় করা। কেননা,
আল্লাহ বলেছেন:
قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ - الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ
خَاشِعُونَ -
'মোমেনরা অবশ্যই সফল হয়েছে। যারা নামাযে বিনয়ী।' (সূরা মোমেনুন : ১-২) বিনয় ও প্রশান্তি নামাযের অপরিহার্য রোকন। নবী করীম (সঃ) ভুল নামায আদায়কারীকেও এ কথাই বলেছিলেন। তাই এটা ছাড়া নামায বিশুদ্ধ হবে না।
তবে, তিনটি কাজ করলে নামায বাতিল হবে বলে যে কথা প্রচলিত আছে, তা কিন্তু হাদীসে নেই। বরং সেটা কোন আলেমের কথা যার সমর্থনে কোন প্রমাণ নেই। তবে, নামাযে অপ্রয়োজনীয় কাজ ও নাড়াচাড়া করা মাকরূহ। যেমন, নাক ঝাড়া, দাঁড়ি নাড়ানো, কাপড়-চোপড় নাড়াচাড়া করা ইত্যাদি। বেশি বেহুদা কাজ দ্বারা নামায বাতিল হবে। তাই বিনয় ও প্রশান্তির লক্ষ্যে অল্প ও বেশি সব ধরনের নাড়াচাড়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
অল্প কাজ বা নাড়াচাড়া দ্বারা নামায বাতিল হবে না। বিচ্ছিন্ন-বিক্ষিপ্ত কাজ দ্বারাও নামায নষ্ট হবে না। এর প্রমাণ হল, একদিন নবী করীম (সঃ) নামাযরত অবস্থায় হযরত আয়েশার জন্য দরজা খুলে দেন।
আবু কাতাদার বর্ণিত হাদীসে এসেছে, একদিন নবী করীম (সঃ) লোকদের নামাযের ইমামতি করেন, তাঁর কাঁধে ছিল তাঁর মেয়ে যয়নাবের কন্যা উমামা। তিনি সাজদায় গেলে তাকে নিচে নামিয়ে রাখতেন এবং দাঁড়ালে আবার তাকে তুলে নিতেন।
0 comments:
Post a Comment
Thanks for your comments.