بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
ঝগড়া-বিবাদ মীমাংসার পর্ব
২২৬৭। হাদীসঃ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেন, আমি এক ব্যক্তিকে কুরআন পাকের একটি আয়াত এমনভাবে পড়তে শুনলাম, নবী কারীম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লা-হু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যা ভিন্নরুপে পড়তে শুনেছি। আমি হাত ধরে তাকে নবী কারীম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লা-হু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে নিয়ে আসলাম। তিনি আমাদের উভয়ের পাঠই শ্রবণ করে বললেন, তোমাদের দু’জনই ঠিক পড়েছ।
শো’বা (রঃ) বলেন, আমার মনে হয় তিনি বলেছিলেন, তোমরা বাদানুবাদ করো না, কারণ তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতগণ বাদানুবাদ করেই ধ্বংস হয়েছে।
২২৬৮। হাদীসঃ হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, দু’ব্যক্তি একে অপরকে গালি দিয়েছিল। তাদের একজন ছিল মুসলিম, অন্যজন ইয়াহুদী। মুসলিম লোকটি বলল, তার কসম, যিনি নবী কারীম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লা-হু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সমস্ত জগতের মধ্যে ফজিলত প্রদান করেছেন। আর ইয়াহুদী লোকটি বলল, সে সত্তার কসম, যিনি মূসা (রাঃ)-কে সমস্ত জগতের মধ্যে ফযীলত দান করেছেন। এ সময় মুসলিম ব্যক্তি নিজের হাত উঠিয়ে ইয়াহুদীর মুখে চড় মারল। এতে ইয়াহুদী ব্যক্তিটি নবী কারীম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লা-হু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গিয়ে তার এবং মুসলিম ব্যক্তিটির মধ্যে যা ঘটেছিল, তা তাকে অবহিত কলল। নবী কারীম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লা-হু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিম ব্যক্তিটিকে ডেকে আনলেন এবং এ ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞাসা করলেন। সে ঘটনা বলল। নবী কারীম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লা-হু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা আমাকে মূসা (আঃ)-এর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিও না। কারণ কিয়ামতের দিন সমস্ত মানুষ বেহুস হয়ে পড়বে, তাদের সাথে আমিও বেহুশ হয়ে পড়ব। তারপর সকলের আগে আমার হুশ আসবে, তখন (দেখতে পাবো) মূসা (আঃ) আরশের একপাশ ধরে রয়েছেন। আমি জানি না, তিনি বেহুশ হয়ে আমার আগে হুশে এসেছেন অথবা আল্লাহ তা’আলা যাদেরকে বেহুশ হওয়া থেকে রেহাই দিয়েছেন, তিনি তাদের মধ্যে ছিলেন।
0 comments:
Post a Comment
Thanks for your comments.