ইমামের প্রকাশ্য কেরাআতে মুকতাদি কেরাআত পড়বে না
রসূলুল্লাহ (স) মুক্তাদীদেরকে প্রথম দিকে প্রকাশ্য কেরাআত বিশিষ্ট নামাযে ইমামের পেছনে কোরআন পড়ার অনুমতি দিয়েছিলেন। একদিন ফজরের সময় তিনি কেরাআত পড়েন এবং তা তাঁর জন্য কষ্টকর হয়ে পড়ে।
নামায শেষে তিনি জিজ্ঞেস করেন: "তোমরা সম্ভবত ইমামের পেছনে কেরাআত পড়! আমরা বললাম, হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা দ্রুত কেরাআত পড়ি। তিনি বললেন, তোমরা এরূপ কর না। তবে কেউ ইচ্ছা করলে শুধু সূরা ফাতেহা পড়তে পারে। কারণ যে ব্যক্তি নামাযে সূরা ফাতেহা না পড়ে, তার নামায নেই।(
এরপর তিনি 'সকল প্রকাশ্য কেরাআত বিশিষ্ট নামাযে ইমামের পেছনে মুক্তাদীর পড়া নিষিদ্ধ করেন। কেননা একবার তিনি প্রকাশ্য কেরাআত বিশিষ্ট নামায শেষে (এক বর্ণনায় তা ছিল ফজরের নামায) জিজ্ঞেস করেন, তোমরা কি আমার সাথে নামাযে কেরাআত পড়েছিলে? এক ব্যক্তি বলল, হাঁ, 'আমি, হে রসূলুল্লাহ! তিনি বললেন, অন্যরা যখন কেরাআত পড়ে, তখন আমি কেন আর কেরাআত পড়বো? রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর ঐ কথা শুনে লোকেরা প্রকাশ্য কেরাআত বিশিষ্ট নামাযে কেরাআত পড়া সম্পূর্ণ ত্যাগ করেন এবং শুধুমাত্র ইমামের অপ্রকাশ্য কেরাআত বিশিষ্ট নামাযে মনে মনে কেরাআত পড়েন।(
ইমামের কেরাআতের সময় চুপ করে থাকাকে ইমামের পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেন 'অনুকরণের উদ্দেশ্যে ইমাম নিয়োগ করা হয়েছে। ইমাম তাকবীর বললে তোমরাও তাকবীর বলবে এবং ইমাম কেরাআত পড়লে তোমরা চুপ করে থাকবে।(
ইমামের পেছনে কেরাআত পড়ার পরিবর্তে কেরাআত শুনাকে যথেষ্ট বিবেচনা করা হয়েছে। রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন: যার ইমাম আছে, ইমামের কেরাআতই তার কেরাআত। (
এটা হচ্ছে, প্রকাশ্য কেরআত বিশিষ্ট নামাযের বিধান।
0 comments:
Post a Comment
Thanks for your comments.