(৪১) নামাযে ভাল পোশাক না পরা: নামাযে ভাল ও সুন্দর পোশাক পরা দরকার। অনেকেই এ বিষয়ে যথেষ্ট গাফলতি করে। তারা নামাযের সময় যেন-তেন একটা কাপড় পরেই নামায শেষ করে। কেউ একটা গেঞ্জি পরে, কেউ চাদর বা গামছা পরে এবং কেউ পুরাতন বা ছেঁড়া অথবা ময়লা কাপড় পরে। কেউ সম্পূর্ণ খালি গায়েও নামায পড়ে। অথচ এ পোশাক পরে তারা কেউ হাট-বাজার, অফিস-আদালত ও আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে যায় না। আল্লাহর দরবারের হাজিরা সেগুলো অপেক্ষা সর্বোত্তম সৌন্দর্যের দাবীদার। আল্লাহ নিজে সুন্দর, তিনি সৌন্দর্যকে পছন্দ করেন। তাই নামাযে সুন্দর ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক পরতে হবে। মসজিদ আল্লাহর ঘর। সে মসজিদে নিজের কাছে মওজুদ সর্বোত্তম পোশাক পরে হাজিরা দিতে হবে। নিম্নোক্ত আয়াতে আল্লাহ তাই নির্দেশ করেছেন।
يَا بَنِي آدَمَ خُذُوا زِيْنَتَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ -
'হে আদম সন্তান, তোমরা মসজিদে প্রত্যেক নামাযে তোমাদের সৌন্দর্য গ্রহণ কর।' (সূরা আরাফ-৩১)
এ আয়াতের মর্মানুযায়ী, নামাযের সময় মেসওয়াক করা, সুন্দর পোশাক পরা এবং খুশবু লাগানো শামিল রয়েছে। জুম'আ ও ঈদের নামাযে এ সুন্নতের প্রয়োজনীয়তা আরো বেশি।
আবদুল্লাহ বিন ওমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। 'রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন:
তোমাদের কেউ নামায পড়লে সে যেন তার দু'কাপড়ে নামায পড়ে। সৌন্দর্য প্রকাশের অগ্রাধিকার আল্লাহর জন্যই।' (তাহাওয়ী, বায়হাকী, তাবরানী)
৪২) একামতের সময় قَدْقَامَتِ الصَّلَاةُ বললে এর উত্তরে أَقَامَهَا اللَّهُ وَأَدَامَهَا বলা : যারা এটা বলেন, তাদের প্রমাণ হল, আবু উমামা কিংবা অন্য একজন সাহাবীর বর্ণিত হাদীস। সে হাদীসে এসেছে, 'বেলাল একামতের সময় যখন قَدْقَامَتِ الصَّلَاةُ বলতেন, নবী করীম (সঃ) বলতেন : أَقَامَهَا اللَّهُ وَاَدَامَهَا 'আল্লাহ নামাযকে কায়েম রাখুন ও স্থায়ী করুন।'(আবু দাউদ)
এ হাদীসটি দুর্বল। তাই এর উপর আমল করা যাবে না। মোনজেরী বলেছেন, হাদীসের সনদে একজন অজ্ঞাত রাবী রয়েছেন। তাছাড়াও সনদে শাহর বিন হাওশাব নামক বর্ণনাকারীকে একাধিক মোহাদ্দেস দুর্বল বলেছেন। সনদে মোহাম্মদ বিন সাবেতকে হাফেজ আজ-জাহাবী সত্যবাদী, তবে হাদীসের ব্যাপারে নমনীয় আখ্যায়িত করে তার বর্ণিত হাদীসকে অগ্রহণযোগ্য বলেছেন।
তবে এ ব্যাপারে দ্বিমতও রয়েছে। সৌদী আরবের সুপ্রিম ওলামা কাউন্সিলের সদস্য শেখ আবদুল্লাহ জিবরীন বলেছেন: আবু দাউদ এ হাদীসের সনদের ব্যাপারে মৌনতা অবলম্বন করেছেন। তিনি যে হাদীসের সনদের ব্যাপারে মৌনতা অবলম্বন করেন তা তাঁর কাছে প্রমাণ হিসেবে পেশ করার যোগ্য। পক্ষান্তরে, শাহর বিন হাওশাবকে ইমাম আহমদ ও ইয়াহ্ইয়া বিন মুঈন নির্ভরযোগ্য বলেছেন। তাছাড়া, এ বাক্যটি একটি দো'আ মাত্র। আর দো'আর ক্ষেত্র সম্প্রসারিত। তাতে স্থান, কাল ও পাত্রের বাধ্যবাধকতা নেই। তাই এ সময় কেউ ঐ বাক্য পড়ে নামাযের স্থায়ীত্বের জন্য দো'আ করলে কোন ক্ষতি নেই। এমনকি হাদীস দুর্বল হলেও না।
)80( قَدْقَامَتِ الصَّلَاةُ বলার আগ পর্যন্ত মোক্তাদীদের না দাঁড়ানোঃ ধারণা করা হয় যে, এটা সুন্নত। আসলে তা সুন্নত নয় এবং এ পর্যন্ত অপেক্ষা করাও ঠিক নয়। একামতের শুরুতেই দাঁড়িয়ে নামাযের প্রস্তুতি নেয়া দরকার। যারা قَدْقَامَتِ الصَّلَاةَ পর্যন্ত অপেক্ষা করেন তাদের প্রমাণ হল নিম্নোক্ত হাদীস। 'আওয়াম বিন হাওশাব আবদুল্লাহ বিন আবি আওফা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, যখন বেলাল (রাঃ( قَدْقَامَتِ الصَّلَاةُ বলতেন, তখন নবী করীম (সঃ) উঠে দাঁড়াতেন ও তাকবীর বলতেন।'
ইমাম আহমদ বলেছেন, হাদীসের সনদের বর্ণনাকারী আওয়াম বিন হাওশাব আবদুল্লাহ বিন আবি আওফার সাক্ষাত লাভ করেন নি। এদিকে ইবনে কাসীর বলেছেন, হাদীসটি মোনকাতে'। আর এ কারণে তা দুর্বল। সম্ভাবনা আছে যে, তা সনদের মাঝখানে কোন দুর্বল বর্ণনাকারী থেকে বর্ণিত হয়েছে।
এ ব্যাপারে ও মতভেদ আছে। কিছু কিছু ইমাম উপরে বর্ণিত হাদীসের উপর আমল করেছেন এবং একনা ও মোকনে কিতাবে (ফেকাহ) এর উল্লেখ করা হয়েছে।
0 comments:
Post a Comment
Thanks for your comments.