Friday, July 17, 2026

ইমামের অপ্রকাশ্য কেরাআতে মুকতাদী কেরাআত পড়বে

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ 
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

ইমামের অপ্রকাশ্য কেরাআতে মুকতাদী কেরাআত পড়বে

সাহবায়ে কেরাম অপ্রকাশ্য কেরাআত বিশিষ্ট নামাযে কেরাআত পড়ার বিষয়টি অনুমোদন করেছেন। জাবের (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আমরা যোহর ও আসরের নামাযের প্রথম দুই রাকআতে ইমামের পেছনে সূরা ফাতেহা ও একটি সূরা এবং শেষ দুই রাকআতে শুধুমাত্র সূরা ফাতেহা পড়তাম। (ইবনু মাজাহ-সনদ বিশুদ্ধ) তবে রসূলুল্লাহ (সঃ) কেবলমাত্র আওয়াজকে অপছন্দ করেছেন। سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ (কেরাআত পড়াকে নয়)। একবার যোহরের নামায পড়ার সময় তিনি সাহাবায়ে কেরামকে জিজ্ঞেস করেন, তোমাদের মধ্যে কে الأَعْلَى পড়েছে? একজন জওয়াবে বলেন, 'আমি'। তবে 'আমি ভাল ছাড়া অন্য কারণে তা করিনি।' তিনি বললেন, আমি বুঝতে পেরেছি একজন নামাযে আমার, সাথে কেরাআত নিয়ে টানা-হেঁচড়া করছিল।(মুসলিম, আবু আওয়ানা এবং আস-সেরাজ) অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, তারা নবী করীম (সঃ)-এর পেছনে জোরে কেরাআত পড়তেন। তখন তিনি বলেন, তোমরা আমার কোরআন পড়ায় বাধা সৃষ্টি করেছ। (বোখারী, আহমদ এবং আস-সেরাজ বিশুদ্ধ সনদ সহকারে)

রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন: নামাযী ব্যক্তি আল্লাহর সাথে গোপনে কথা বলে। সে কার সাথে গোপনে কথা বলে তা খেয়াল করা উচিত। তোমরা একে অন্যের কেরাআতের সময় জোরে কেরাআত পড়বে না।(মালেক, বোখারী বিশুদ্ধ সনদ সহকারে আফআলুল ইবাদ গ্রন্থে)

তিনি আরো বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি অক্ষর পাঠ করে তার জন্য রয়েছে ১টি কল্যাণ বা সওয়াব। প্রতিটি নেক কাজের ১০ গুণ বিনিময় দেয়া হয়। আমি বলি না যে, আলিফ-লাম-মীম একটি অক্ষর। বরং আলিফ একটি অক্ষর, লাম একটি অক্ষর এবং মীম একটি অক্ষর। (তিরমিযী, ইবনে মাজাহ বিশুদ্ধ সনদ সহকারে)

নিম্নের হাদীসটি মিথ্যা: যে ব্যক্তি ইমামের পেছনে কেরাত পড়ে আগুন দ্বারা তার মুখ ভর্তি করে দেয়া হবে।' এটি সিলসিলাতুল আহাদীস আছ দাইফা গ্রন্থের ৫৬৯ নং হাদীস।

নোট: অপ্রকাশ্য কেরাআত বিশিষ্ট নামাযে মুকতাদীর কেরাআত পড়ার পক্ষে ইমাম শাফেঈ, ইমাম আবু হানীফার ছাত্র ইমাম মোহাম্মদ (এক রেওয়ায়াতে) ইমাম যুহরী, মালেক, ইবনুল মোবারক, আহমদ বিন হাম্বল এবং ইবনে তায়মিয়া মত দিয়েছেন।

0 comments:

Post a Comment

Thanks for your comments.