Friday, July 10, 2026

রাসুল সা: এর সালাত/নামাজ বইটিতে অনুসৃত পদ্ধতি

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ 
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

বইতে অনুসৃত পদ্ধতি

বই-এর বিষয়বস্তু যেহেতু রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর প্রদর্শিত নামায, সেহেতু এটা স্পষ্ট যে, আমি তাতে সুনির্দিষ্ট কোনো মাযহাবের বাঁধা-ধরা নিয়ম অনুসরণ করিনি। আমি অতীত বর্তমানের মোহাদ্দেসীনের গৃহীত পদ্ধতি অনুযায়ী কেবল রসূলুল্লাহ (সঃ) থেকে বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত বিষয়গুলোই উল্লেখ করেছি।

  (লাগৌরী إِمَامُ الْكَلَامِ فِيْمًا يَتَعَلَّقُ بِالْقِرَاءَةِ خَلْفَ الْإِمَامِ বই-এর ১৫৬ পৃষ্ঠায় লিখেছেন: কেউ যদি ফিক্হ এবং উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রে গভীর নিরপেক্ষভাবে দৃষ্টি দেয়, তাহলে দেখতে পাবে যে, ওলামায়ে কেরাম যে সকল মৌলিক অমৌলিক বিষয়ে মতভেদ পোষণ করেন, তাতে অন্যদের চাইতে মোহাদ্দেসীনে কেরামের মতামত অপেক্ষাকৃত বেশী শক্তিশালী। আমি যখন মতভেদগুলো পর্যালোচনা করি, তখন দেখি, মোহাদ্দেসীনে কেরামের মতামত বেশী ইনসাফপূর্ণ। কেননা, তাঁরা রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর ওয়ারিস।.")

একজন কবি কতই না উত্তম বলেছেন:

'হাদীসের অনুসারীরা রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর অনুসারী, যদিও তারা তাঁর সাহচর্য লাভ করেনি। কিন্তু তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাসের সাহচর্য লাভ করেছে।' (হাসান বিন মোহাম্মদ নাসওয়ায়ী কবিতা লিখেছেন। ফাযলুল হাদীস ওয়া আহলুহু-যিয়াউদ্দিন আলমাকদেসী।)

আল্লামা আসাবকী তাঁর ফতোয়ার ১ম খন্ডের ১৪৮ পৃষ্ঠায় লিখেছেন, মুসলমানদের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল নামায। প্রত্যেক মুসলমানের উচিত, নামাযের প্রতি অত্যধিক গুরুত্ব আরোপ করা এবং ঠিকমত নির্দিষ্ট সময়ে তা আদায় করা। তাতে বহু বিষয় আছে যাতে কোন মতভেদ নেই এবং কিছু কিছু বিষয়ে রয়েছে মতভেদ। এই মতভেদ থেকে বাঁচার জন্য সম্ভাব্য উপায়ে চেষ্টা করা দরকার। কিংবা রসূলুল্লাহ (সঃ) থেকে বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি দিয়ে তা গ্রহণ করার চেষ্টা করতে হবে। এরূপ করলে নামায সহীহ হবে এবং তা নেক আমলের অন্তর্ভুক্ত হবে যার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তোষ অর্জন করা যাবে। আমার দৃষ্টিতে দ্বিতীয় পদ্ধতিটিই গ্রহণ করা জরুরী। কেননা, এর মাধ্যমেই কেবল রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর অনুরূপ নামায পড়ার আদেশ কার্যকর করা সম্ভব।

শাস্ত্রের আশা করি, এ বইতে নামাযের ব্যাপারে হাদীস ও ফি মতভেদগুলোকে জমা করা হবে। অবশ্য তাতে একথা বলা থাকবে না যে, কোন্ কিতাব বা মাযহাব হক ও সত্যপন্থী। ইনশাআল্লাহ, এ বই-এর আমলকারী আল্লাহর হিদায়াতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবেন। যাদের ব্যাপারে আল্লাহ বলেছেন:

لِمَا اخْتَلَفُوا فِيْهِ مِنَ الْحَقِّ بِإِذْنِهِ وَاللَّهُ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ -

অর্থ: 'যে সত্য বিষয়ে তারা মতভেদ পোষণ করে আল্লাহ তা বাতলে দিয়েছেন। আল্লাহ যাকে চান সহজ-সরল পথ দেখান।' (সূরা আল বাকারা: ২১৩ আয়াত।)

আমি যখন নিজের জন্য সহীহ হাদীসকে আঁকড়ে ধরার নীতি গ্রহণ করি এবং এই বই সহ অন্যান্য ক্ষেত্রে তা প্রয়োগ করি, তখন আমার এই বিশ্বাস ছিল যে, এর ফলে সকল সম্প্রদায় ও মাযহাবের লোকদের সন্তুষ্ট করা যাবে না। বরং তাদের কেউ কেউ কিংবা অনেকে আমার বিরুদ্ধে সমালোচনা করবে। কিন্তু তাতে কি আসে-যায়? আমার এও ধারণা আছে যে, মানুষের সন্তোষ অর্জন করা সম্ভব নয়। রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ

مَنْ أَرْضَى النَّاسَ بِسَخَطِ اللَّهِ وَكُلَّهُ اللَّهُ إِلَى النَّاسِ

অর্থ: 'যে ব্যক্তি আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করে লোকদেরকে সন্তুষ্ট করে, আল্লাহ তাকে লোকদের প্রতি সোপর্দ করবেন।' (তিরমিযী। আমি শারহুল আকীদা আত্-তাহাওইয়ায় হাদীসটি বিস্তারিত আলোচনা করেছি।)

কবি কতই না উত্তম বলেছেন:

'আমি সমালোচকদের মুখ থেকে রক্ষা পাবো না, যদিও আমি উঁচু পাহাড়ের কোন গর্তে আশ্রয় নেই না কেন। কোন্ ব্যক্তি মানুষের কাছ থেকে নিরাপদ আছে? যদিও সে শকুনের দুই পাখার ভেতর আশ্রয় নিক না কেন?'

আমার এই বিশ্বাসই আমার জন্য যথেষ্ট যে, আমার এই পদ্ধতিই সঠিক। আল্লাহ মুমিনদেরকে এই পদ্ধতিই গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন এবং আমাদের প্রিয় নবী (সঃ)-ও একই পদ্ধতি বাতলে গেছেন। সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈ এবং পরবর্তী নেক লোকেরাও একই পন্থা অনুসরণ করেছেন। এদের মধ্যে প্রখ্যাত চার ইমামও রয়েছেন যাদের মাযহাবের সাথে বিশ্বের অধিকাংশ মুসলমান সংশ্লিষ্ট। সবাই সুন্নাহ তথা হাদীস আঁকড়ে ধরার বিষয়ে একমত এবং হাদীস বিরোধী বক্তব্য পরিহার করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সেগুলো যত মহান লোকের বক্তব্যই হোক না কেন। রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর মর্যাদা সর্বাধিক এবং তাঁর পথ যথার্থ ও সঠিক। তাই আমি তাদের পথ অনুসরণ করি, তাদের বক্তব্যের মূল্য দেই এবং হাদীস আঁকড়ে ধরার বিষয়ে তাদের নির্দেশ অনুসরণ করি। তাদের ঐ নির্দেশের ফলে আমার এই সহজ-সরল পথ গ্রহণ সহজ হয়েছে এবং অন্ধ তাকলীদ বা অনুসরণ থেকে রক্ষা পেয়েছি। আল্লাহ আমার পক্ষ থেকে তাদের সবাইকে উত্তম পুরস্কার দান করুন।

0 comments:

Post a Comment

Thanks for your comments.