Friday, August 14, 2026

নামাযের কেয়াম দীর্ঘায়িত করে রুকু সাজদাহ বেশি সংক্ষিপ্ত করা

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ 
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

(৭২) নামাযের কেয়াম দীর্ঘায়িত করে রুকু সাজদাহ বেশি সংক্ষিপ্ত করা: এটা ঠিক নয়। কেননা নবী করীম (সঃ) সমান হারে কেয়াম, রুকু সাজদাহ করতেন। মর্মে হযরত বারা বিন আযেব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী করীম (সঃ)-এর নামায লক্ষ্য করেছি। আমি তাঁর কেয়াম, রুকু, রুকু থেকে সোজা হওয়া, দু'সাজদার মাঝখানের বৈঠক, সাজদাহ এবং সালাম ফিরানোর আগে শেষ বৈঠক এগুলো সবই দেখেছি। এগুলো সময়ের দিক থেকে প্রায়ই সমপরিমাণের ছিল।' (বোখারী, মুসলিম)

হযরত আনাস বিন মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আমি নবী করীম (সঃ) ছাড়া আর কারো পেছনে পরিপূর্ণ অথচ এত সংক্ষিপ্ত নামায পড়িনি। নবী করীম (সঃ) যখন 'সামি আল্লাহু লিমান হামিদাহ' বলে দাঁড়াতেন, তখন এত দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতেন যে, আমরা ভাবতাম, তিনি বোধহয় (সাজদার কথা) ভুলে গেছেন। তারপর তাকবীর বলে সাজদায় যেতেন এবং দু'সাজদার মাঝখানে এত দীর্ঘ সময় বসতেন যে, আমরা ভাবতাম, তিনি (পরবর্তী সাজদার কথা) ভুলে গেছেন।'

ইবনুল কাইয়েম (রঃ) বলেন, দু'টো হাদীসের মূল কথা হল, কেয়াম এবং তাশাহহুদের বৈঠকের সময়ের পরিমাণ রুকু, সাজদা এবং দু'য়ের মধ্যে সোজা হওয়ার সময়ের পরিমাণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। অর্থাৎ এগুলো দীর্ঘ কিংবা সংক্ষিপ্ত ছিল, কোন পার্থক্য ছিল না। অথচ আমাদের মধ্যে অনেকে, বিশেষ করে তারাবীহর নামাযের মধ্যে, দীর্ঘ কেয়াম করে, কিন্তু রুকু-সাজদা করে সংক্ষিপ্ত।

পক্ষান্তরে, নবী করীম (সঃ) রাত্রের নফল নামাযে (কেয়ামুল লাইলে) যে পরিমাণ কেয়াম করতেন, কেয়াম থেকে উঠে সে পরিমাণ দাঁড়িয়ে থাকতেন, সে পরিমাণে সাজদা করতেন এবং দু' সাজদার মাঝখানেও অনুরূপ পরিমাণ বসতেন। পরবর্তীতে খোলাফায়ে রাশেদীনও অনুরূপ আমল করে গেছেন। হযরত আনাসের হাদীস দ্বারা বুঝা যায়, নবী করীম (সঃ) কেয়ামের মতই রুকু, সাজদা এবং এতদুভয়ের মাঝখানে সোজা হওয়ার ব্যাপারে দীর্ঘ সময় নিতেন। আনাস (রাঃ) শুধুমাত্র দীর্ঘ কেরাত এবং অন্যগুলোকে সংক্ষিপ্ত করার বিরোধীতা করেছেন।

0 comments:

Post a Comment

Thanks for your comments.