বইটি লেখার কারণ
আমি নামাযের ব্যাপারে ব্যাপক ভিত্তিক কোন বই না পাওয়ায় যে ভাইয়েরা নিজেদের ইবাদতে রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর চরিত্রকে অনুসরণ করতে চান, তাদের জন্য নামাযের তাকবীরে তাহরীমা থেকে তাসলীম, অর্থাৎ সালাম ফিরানো পর্যন্ত যথাসম্ভব রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নামাযের ব্যাপকভিত্তিক বর্ণনা সম্বলিত একখানা বই লেখার কর্তব্য অনুভব করি। এতে করে রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সঠিক প্রেমিকরা তাঁর এই আদেশ বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবেন:
صَلُّوا كَمَا رَأَيْتُمُونِي أَصَلَّى
অর্থঃ 'তোমরা আমাকে যেভাবে নামায পড়তে দেখ সেভাবে নামায আদায় কর।' (বোখারী, আহমদ)
তাই আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করে বিভিন্ন হাদীস গ্রন্থ থেকে নামায সংক্রান্ত হাদীসগুলো বাছাই করেছি। যার ফলশ্রুতিস্বরূপ এ বই আপনাদের সামনে বিদ্যমান। এ বিষয়ে আমি একটি শর্ত পূরণ করেছি। সেটি হচ্ছে, উসূলে হাদীসের বিধান মোতাবেক যে সকল হাদীসের সহীহ সনদ রয়েছে, আমি কেবলমাত্র সেগুলোকে এই বইতে এনেছি। দুর্বল ও অজ্ঞাত হাদীসগুলোকে যিকর, দোআ ও অন্যান্য অধ্যায়ে পৃথকভাবে বর্ণনা করেছি। আমার মতে, সহীহ হাদীস দ্বারা যে বিষয়টি প্রমাণিত, দুর্বল হাদীস দিয়ে তা প্রমাণ করার কোন প্রয়োজন নেই এবং এর কোন ফায়দাও নেই। দুর্বল হাদীস দ্বারা শুধু ধারণা' অর্জন করা যায়, নিশ্চিত জ্ঞান নয়। আর 'ধারণা' অগ্রাধিকারযোগ্য নয়। একথাই আল্লাহ কোরআন মজীদে বলেছেন,
وَإِنَّ الظَّنَّ لَا يُغْنِي مِنَ الْحَقِّ شَيْئًا (الجم - (۲۸)
২৮) অর্থ: 'ধারণা সত্যের ব্যাপারে কোন কাজে আসে না।' (সূরা আন নাজমঃ
রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন :إِيَّاكُمْ وَالظَّنَّ فَإِنَّ الظَّنَّ أَكْذِّبُ الْحَدِيثِ
অর্থঃ 'তোমরা ধারণা করা থেকে বেঁচে থাক। শুধু ধারণার ভিত্তিতে কথা বলা সবচেয়ে বড় মিথ্যা।' (বোখারী ও মুসলিম।)
আল্লাহ আমাদেরকে এর ভিত্তিতে ইবাদত করার নির্দেশ দেননি। বরং রসূলুল্লাহ (সঃ) তা থেকে আমাদেরকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন:
اتَّقُوا الْحَدِيثَ عَنِّى إِلَّا مَا عَلِمْتُمْ .. ( الترمذي واحمد)
অর্থ: 'তোমরা আমার হাদীস বলা থেকে দূরে থাক। তবে যা তোমরা জান তা ব্যতীত।' তিনি যখন দুর্বল হাদীস বলতে নিষেধ করেছেন, তাহলে এর উপর আমল নিষিদ্ধ হওয়া আরো বেশী যুক্তিসঙ্গত।
আমি এ বইটিকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছি। উপর ও নীচ। উপরের ভাগে হাদীসের 'মতন' সহ মূল, বক্তব্য পেশ করেছি। বিভিন্ন হাদীসের পৃথক পৃথক শব্দগুলোও ফায়দার জন্য উল্লেখ করেছি। আমি সনদে বর্ণনাকারী সাহাবীদের নাম খুব কমই উল্লেখ করেছি। উদ্দেশ্য হল, তা যেন সহজ-পাঠ্য হয়। নীচের অংশে উপরের অংশের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করেছি এবং হাদীসের সনদসহ বিভিন্ন সমালোচনা ও পর্যালোচনা করেছি। তাতে দুর্বল ও সহীহ হাদীস সম্পর্কে সুস্পষ্ট মতামত ব্যক্ত করেছি। এরপর আমি উদ্ধৃত হাদীস সম্পর্কে ওলামা ও মোহাদ্দেসীনে কেরামের মতামত উল্লেখ করেছি এবং তাদের দলীল-প্রমাণ বিস্তারিত আলোচনা করেছি। এর ভিত্তিতে আমি উপরের অংশে বর্ণিত সত্যের যথার্থতা নিরূপণ করেছি। এরপর আমি এমন কিছু মাসআলা উল্লেখ করেছি যেগুলোর ব্যাপারে কোন হাদীস পাওয়া যায় না। সেগুলো হচ্ছে, মুজতাহিদের গবেষণার ফসল এবং তা আমার এই বই-এর মূল বিষয়বস্তুর অন্তর্ভুক্ত নয়। আমি বইটির নামকরণ করেছি:
صِفَةٌ صَلَاةِ النَّبِيِّ (ص) مِنَ التَّكْبِيرِ إِلَى التَّسْلِيمِ كَأَنَّكَ
تراها -
(তাকবীরে তাহরীমা থেকে সালাম ফেরানো পর্যন্ত নবী (সঃ)-এর নামাযের বাস্তব নমুনা)
আল্লাহর কাছে প্রার্থনা, তিনি যেন বইটিকে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য একনিষ্ঠ ও ইখলাসপূর্ণ করেন এবং আমার মুমিন মুসলমান ভাইদের জন্য তাকে উপকারী বানিয়ে দেন। নিঃসন্দেহে তিনি সর্বাধিক শ্রোতা ও দোআ কবুলকারী।
0 comments:
Post a Comment
Thanks for your comments.