Wednesday, August 12, 2026

নামাযের ফরজ রোকনগুলো আদায়ে ইমামের তাড়াহুড়া এবং সামনের কাতারে জায়গা খালি থাকা সত্ত্বেও পেছনে আলাদা কাতার তৈরি করা

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ 
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

(১৯) নামাযের ফরজ রোকনগুলো আদায়ে ইমামের তাড়াহুড়া: রুকু সাজদাসহ বিভিন্ন রোকন এত তাড়াহুড়া করে আদায় করা যে, মুক্তাদীর পক্ষে তিনবার তাসবীহ পড়া সম্ভব হয় না বরং ইমামকে ধীরে সুস্থে রোকনগুলো আদায় করতে হবে যেন মুসল্লীরা তার পেছনে তা ঠিকমত অনুসরণ করতে পারে।

(২০) সামনের কাতারে জায়গা খালি থাকা সত্ত্বেও পেছনে আলাদা কাতার তৈরি করা: এটা দুই কারণে করা হয়ে থাকে। তাড়াতাড়ি রুকু ধরা কিংবা অলসতার কারণে সামনে অগ্রসর না হওয়া। এর ফলে সামনের কাতারে ফাঁক থেকে যায়। কেননা, সে নিজে আলাদা আরেকটি কাতার তৈরি করেছে। বিচিত্র নয় যে, এরপর অন্য মুক্তাদীরাও তার পদাঙ্ক অনুসরণ করবে। তখন কাতারের দুই পাশ অপূর্ণ থাকবে। নিম্নের হাদীসের কারণে তা নাজায়েয। রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন: 'যে ব্যক্তি কাতার অপূর্ণ বা বিচ্ছিন্ন রাখে, আল্লাহ নিজেও তার সাথে বিচ্ছিন্ন থাকেন।' (আহমদ, আবু দাউদ, নাসাঈ) নিম্নের হাদীসটিও এর সমর্থন করে। নবী করীম (সঃ) বলেছেন: 'তোমরা কাতার ঠিক কর, নচেৎ আল্লাহ তোমাদের অন্তরে মতপার্থক্য সৃষ্টি করে দেবেন।' (আবু দাউদ, ইবনে হিব্বান) এর সমর্থনে নিম্নোক্ত হাদীসটিও পেশ করা যায়।

রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন: এঁلَأَصَلَاةَ لِفَرْدٍ خَلْفَ الصَّ কাতারের পেছনে কোন ব্যক্তির একাকী নামায নেই।' (ইবনে খোজাইমা) এক্ষেত্রে যা করণীয় তা হল, ডান-বামে তাকিয়ে আরেকজন লোক পাওয়ার চেষ্টা করা। তবে সামনের কাতার থেকে লোক টেনে আনার ব্যাপারে বর্ণিত দু'টো হাদীসই দুর্বল। আল্লামা নাসেরুদ্দীন আলবানীর দুর্বল হাদীস সংকলনের ৯২১ নং ৯২২ নং হাদীসদ্বয় দ্রষ্টব্য। সামনের কাতার থেকে লোক টেনে আনলে কয়েকটা ক্ষতি হয়। . সামনের কাতারে ফাঁক সৃষ্টি হয়। যার কারণে কাতারে ফাঁক সৃষ্টি হল, হাদীসে আল্লাহর সাথে তার সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন থাকে বলে উল্লেখ আছে। (আহমদ, আবু দাউদ) . লোক টানার ফলে কাতারের শূন্যতা পূরণের জন্য সকল মুসল্লীকে ব্যস্ত করে দেয়া হয়। . মুসল্লীর নামাযের খুশু অর্থাৎ বিনয়কে বাধাগ্রস্ত করা হয় এবং তাকে সামনের কাতারের উত্তম ফজীলত মর্যাদা থেকে পেছনে অপেক্ষাকৃত কম মর্যাদাসম্পন্ন কাতারে আনা হয়। . মাসয়ালা না জানা থাকলে কাউকে টেনে আনলে সে জোর করবে এবং পেছনের কাতারে আসতে চাইবে না। এতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। সকল সমস্যা থেকে বাঁচার জন্য শেখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রঃ) বলেছেন: এমতাবস্থায় মুসল্লী পেছনে দাঁড়িয়ে একাকী জাম'আতে নামায আদায় করবে এবং তাতে কোন অসুবিধে নেই। ইনশাআল্লাহ।

0 comments:

Post a Comment

Thanks for your comments.