নামায শুরুর দোআ
রসূলুল্লাহ (সঃ) নামাযে সূরা কিরাআত শুরুর আগে বিভিন্ন দোআ পড়তেন। ঐ সকল দোআয় তিনি মূলত আল্লাহর প্রশংসা, শ্রেষ্ঠত্ব ও গুণ-গান বর্ণনা করতেন। তিনি ভুল নামায আদায়কারী একজন সাহাবীকে শোধরানোর সময় বলেছিলেন, 'কোন ব্যক্তির নামায সেই পর্যন্ত পরিপূর্ণ হয় না, যে পর্যন্তনা সে (তাকবীর) আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব, (হামদ) প্রশংসা ও (সানা) গুণ-গান করে এবং পরে সাধ্য অনুযায়ী যতোটুকু সম্ভব কোরআন থেকে পাঠ করে। (বোখারী মুসলিম, ইবনে আবু শায়বা)
১. তিনি একেক সময় একেক দোআ পড়তেন। কোন কোন সময়
নিম্নোক্ত দোআ পড়তেন:
اللَّهُمَّ بَاعِدُ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَايَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ، اَللَّهُمَّ نَقِنِي مِنْ خَطَايَايَ كَمَا يُنَقَّى الثَّوبُ الْأَبْيَضُ مِنَ الدَّنَسِ، اللَّهُمَّ اغْسِلْنِي مِنْ خَطَايَايَ بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ -
অর্থঃ “হে আল্লাহ! আমার ও আমার গুনাহর মধ্যে সেরকম দূরত্ব সৃষ্টি করো যেমন দূরত্ব রয়েছে পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে। হে আল্লাহ! আমাকে গুনাহ থেকে এমনভাবে পরিষ্কার করে দাও যেমন করে সাদা কাপড়কে ময়লা থেকে ধবধবে পরিষ্কার করা হয়। হে আল্লাহ! আমাকে গুনাহ থেকে পানি, বরফ ও শীতলতা দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করে দাও।"
এ দোআটি পড়তেন তিনি ফরয নামাযে।(
২. তিনি ফরয, সুন্নত ও নফল নামাযে নিম্নোক্ত দোআও পড়েছেন:
وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَوتِ وَالْأَرْضَ حَنِيفًا مُّسْلِمًا وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ . الْعَالَمِينَ لَا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ - اللَّهُمَّ انْتَ الْمَلِكُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ وَبِحَمْدِكَ أَنْتَ رَبِّي وَأَنَا عَبْدُكَ ظَلَمْتُ نَفْسِي وَاعْتَرَفْتُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي ذَنْبِي جَمِيعًا إِنَّهُ لَا يُغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ وَاهْدِنِي لِأَحْسَنِ الْأَخْلَاقِ لَا يَهْدِي لِأَحْسَنِهَا إِلَّا أَنْتَ وَاصْرِفْ عَنِّى سَيِّنَهَا لَا يَصْرِفُ عَنِّي سَيِّئَهَا إِلَّا أَنْتَ لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ وَالْخَيْرُ كُلُّهُ فِي يَدَيْكَ وَالشَّرُّ لَيْسَ إِلَيْكَ وَالْمَهْدِي مَنْ هَدَيْتَ أَنَا بِكَ وَإِلَيْكَ لَا مَنْجَا وَلَا مَلْجَأَ مِنْكَ إِلَّا إِلَيْكَ تَبَارَ كُتَ وَتَعَالَيْتَ اسْتَغْفِرُكَ وَاتُوبُ إِلَيْكَ
অর্থঃ "আমি সঠিক সরল পথের অনুসারী মুসলিম হিসেবে আমার চেহারা সেই আল্লাহর দিকে ফিরালাম যিনি আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মোশরেকদের অন্তর্ভুক্ত নই। নিশ্চিয়ই আমার নামায, সুকৃতি ও কোরবানী, আমার জীবন ও মৃত্যু বিশ্বজগতের রব মহান আল্লাহর জন্য নিবেদিত। তাঁর কোনো শরীক নেই, আমাকে একাজেরই নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং আমি মুসলমানদের প্রথম। হে আল্লাহ! তুমি শাহানশাহ, তুমি ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই। আমি তোমার পবিত্রতা ও প্রশংসা বর্ণনা করছি। তুমি আমার রব এবং আমি তোমার গোলাম। আমি আমার আত্মার উপর যুলুম করেছি এবং আমার গুনাহ স্বীকার করছি। আমার সকল গুনাহ মাফ করে দাও। তুমি ছাড়া আর কেউ গুনাহ মাফকারী নেই। আমাকে সর্বোত্তম চরিত্রের পথ দেখাও। তুমি ছাড়া আর কেউ তা দেখাতে পারে না। আমাকে খারাপ চরিত্র থেকে দূরে রাখ। তুমি ছাড়া আর কেউ আমাকে তা থেকে দূরে রাখতে পারে না। আমি তোমার আনুগত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত এবং তোমার দীনের সাহায্য ও অনুসরণে সদা প্রস্তুত। সকল কল্যাণ তোমার হাতে। তোমার প্রতি কোনো মন্দ কাজের সম্বোধন করা যায় না। তুমি যাকে পথ দেখিয়েছ সেই হেদায়াত প্রাপ্ত। আমি তোমার সাথে আছি ও তোমার প্রতি আশাবাদী হয়ে আছি। তুমি ছাড়া আমার মুক্তি ও আশ্রয়ের কোনো জায়গা নেই। তুমি বরকতময় ও শ্রেষ্ঠ। আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাই এবং তাওবাহ করছি। (
৩. কখনো তিনি উপরোল্লিখিত দোআই পড়তেন সামান্য পরিবর্তন সহকারেঃ
أَنْتَ رَبِّي وَأَنَا عَبْدُكَ .
বাক্যটি বাদ দিতেন এবং নিম্নের বাক্যটি অতিরিক্ত যোগ করতেন: (
اللَّهُمَّ أَنْتَ الْمَلِكُ لَا إِلهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ وَبِحَمْدِكَ -
৪. কখনো তিনি উপরোক্ত দোআটি - وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ
পর্যন্ত পড়ে তারপর নিম্নের অংশটুকু যোগ করতেন:
اللهُمَّ اهْدِنِي لِأَحْسَنِ الْأَخْلَاقِ وَأَحْسَنِ الْأَعْمَالِ لَا يَهْدِى
لِأَحْسَنِهَا إِلَّا أَنْتَ وَقِنِي سَيِّئَ الْأَخْلَاقِ وَالْأَعْمَالِ لَا يَقِي سَيِّئَهَا إِلَّا أَنتَ .
অর্থঃ "হে আল্লাহ! আমাকে উত্তম চরিত্র ও উত্তম আমলের পথ দেখাও।
তুমি ছাড়া আর কেউ তা দেখাতে পারে না। আমাকে খারাপ চরিত্র ও আমল থেকে বাঁচাও, তুমি ছাড়া আর কেউ তা থেকে বাঁচাতে পারে না।" (
৫. তিনি কখনো কখনো এই দোআ পড়েছেন:
سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالَى جَدُّكَ وَلَا إِلَهَ غَيْرُكَ .
অর্থঃ "হে আল্লাহ! তুমি সকল ত্রুটি থেকে মুক্ত ও পবিত্র। আমরা সর্বদা তোমার প্রশংসা করি। তোমার নামের বরকত অনেক বেশি এবং তোমার সম্মান ও মর্যাদা অনেক উঁচু। তুমি ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই।"(
রসূলুল্লাহ (সঃ) এই দোআটি সম্পর্কে বলেছেন, আল্লাহর কাছে বান্দার সর্বাধিক প্রিয় বাক্য হলঃ (
سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ .
৬. রাত্রের নামাযে তিনি উপরোক্ত দোআর সাথে আরও একটু বাড়িয়ে বলতেন:
তিনবার لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ . এবং তিনবার পড়তেন। الله اكبر كَبِيرًا (আবু দাউদ, তাহাবী বিশুদ্ধ সনদ সহকারে)
৭. একবার এক সাহাবী এই দোআ পড়েন:
اللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا وَالْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيرًا وَسُبْحَانَ اللَّهِ بُكْرَةً واصِيلًا
অর্থঃ "আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ ও মহান, অত্যধিক প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং সকাল-সন্ধ্যায় তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করি।'
রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেন, আমি এটি শুনে দারুণ আনন্দিত হয়েছি। কারণ, এই দোআর ফলে আসমানের দরযা খুলে গেছে। (
৮. একজন সাহাবী নীচের দোআটি পড়েন:
الْحَمْدُ لِلَّهِ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ -
রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেন, আমি ১২ জন ফেরেশতাকে এ দোআ উপরে উঠানোর ব্যাপারে প্রতিযোগতিা করতে দেখেছি। (
৯. রসূলুল্লাহ (সঃ) রাত্রের নামাযে নিম্নের দোআগুলো পড়তেন:
اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ نُورُ السَّمَوتِ وَالْأَرْضِ وَمَنْ فِيْهِمْ وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ قَيِّمُ السَّمَوتِ وَالْأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ مَلِكُ السَّمَوتِ وَالْأَرْضِ وَمَنْ فِيْهِمْ وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ الْحَقُّ وَوَعْدُكَ حَقٌّ وَقَوْلُكَ حَقٌّ وَلِقَاءَكَ حَقٌّ وَالْجَنَّةُ حَقٌّ وَالنَّارِ حَقٌّ وَالسَّاعَةُ حَقُّ وَالنَّبِيُّونَ حَقٌّ وَمُحَمَّدُ حَقٌّ - اللَّهُمَّ لَكَ أَسْلَمْتُ وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ وَبِكَ آمَنْتُ وَإِلَيْكَ أَنْبَتَ وَبِكَ خَاصَمَتٌ وَإِلَيْكَ حَاكَمَتُ انْتَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ فَاغْفِرْ لِى مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَرْتُ وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي أَنْتَ الْمُقَدِّمُ وَأَنْتَ الْمُؤَخِّرُ أَنْتَ الْهِيْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ .
অর্থঃ "হে আল্লাহ! সমস্ত প্রশংসা তোমার, তুমি আসমান, যমীন এবং উভয়ের মধ্যে যারা আছে তাদের জন্য আলো। সমস্ত প্রশংসা তোমার, তুমি আসমান ও যমীন এবং উভয়ের মধ্যে যা আছে তাদের রক্ষক ও হেফাযতকারী। সমস্ত প্রশংসা তোমার, তুমি আসমান ও যদীন এবং ঐ উভয়ের মধ্যে যারা আছে তাদের বাদশাহ। সমস্ত প্রশংসা তোমার, তুমি সত্য, তোমার ওয়াদা সত্য, কথা সত্য, তোমার সাথে সাক্ষাত হওয়া সত্য, বেহেশত। সত্য, দোযখ সত্য, কেয়ামত সত্য, নবীরা সত্য এবং নবী মোহাম্মদ সত্য।. হে আল্লাহ! তোমার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যেই ইসলাম গ্রহণ করেছি, তোমার উপর নির্ভর করেছি, তোমার উপর ঈমান এনেছি, তোমার দিকে ফিরে এসেছি, তোমার উদ্দেশ্যে বিরোধ করেছি এবং তোমার বিধান মতো ফয়সালা করেছি। তুমি আমাদের রব এবং তোমার কাছেই আমাদেরকে ফিরে যেতে হবে। আমাদের অতীত ও ভবিষ্যতের গুনাহ মাফ কর, প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য ত্রুটি ক্ষমা কর এবং আমার বিষয়ে যা তুমি জান তাও মাফ কর। তুমিই প্রথম এবং তুমিই শেষ। তুমি আমার মাবুদ, তুমি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই।"(বোখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, আবু আওয়ানা, দারেমী, ইবনু নসর)
১০. اللَّهُمَّ رَبَّ حِبْرَائِيلٌ وَمِيكَائِيلَ وَإِسْرَائِيلَ، فَاطِرَ السَّمَوتِ وَالْأَرْضِ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ أَنْتَ تَحْكُمُ بَيْنَ عِبَادِكَ فِيْمَا كَانُوا فِيهِ يَخْتَلِفُوْنَ لِمَا اخْتُلِفَ فِيْهِ مِنَ الْحَقِّ بِإِذْنِكَ إِنَّكَ تَهْدِي مَنْ تَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ
অর্থঃ "হে আল্লাহ! জিবরাঈল, মিকাঈল ও ইসরাফীলের রব, আসমান ও যমীনের স্রষ্টা এবং প্রকাশ্য ও গোপন বিষয়ের জ্ঞানী; তুমিই বান্দাদের মতবিরোধপূর্ণ বিষয়ে তাদের মধ্যে ফয়সালা করে থাক। তোমার অনুগ্রহে আমাকে মতবিরোধকৃত সত্যের ব্যাপারে সঠিক পথ দেখাও। তুমিই যাকে ইচ্ছা সহজ-সরল পথ দেখাও।(
১১. রসূলুল্লাহ (সঃ) ১০ বার তাকবীর (আল্লাহু আকবার), ১০ বার আল্লাহর প্রশংসা (আলহামদু লিল্লাহ), ১০ বার আল্লাহর পবিত্রতা (সুবাহানাল্লাহ), ১০ বার লাইলাহা ইল্লাল্লাহু বলতেন এবং ১০ বার গুনাহ মাফ (ইস্তেগফার) চাইতেন। তারপর ১০ বার বলতেন:
اللهُمَّ اغْفِرْ لِي وَاهْدِنِي وَارْزُقْنِي وَعَافِنِي
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমাকে মাফ কর, হেদায়াত দাও, রিযক দাও এবং সুস্থতা দাও।
এরপর ১০ বার বলতেন:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُبِكَ مِنَ النِّيقِ يَوْمَ الْحِسَابِ -
অর্থঃ "হে আল্লাহ! আমি হাশরের হিসাব-নিকাশের দিনের সংকীর্ণতা ও কষ্ট থেকে তোমার আশ্রয় চাই।"(
১২. রসূলুল্লাহ (সঃ) তিনবার اَللَّهُ أَكْبَرُ বলে আরো বলতেনঃ ذُو الْمَلَكَوْتِ وَالْجَبَرُوتِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْعَظْمَةَ .
অর্থঃ "আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, শক্তি ও কুদরত, কঠোরতা, গর্ব এবং মহত্ত্বের মালিক।" (
0 comments:
Post a Comment
Thanks for your comments.