(৭৩) ৩ রাকাত কিংবা ৪ রাকাত বিশিষ্ট নামাযের ১ম তাশাহহুদের পর সময় থাকা সত্বেও দোআ না পড়া: যদি তাশাহহুদ পড়ার পর সময় শেষ পর্যন্ত পড়বে। তারপর যে কোন পর বসলে আত্তাহিয়্যাতু পছন্দনীয় দোয়া করবে।' (নাসাঈ, আহমদ, তাবরানী)
আল্লামা নাসেরুদ্দীন আলবানী বলেছেন, এ হাদীস প্রথম তাশাহহুদের পর দোআ পড়ার বৈধতার প্রমাণ। ইবনু হাজমের মতও তাই। আর তাঁর মতটাই শুদ্ধ। অন্যরা হয়তো অন্য শর্তযুক্ত হাদীস দ্বারা তা খণ্ডন করতে চাইবে। কিন্তু এ হাদীস শর্তমুক্তভাবে দোআর বৈধতার প্রমাণ দিচ্ছে।
(৭৪) তাকবীরে তাহরীমার আগে জায়নামাযের দোআ পড়া: এটাও ঠিক নয়। কেননা নবী (সঃ) তাকবীরে তাহরীমার পরে ঐ দোআটি পড়েছেন। - (রসূলুল্লাহর নামায নাসেরুদ্দীন আলবানী- ৫১ পৃঃ)
(৭৫) নামাযে ইমামের ভুল হলে আল্লাহু আকবার বলে ইমামকে সতর্ক করা: এটা ভুল। সঠিক পদ্ধতি হল, সোবাহানাল্লাহ বলা এবং মহিল। মুসল্লীরা হাতে তালি লাগাবে। (বোখারী শরীফের ১ম খণ্ড, ৬৪৩ নং হাদীস এবং মুসলিম শরীফের ২য় খণ্ড, ৮৩২ নং হাদীস দ্রষ্টব)
(৭৬) ওমরী কাজা: যারা বালেগ হওয়ার পর অজ্ঞতা, অবহেলা, অবজ্ঞা বা অন্য কোন কারণে নামায পড়েনি, হেদায়েতের অনুভূতি লাভের পর তারা অতীতের ঐ সকল নামাযগুলোর ক্ষতিপূরণের জন্য পেরেশান হয়ে যায়। সেজন্য সাধারণভাবে ওমরী কাজার ধারণা প্রচলিত রয়েছে। এ ধারণাটা কোরআন ও হাদীস সমর্থিত নয়। কাজা আদায় করতে হয় সুনির্দিষ্ট ওয়াক্তের হারানো নামাযের যা সুস্পষ্টভাবে জানা আছে। কিন্তু যে নামাযের সুনির্দিষ্ট নাম, ওয়াক্ত ও সংখ্যা জানা নেই, তার কাজা আন্দাজী করা যায় না। আন্দাজী কোন এবাদত হয় না। বরং বিনা ওজরে ছেড়ে দেয়া নামাযের জন্য তাকে যা করতে হবে তা হল, অতীতের গুণাহর জন্য তওবা-এস্তেগফার করা এবং কান্নাকাটি করা। আল্লাহ শিরক ছাড়া সকল গুনাহ মাফ করেন। তবে তওবা করলে শিরকও মাফ করেন। পক্ষান্তরে, বর্তমানে বেশী করে নফল ও সুন্নত নামায পড়লে অতীতের নফলগুলোসহ ছুটে যাওয়া ফরজসমূহের ক্ষতিপূরণ হবে, ইনশাআল্লাহ্। সহীহ হাদীসে আছে, কারো ফরজ নামায কম হলে নফল নামায তা পূরণ করে দেবে। (আবু দাউদ)
0 comments:
Post a Comment
Thanks for your comments.