Saturday, July 18, 2026

সুন্দর আওয়াজ ও তারতীল সহকারে কেরাআত পাঠ এবং রসূলুল্লাহ (সঃ)- সুন্দর আওয়াজে বা সুরে কোরআন পড়ার নির্দেশ

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ 
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

সুন্দর আওয়াজ ও তারতীল সহকারে কেরাআত পাঠ

আল্লাহ তারতীল (ধীরে ধীরে ও সুন্দর করে) সহকারে কোরআন পড়ার যে নির্দেশ দিয়েছেন সেই আলোকে রসূল (সঃ) আস্তে আস্তে সুন্দর আওয়াযে কোরআন পাঠ করতেন। তিনি না খুব বেশী ধীরগতিতে পড়তেন, না দ্রুতগতিতে পড়তেন। বরং তিনি প্রতিটি অক্ষর সুস্পষ্ট করে পাঠ করতেন। তিনি এমন ভাবে তারতীল করে পাঠ করতেন তাতে যেন দীর্ঘ সূরা আরও অধিকতর দীর্ঘ হয়ে যেত।(মুসলিম, মালেক)

তিনি বলেন, কোরআনের পাঠককে বলা হবে, তুমি দুনিয়ায় যে রকম তারতীল সহকারে কোরআন পাঠ করেছ ঠিক তেমনি ভাবে কোরআন পড় এবং উপরে উঠো। তোমার পঠিত শেষ আয়াতের উপর তোমার মর্যাদা নির্ধারিত হবে। (আবু দাউদ। তিরমিযী এটিকে সহীহ বলেছেন)

তিনি যেখানে মাদের অক্ষর আছে, সেখানে লম্বা করে টেনে পড়তেন।

الرَّحِيمِ - الرَّحْمَنِ - بِسْمِ اللهِ FOR পড়তেন। তিনি মাদের হরফে মাদ আদায় করে লম্বা করে পড়তেন। (বোখারী, 'স্মাবু দাউদ)

তিনি প্রতিটি আয়াতের শেষে ওয়াক্ফ করতেন বা থামতেন। সূরা ফাতেহায় এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তিনি কখনও লম্বা ও গুনগুন সুরে কোরআনের আয়াত পাঠ করতেন। এটাকে 'তারজী' বলা হয় (যেমনটি আযানে দেখা যায়।) তিনি মক্কা বিজয়ের দিন উষ্ট্রীর পিঠে নরম সুরে তারজী' সহকারে সূরা ফাতহ পড়েছিলেন। (বোখারী ও মুসলিম)

আবদুল্লাহ বিন মোগাফ্ফাল রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর তারজী' নিম্নরূপ বর্ণনা করেছেন।

।।। (তিন আলিফ) এর ব্যাখ্যায় বলেছেন প্রথম হামজার উপর ফাতাহ্ এরপর আলিফ সাকিন এবং তারপর অন্য আরেকটি হামজাহ। মোল্লা আলী কারীও অন্য এক সূত্র থেকে একই কথা বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি বলেছেন, এটা পরিষ্কার যে, এখানে ৩টা লম্বা আলিফ রয়েছে।

রসূলুল্লাহ (সঃ)- সুন্দর আওয়াজে বা সুরে কোরআন পড়ার নির্দেশ

দিয়েছেন। তিনি বলেছেন:

زَيَّنُوا الْقُرْآنَ بِأَصْوَاتِكُمْ فَإِنَّ الصَّوتَ الْحَسَنَ يَزِيدُ الْقُرْآنَ

حَسَنًا .

অর্থ: 'তোমরা কোরআনকে সুললিত কণ্ঠে পড়। সুন্দর সুর কোরআনের সৌন্দর্য বাড়ায় (বোখারী, আবু দাউদ, দারেমী, হাকেম, তাম্মাম, আররাযী-সনদ সহীহ)

তিনি আরো বলেছেন,

إِنَّ مِنْ أَحْسَنِ النَّاسِ صَوْتًا بِالْقُرْآنِ الَّذِي إِذَا سَمِعْتُمُوهُ يقْرَأُ حَسِبْتُمُوهُ يَخْشَى اللَّهَ .

অর্থ: সেই ব্যক্তির কোরআন পড়ার সুর সর্বোত্তম, যার কোরআন পড়া শুনলে তোমাদের ধারণা হবে যে, লোকটি আল্লাহকে ভয় করে। (হাদীসটি সহীহ। ইবনু মোবারক, আযযোহদ ১/১৬২, দারেমী, ইবনু নসর, তাবারানী, আবু নাঈম-আখবার ইসপাহান এবং আযযিয়া-আল্ মোখতারা গ্রন্থে তা বর্ণনা করেছেন)

রসূলুল্লাহ (সঃ) গুনগুন সুরে কোরআন পড়ার আদেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, 'তোমরা আল্লাহর কিতাব শিখ, ভাল করে তা আঁকড়ে ধর ও অনুসরণ কর এবং ললিত-কোমল সুরে তা পড়। আল্লাহর শপথ, উটকে রশি দিয়ে বেঁধে রাখার চাইতেও কোরআন মনে রাখা আরও কঠিন। (দারেমী, আহমদ-সনদ সহীহ)

তিনি বলেছেন - لَيْسَ مِنَّا مَنْ لَّمْ يَتَغَنَّ بِالْقُرْآنِ “সে ব্যক্তি আমাদের নয়, যে সুন্দর সুরে কোরআন পড়ে না।" (আবু দাউদ। হাকেম ও আল্লামা যাহাবী একে সহীহ বলেছেন)

তিনি আরও বলেছেন, 'আল্লাহ কোন নবীর সুন্দর সুরে কিতাব পড়া অপেক্ষা অন্য কোন জিনিস বেশী শুনেন না। নবী শব্দ করে সুললিত কণ্ঠে কোরআন পড়বেন। (বোখারী, মুসলিম, তাহাবী, ইবনে মান্দাহ-আত-তাওহীদ ১/৮১ পৃঃ)

রসূলুল্লাহ (সঃ) আবু মূসা আশআরীকে বলেছেন, আমি গত রাতে তোমার কেরাআত শুনেছি, তুমি যদি আমাকে দেখতে! তোমাকে দাউদ (আঃ)-এর মত সুন্দর কণ্ঠ বা সুর দেয়া হয়েছে। আবু মূসা বলেন, আমি আপনার উপস্থিতি টের পেলে আরও সুন্দর সুরে পাঠ করতাম। (আবদুর রায্যাক-আল-আমালী, বোখারী, মুসলিম, ইবনু নসর, হাকেম)

0 comments:

Post a Comment

Thanks for your comments.