(১৩) নামাযে ইমামের আগে আগে কাজ করা:
এটা বিরাট ভুল। এ ব্যাপারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আবু হোরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন: 'তোমাদের কেউ কি আল্লাহকে ভয় করে না? ইমামের আগে কেউ মাথা তুললে আল্লাহ তার মাথাকে গাধার মাথা কিংবা তার চেহারাকে গাধার চেহারায় রূপান্তরিত করবেন।' (বোখারী)
ইমামের সাথে নামায পড়ার ব্যাপারে চারটি অবস্থা হতে পারে। এর মধ্যে তিনটি নিষিদ্ধ এবং একটি আদিষ্ট। চারটি অবস্থা হল:
১. مُسَابَقَةُ )মোসাবাকা): ইমামের আগে আগে রুকু-সাজদাসহ
বিভিন্ন কাজ করা।
২. مُوَافَقَةُ )মোআফাকা): মোটেও দেরী না করে ইমামের সাথে সাথে
রুকু-সাজদাসহ বিভিন্ন কাজ করা।
৩. مَتَابَعَةُ )মাতাবাআ): ইমাম কোন কাজ করলে এর সামান্য পরে
সে কাজটি করা।
8. مَخَالَفَةُ )মোখালাফা): ইমাম কোন কাজ শেষ করেছেন। তা
সত্ত্বেও বেশ দেরী করে সে কাজটি করা। এর মধ্যে কেবল ৩নং متابعة
(মোতাবাআ) কাজটি করার জন্য আমরা আদিষ্ট। বাকি তিনটি কাজ ইমামের অনুসরণের খেলাপ। একটি অগ্রগামীতা, একটি পশ্চাদগামীতা, একটি সাথে সাথে করা। কেবল ইমামের অনুসরণ কাম্য।
ইমামের অনুসরণের ব্যাপারে আবু হোরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন: পূর্ণ অনুসরণের ভিত্তিতে নামায পরিপূর্ণ করার জন্য ইমাম নির্ধারণ করা হয়েছে। তোমরা ইমামের বরখেলাপ করবে না। ইমাম তাকবীর বললে তোমরাও তাকবীর বলবে এবং রুকু করলে রুকু করবে, তিনি
رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ Coast 6 سَمِعَ اللَّهِ لِمَنْ حَمِدَهُ **
এবং তিনি যখন সাজদা করবেন তখন তোমরাও সাজদা করবে।'
(বোখারী, মুসলিম, আহমদ, আবু দাউদ)
এ হাদীসে ইমামের পূর্ণাঙ্গ অনুসরণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ কোন কিছুতে ইমামের অগ্রগামীতা বা পশ্চাতগামীতা অথবা বরখেলাপী করা নিষিদ্ধ। হযরত আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেন: 'হে লোকেরা! আমি তোমাদের ইমাম, তোমরা রুকু, সাজদা, কেয়াম, বৈঠক ও সালাম ফিরানোর সময় আমার অগ্রগামী হবে না।' (মুসলিম, আহমদ)
হযরত আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন:
ইমামের অনুসরণের মাধ্যমে নামাযকে পূর্ণ করার জন্য ইমাম নির্ধারণ করা হয়েছে। তাই ইমাম রুকুতে যাওয়ার আগে তোমরা রুকুতে যাবে না এবং ইমাম উঠার আগে তোমরা উঠবে না।' (বোখারী)
এ হাদীসগুলোতে অগ্রগামীতা ও পশ্চাদগামীতা ব্যতিরেকে ইমামের যথার্থ অনুসরণের কথা বলা হয়েছে।
0 comments:
Post a Comment
Thanks for your comments.