(১৮) নামাযে এদিক-সেদিক দেখা: বিনা প্রয়োজনে এদিক-সেদিক তাকানো যাবে না। হযরত আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। 'আমি রসূলুল্লাহ (সঃ)-কে নামাযে এদিক-সেদিক দেখার ব্যাপারে প্রশ্ন করি। তিনি উত্তরে বলেনঃ এটা হচ্ছে বান্দাহর নামায থেকে শয়তানের ছোঁ মারা।' (বোখারী)
নবী করীম (সঃ) বলেছেন: 'তোমরা যখন নামায পড়বে তখন এদিক-সেদিক দেখবে না। বান্দাহ যে পর্যন্ত নামাযে এদিক-সেদিক না তাকায় সে পর্যন্ত আল্লাহ নিজ চেহারা তার চেহারার দিকে নিবদ্ধ রাখেন।'(তিরমিজী, হাকেম)
আবু হোরায়রা থেকে বর্ণিত। 'নবী করীম (সঃ) নামাযে তিন জিনিস নিষেধ করেছেন। (১) মোরগের মত সাজদায় ঠোঁকর খাওয়া। (২) কুকুরের মত বসা এবং (৩) শিয়ালের মত এদিক-সেদিক তাকানো।'(আহমদ, আবু ইয়ালী)
আবু জার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেন: বান্দাহর নামাযের সময় আল্লাহ তার দিকে মুখ করে থাকেন যতক্ষণ না সে এদিক-সেদিক দেখে, যখন সে এদিক-সেদিক দেখে, আল্লাহ তার থেকে নিজ মুখ ফিরিয়ে নেন। (আবু দাউদ)
কোন প্রয়োজন দেখা দিলে এদিক-সেদিক তাকানো যায়। এর প্রমাণ হল, বোখারী শরীফে বর্ণিত সহল বিন সা'দ আস-সায়েদীর হাদীস। 'নবী করীম (সঃ) বনি আমর বিন আওফ গোত্রে তাদের মধ্যে আপোষ-রফার জন্য গেলেন। নামাযের সময় হওয়ায় মোআজ্জিন এসে আবু বকর (রাঃ)-কে বলেন, আপনি যদি নামায পড়ান তাহলে আমি একামত দিতে পারি। আবু বকর (রাঃ) নামায পড়াতে লাগলেন। ইতিমধ্যে নবী করীম (সঃ) আসেন এবং কাতারের মধ্যে দাঁড়ান। লোকেরা হাত তালি দেয়। আবু বকর (রাঃ) নামাযে কখনও এদিক-সেদিক তাকাতেন না। লোকদের তালির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় তিনি পেছন ফিরে রসূলুল্লাহ (সঃ)-কে কাতারে দেখেন। নবী করীম (সঃ) তাঁকে ইমামতির জন্য নিজ স্থানে অবস্থানের উদ্দেশ্যে হাত দিয়ে ইশারা করেন।... হাদীসের শেষাংশে আছে, 'তিনি বলেন, আমি তোমাদেরকে হাতে তালি দিতে দেখলাম কেন? নামাযে ইমামের সংশোধনের প্রয়োজন অনুভব করলে তাসবীহ (সোবহানাল্লাহ) বলবে। তাসবীহ বললে তাসবীহর প্রতি খেয়াল করা হবে। আর হাতে তালি তো মহিলাদের জন্য।'
হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী বলেছেন: এ হাদীসে 'প্রয়োজন হলে এদিক-সেদিক তাকানো এবং মুসল্লী কর্তৃক কথা বলার চেয়ে হাতে ইশারা করা উত্তম' বলে জায়েয প্রমাণিত হয়।
0 comments:
Post a Comment
Thanks for your comments.