(৪০) কেরাত উৎকৃষ্ট হওয়া সত্ত্বেও ছোট হওয়ার কারণে তাদেরকে ইমামতি করতে না দেয়া: ইমামতি করার যোগ্য সে, যে অপেক্ষাকৃত বেশি বিশুদ্ধ কোরআন পড়তে জানে। অথচ, অনেকে এর পরিবর্তে বয়স্ক লোককে ইমাম বানায়। এটা বিশুদ্ধ হাদীসের পরিপন্থী। আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ
إِذَا كَانُوا ثَلَاثَةً فَلْيُؤْمَهُمْ أَحَدُهُمْ وَأَحَقُّهُم بِالْإِمَامَةِ
اقْرَؤُهُمْ
'তিন ব্যক্তি একত্রিত হলে একজনকে ইমাম হতে হবে। ইমামতির জন্য সে অধিকতর উপযুক্ত যে অপেক্ষাকৃত ভাল কোরআন তেলাওয়াতকরী।' - (আহমদ, মুসলিম, নাসাঈ)
আবু মাসউদ আকাবা বিন আমের থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ 'আল্লাহর কিতাবের উত্তম তেলাওয়াতকারীই হবে কোন সম্প্রদায়ের ইমাম। সবাই কেরাতে সমান পারদর্শী হলে হাদীস সম্পর্কে অধিকতর জ্ঞানী ব্যক্তিই হবে ইমাম। হাদীস জানার ক্ষেত্রে সমান পারদর্শী হলে যিনি আগে হিজরতকারী, তিনিই ইমামতির জন্য অধিকতর যোগ্য।' (আহমদ, মুসলিম) অন্য এক হাদীসে এসেছে, 'হিজরতের বেলায় সমান হলে বয়স্ক ব্যক্তিকে ইমাম বানাতে হবে।'
বয়স্ক লোকের মর্যাদা হল ৪র্থ পর্যায়ে। এর আগে প্রথমে ভাল কেরাত, দ্বিতীয়ত হাদীস সম্পর্কে জ্ঞান এবং তৃতীয়ত হিজরতের পর্যায় রয়েছে।
জ্ঞান-বুদ্ধিসম্পন্ন বালক যদি বিশুদ্ধ কোরআন পাঠ করতে পারে এবং সেখানে যদি বয়স্ক কেউ ভাল কোরআন তেলাওয়াত করতে না পারে, তাহলে সে বালকের ইমামতির অগ্রাধিকার রয়েছে। এ মর্মে'আমর বিন সালামাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: 'মক্কা বিজয়ের সময় সকল সম্প্রদায় ইসলাম গ্রহণ করল, আমাদের গোত্র থেকে আমার পিতাও ইসলাম গ্রহণ করে নিজ গোত্রের কাছে ফিরে যান। তিনি বলেন: আমি সত্য নবীর কাছ থেকে এসেছি। তিনি অমুক অমুক সময়ে নামায পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। যখন নামাযের সময় উপস্থিত হবে, তখন তোমাদের একজন আজান দেবে এবং তোমাদের মধ্যে বিশুদ্ধতম কোরআন তেলাওয়াতকারী ইমামতি করবে।
তারা সবাই বিশুদ্ধতম কোরআন তেলাওয়াতকারী খুঁজে আমাকে ছাড়া আর কাউকে পায়নি। ফলে আমাকে ইমামতির জন্য পেশ করল। আমি পথিক কাফেলা থেকে কোরআন শিক্ষা করতাম। তখন আমার বয়স ছিল ৬ কি ৭বছর । (বোখারী)
আবু দাউদের এক বর্ণনায় এসেছে 'আমার বয়স তখন ৮ বছর'।
0 comments:
Post a Comment
Thanks for your comments.