Thursday, August 13, 2026

অধিকাংশ সময় ছোট ছোট সূরা বা সংক্ষিপ্ত কেরাত পড়া

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ 
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

(৪৪) অধিকাংশ সময় ছোট ছোট সূরা বা সংক্ষিপ্ত কেরাত পড়া: নামাযে সূরা-কেরাতের পরিমাণ সম্পর্কে সুন্নত পদ্ধতির অনুসরণ না করে কেবলমাত্র সংক্ষিপ্তাকারে সূরা-কেরাত পড়ে নামায শেষ করা ঠিক নয়। শেখ এমাদ নামক জনৈক বুজুর্গের নামাযে সুন্নত পদ্ধতি অনুসরণে দীর্ঘ কেরাতের পর এক ব্যক্তি আর তাঁর পেছনে নামায না পড়ার অঙ্গীকার করে। শেখ এমাদ তা শুনে বলেন: কোন রাজা-বাদশাহর দরবারে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দেরী হলে কেউ ক্লান্ত-শ্রান্ত হয় না। বরং বাদশার সাহচর্য দীর্ঘ হওয়ায় খুশীর পরিমাণ বেড়ে যায়। কিন্তু দোজাহানের রব মহান আল্লাহর দরবারে একটু দেরী হলে এবং কেরাত লম্বা হলে আর সহ্য হয় না। মজলিশে দীর্ঘ আলোচনায় আমরা বিরক্ত হইনা। কিন্তু নামায দীর্ঘ হলে বিরক্ত হই। আল্লাহর কাছে আমাদের পানাহ চাওয়া দরকার।

কেউ কেউ নিম্নোক্ত হাদীসের কারণে নামায সংক্ষিপ্তকরার পক্ষে যুক্তি দেন। আবু হোরায়রা থেকে বর্ণিত। 'রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন: তোমাদের কেউ নামাযের ইমামতি করলে সে যেন সংক্ষেপে নামায আদায় করে। কেননা, মুসল্লীদের মধ্যে রয়েছে দুর্বল, রোগী বৃদ্ধ লোক।' (বোখারী)

আরেক হাদীসে নবী করীম (সঃ) দীর্ঘ নামাযের জন্য মোআজ বিন জাবালকে ভর্ৎসনা করে বার বলেন: 'তুমি কি ফেতনা সৃষ্টিকারী? তিনি তাঁকে মাঝারী ধরনের লম্বা সূরা পাঠের নির্দেশ দেন।'

হযরত আনাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: 'আমি নবী করীম (সঃ)-এর পেছনে ছাড়া সংক্ষিপ্ত অথচ এমন পূর্ণ নামায আর কারো পেছনে পড়িনি। o سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলে পরিমাণ দাঁড়াতেন যে, আমরা বলতাম, তিনি হয়তো সাজদায় যাওয়ার কথা ভুলে গেছেন। তারপর তিনি সাজদায় যেতেন এবং দু' সাজদার মাঝে পরিমাণ বসতেন, আমরা বলতাম যে, তিনি আরেক সাজদার কথা ভুলে গেছেন।

আল্লামা ইবনুল কাইয়েম (রঃ) বলেছেন, হযরত আনাসের বর্ণিত হাদীস দ্বারা নবী করীম (সঃ)-এর সংক্ষিপ্ত অথচ পরিপূর্ণ নামাযের অবস্থা আমরা বুঝতে পারি। অর্থাৎ নবী করীম (সঃ) কেয়াম কেরাত সংক্ষিপ্ত করতেন কিন্তু রুকু সাজদার মাঝে সোজা হওয়ার পূর্ণতা বিধান করতেন। ফলে একদিকে সংক্ষিপ্ত কেয়াম কেরাত এবং অন্যদিকে রুকু সাজদার মাঝে দীর্ঘ প্রশান্তির মাধ্যমে নামাযের পূর্ণতা সাধন করতেন। এর ফলে আনাসের মন্তব্যের সত্যতা প্রতিভাত হয় যে, 'আমি রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নামায অপেক্ষা এত সংক্ষিপ্ত অথচ এত পূর্ণ নামায আর দেখিনি।'

ইবনুল কাইয়েমের বিশ্লেষণ খুবই বিজ্ঞানসম্মত। কিন্তু আজকাল আমরা এর বিপরীত নামাযই দেখতে পাই। আমরা দেখি, লোকেরা কেয়াম কেরাত করলেও রুকু সাজদায় ঠোঁকর খায়। আবার কেউ কেউ কেয়াম-কেরাত এবং রুকু-সাজদার সব কিছুতেই মোরগের মত ঠোঁকর মারে।

হযরত মোআজকে সংক্ষিপ্তাকারে নামায পড়ার জন্য মহানবীর আদেশ মোরগের ঠোঁকর খাওয়া নামাযীদের সংক্ষিপ্ত নামাযের জন্য দলীল নয়। বরং এর অর্থ হল নামাযের রোকন ওয়াজিবগুলো প্রশান্তি সহকারে আদায় করা, তাকে বেশি দীর্ঘায়িত না করা কিংবা ঠোঁকর খাওয়ার মত সংক্ষেপ না করা।

হাম্বলী মাজহাবের অনুসারী আবদুল ওয়াহেদ মাকদেসী ফরজ নামাযে দাঁড়ালে বাম দিকে তিনবার থুথু ফেলে 'আউজুবিল্লাহিমিনাশ শায়তানির রাজীম' পড়ে শয়তান থেকে আশ্রয় চাইতেন, তারপর বড় করে তাকবীর বলতেন এবং সোবহানাল্লাহ পড়তেন। বর্ণনাকারী বলেন, 'তাঁর চেয়ে কাউকে এত উত্তম নামায, এত পরিপূর্ণ বিনয় খুশু' এবং সুন্দর কেয়াম, বসা রুকু করতে দেখিনি।'

নবী করীম (সঃ) নামাযে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মাত্রায় কেরাত পড়েছেন। এক বর্ণনায় এসেছে, তিনি প্রথম রাকাতে এত লম্বা কেরাত পড়তেন যে, একজন বাকী নামক স্থানে গিয়ে পেশাব-পায়খানা সেরে অযু করে এসে দেখত যে তিনি তখনও রুকুতে যাননি।

0 comments:

Post a Comment

Thanks for your comments.