সূরা ফাতেহার পর রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর কেরাআত
রসূলুল্লাহ (সঃ) সূরা ফাতেহার পর অন্য সূরা পড়তেন। কখনও সূরাটি দীর্ঘ করতেন এবং কখনও বিভিন্ন কারণে সংক্ষিপ্ত করতেন। যেমন, সফর, সর্দি-কাশি, অন্যান্য রোগ-শোক ও শিশুর কান্না ইত্যাদি সময় সংক্ষেপ করতেন।
আনাস বিন মালেক (রাঃ) বলেছেন, রসূলুল্লাহ (সঃ) একদিন ফজরের নামায সংক্ষিপ্ত কেরাআত সহকারে পড়েন। অন্য আরেক হাদীসে আছে,
নোট: মুকতাদীরা ইমামের পেছনে জোরে ইমামের সাথে আমীন বলবে। ইমামের আগে কিংবা পরে আমীন না বলে একই সাথে বলতে হবে। বিষয়টি আমি আমার বিভিন্ন কিতাবে বিস্তারিত পর্যালোচনা করেছি। এর মধ্যে সিলসিলাতিল আহাদীস আযযাঈফা এবং সহীহ আত্তারগীব ওয়াত তারহীব অন্যতম।
একদিন রসূলুল্লাহ (সঃ) ফজরের নামায পড়েন এবং তাতে কোরআনের সবচাইতে ছোট ২টা সূরা পড়েন। তখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হল, হে আল্লাহর রসূল! আপনি কেন এতো সংক্ষেপ করেছেন? তিনি বলেন, আমি শিশুর কান্না শুনতে পেয়েছি।
(১২৩-খ. এই হাদীসসহ এজাতীয় অন্যান্য হাদীস প্রমাণ করে যে, শিশুদেরকে মসজিদে আনা জায়েয আছে। শিশুদেরকে মসজিদে না আনার ব্যাপারে মুখে মুখে যে হাদীস প্রচলিত আছে, তা দুর্বল এবং তা দলীল হিসেবে পেশ করা যোগ্য নয়। হাদীসটি হচ্ছে, 'তোমাদের মসজিদ থেকে শিশুদেরকে দূরে রাখ।' ইবনুল জাওযী, আলমোনযেরী, আল হায়ছামী, ইবনে হাজার আসকালানী এবং আলবোসাইরী এটিকে দুর্বল হাদীস বলেছেন। আবদুল হক ইসবেলী একে ভিত্তিহীন বলেছেন।)
তখন আমি ভাবলাম যে, তার মা আমাদের সাথে নামায পড়ছে। আমি তার মাকে তার জন্য তাড়াতাড়ি অবসর করে দিলাম। (
তিনি আরো বলেন, আমি নামায শুরু করার পর যখন দীর্ঘ কেরাআতের ইচ্ছা করি, তখন শিশুর কান্না শুনতে পাই। ফলে আমি কেরআত সংক্ষিপ্ত করি। কেননা, আমি শিশুর কান্নায় মায়ের গভীর উদ্বিগ্নতার কথা অনুভব করি।(
তিনি কখনও সূরার প্রথম থেকে শুরু করে অধিকাংশ সময় তা শেষ করতেন।(এ ব্যাপারে পরে অনেক হাদীস উল্লেখ করা হবে) তিনি বলতেন, প্রত্যেক সূরাকে তার রুকু ও সাজদার অংশ দাও।(ইবনু আবী শায়বা, আহমদ, আবদুল গনি আল-মাকদেসী) অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, প্রত্যেক সূরার জন্য এক রাকআত। অর্থাৎ প্রত্যেক রাকআতে একটি করে সূরা পড়া উত্তম। (
কোন সময় তিনি এক সূরাকে দুই রাকআতে ভাগ করে পড়তেন।(আহমদ, আবু ইয়ালী) আবার কোন সময় একই সূরাকে দ্বিতীয় রাকআতেও পুনরাবৃতিও করতেন। (
কখনও তিনি একই রাকআতে দুই বা ততোধিক সূরা পড়তেন।(
এক আনসারী সাহাবী মসজিদে কুবায় ইমামতি করতেন। তিনি সূরা ফাতেহা পড়ার পর সূরা ইখলাস পড়তেন। তারপর অন্য আরেকটি সূরা
পড়তেন। তিনি প্রত্যেক রাকআতে এরূপ করতেন। তাঁর সাথীরা তাকে এ বিষয়ে বলেন যে, তুমি এই সূরা দিয়ে নামায শুরু করার পর ভাব যে, তা যথেষ্ট নয়, তাই তুমি অন্য আরেকটি সূরা মিলাও। হয় তুমি এই সূরাই (ইখলাস) পড়বে, না হয় তা বাদ দিয়ে অন্য আরেকটি সূরা পড়বে। তিনি বললেন, আমি তা কখনও ছাড়বো না। তোমরা চাইলে আমি এই সূরা সহকারে তোমাদের ইমামতি করতে পারি। আর তোমরা অপছন্দ করলে আমি ইমামতি ছেড়ে দিতে পারি। অথচ তাদের দৃষ্টিতে তিনি ছিলেন তাদের মধ্যে উত্তম ব্যক্তি এবং তারা তাকে ব্যতীত অন্য কাউকে ইমাম বানাতে অপছন্দ করতেন। নবী করীম (সঃ) তাদের কাছে আসলে তারা তাঁকে বিষয়টি জানান। তিনি জিজ্ঞেস করেন, হে অমুক! তোমার সাথীরা যা করার জন্য বলে তা করতে তোমার বাধা কি এবং কোন্ জিনিস তোমাকে ঐ সূরাটি প্রত্যেক রাকআতে পড়তে উদ্বুদ্ধ করে? লোকটি জওয়াব দেয়, আমি সূরাটি (সূরা ইখলাস) ভালবাসি। রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেন, ঐ সূরাটির প্রতি ভালবাসা তোমাকে বেহেশতে প্রবেশ করিয়ে দিয়েছে।(বোখারী, তিরমিযী)
0 comments:
Post a Comment
Thanks for your comments.