(১১) প্রথম জাম'আত না পেলে দ্বিতীয় জাম'আত না করা এবং লোক থাকা সত্ত্বেও জাম 'আত ছাড়া একাকী নামায পড়া ভুল। কেননা, জাম'আতে নামায পড়ার ব্যাপারে অধিকাংশের মত হল তা ফরজ। একমাত্র হানাফী মাজহাবে এটাকে ওয়াজিবের কাছাকাছি সুন্নতে মোআক্কাদা বলা হয়েছে। এর নিচে আর কেউ বলেনি। কোন ফরজ বা ওয়াজিব ছুটে গেলে সময় থাকলে অবশ্যই সে সময়ের ভেতর তা আদায়ের চেষ্টা করতে হবে।
'আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সঃ) এক ব্যক্তিকে একা নামায পড়তে দেখে বলেন: 'এমন কে আছে, যে এ ব্যক্তির জন্য সদকার নিমিত্ত তার সাথে নামায পড়বে?' (আবু দাউদ- 'একই মসজিদে দ্বিতীয়বার জামাতে নামায আদায়' অধ্যায়)
তিরমিজী শরীফে 'যে মসজিদে একবার জামাত হয়েছে সে মসজিদে দ্বিতীয়বার জামাত অনুষ্ঠান' অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে, 'যখন নবী করীম (সঃ)-এর নামায শেষ হল, তখন এক ব্যক্তি আসল। তিনি বলেন: 'কে আছে এমন যে তার সাথে ব্যবসা করবে?' তখন এক ব্যক্তি দাঁড়াল ও তার সাথে নামায আদায় করল।'
এ দুটো হাদীস দ্বারা একই মসজিদে ২য় জামাতের পরিস্কার প্রমাণ মিলে। কোন কারণে একাধিক লোকের একই নামায কাজা হলে তাও জাম'আত সহকারে পড়ার বিধান রয়েছে। এমনকি, সুন্নতে মোআক্কাদা নামায ফরজের আগে পড়তে না পারলে জাম'আতের পর পুনরায় তা পড়ে নিতে হয়।
যারা মসজিদে ২য় জাম'আত দ্বারা ১ম জাম'আতের গুরুত্ব কমে যায় এ যুক্তিতে ২য় জাম'আত করেন না, তাদের এ যুক্তি খুবই দুর্বল। এ দুর্বল যুক্তি দ্বারা কোরআন ও হাদীসের অকাট্য প্রমাণসমূহ বাতিল হতে পারে না। ** নামায জাম'আতে পড়ার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে কয়েকটা প্রমাণ পেশ করছি।-أَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَأتُو الزَّكَاةَ وَارْكَعُوا مَعَ الرَّاكِعِينَ - : Gate on
"তোমরা নামায কায়েম কর, যাকাত আদায় কর এবং রুকুকারীদের সাথে রুকু কর।" (সূরা বাকারা ৪৩)
এ আয়াতে একদিকে নামায কায়েম এবং অন্যদিকে রুকুকারীদের সাথে রুকু আদায়ের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নামায কায়েমের মধ্যে জাম'আতে নামাযও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দ্বিতীয়তঃ 'রুকুকারীদের সাথে রুকু কর' এ আয়াত পরিস্কার জাম'আতে নামায আদায়ের নির্দেশ দিচ্ছে। জাম'আত ছাড়া একই সাথে 'রুকুকারীদের সাথে রুকু আদায়ের' আর কোন ব্যবস্থা হতে পারে না।
সূরা নেসার ১০২ নং আয়াতে যুদ্ধকালীন নামাযের পদ্ধতি শিক্ষা দেয়া হয়েছে। ঐ কঠিন মুহূর্তেও জাম'আতসহকারে নামায পড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যুদ্ধের সময়ে যদি জাম'আতসহকারে নামায আদায়ের নির্দেশ দেয়া হয়, তাহলে শান্তির সময় জাম'আতের আদেশ আরো জোরদার হবে।
শুধু তাই নয়, কোন কারণে কেউ জাম'আত না পেলে কোন সুন্নত ও নফল আদায়কারীর পেছনে দাঁড়িয়ে ফরজ নামায জাম'আতসহকারে পড়তে পারে। এ মাসলা বোখারী ও মুসলিম এ দু'টো হাদীস গ্রন্থে উল্লেখ আছে। সাহাবী মোআ'জ (রাঃ) নবী করীম (সঃ)-এর সাথে এশার নামায জামাতে পড়ে পরে নিজ পল্লীতে এসে অন্যান্য মুসল্লীদের এশার জামা'আতের ইমামতির ঘটনা খোদ বোখারী শরীফেই বর্ণিত আছে। তাই ২য় জাম'আত হোক বা ৩য় জাম'আত হোক, নামায অবশ্যই জাম'আতে পড়তে হবে।
এমনকি ঘরে এসে স্ত্রীর সাথে হলেও জাম'আতে নামায পড়তে হবে। তাই দ্বিতীয় জাম'আতকে অস্বীকার করার উপায় নেই।
(১২) মুসল্লীর প্রথম তাশাহহুদ শেষ হয়ে গেলে তখনও যদি ইমামের তাশাহহুদ শেষ না হয় বরং ইমাম তখনও বসা- এমতাবস্থায় তাশাহ্হুদের পুনরাবৃত্তি করা ঠিক নয়। আবদুল্লাহ বিন মাসউদ থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, তোমরা যখন প্রত্যেক দুই রাকাত শেষে বস, তখন তাশাহহুদ অর্থাৎ আত্তাহিয়্যাতু... আবদুহু ওয়া রসূলুহু পর্যন্ত পড় এবং যেকোন ভাল দোআ নির্বাচন করে তা পড়। (নাসাঈ, আহমদ, তাবরানী) আল্লামা নাসেরুদ্দিন আলবানীও দোআ পড়ার পক্ষে রায় দিয়েছেন।
** সৌদী আরবের সকল মসজিদে ২য় জাম'আত অনুমোদিত।
0 comments:
Post a Comment
Thanks for your comments.