Monday, August 10, 2026

কেয়াম, রুকু, সাজদা ও বসার সময় পিঠ সোজা না করা

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ 
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

() কেয়াম বসার সময় পিঠ সোজা না করা

দেখা যায় কোন সময় ডানে বা বামে কিংবা বাঁকা হয়ে দাঁড়ায় বা বসে। এটা নিষিদ্ধ। পিঠ সোজা রাখতে হবে। নবী করীম (সঃ) বলেছেন: 'আল্লাহ সে বান্দাহর নামাযের দিকে তাকান না, যে রুকু সাজদায় পিঠ সোজা করে না।' (আহমদ, তাবরানী)

নবী করীম (সঃ) ভুল নামায আদায়কারীকে বলেছিলেন: 'তারপর তুমি মাথা তুলে এমনভাবে সোজা হয়ে দাঁড়াবে যেন হাড় তার নিজ নিজ অবস্থানে থাকে।' অন্য এক বর্ণনায় এসেছে 'তুমি মাথা তুলে এমনভাবে দাঁড়াবে যেন হাড়গলো নিজ নিজ জোড়ার দিকে ফিরে যায়। কেউ এরূপ না করলে তার নামায পরিপূর্ণ হবে না।'

() রুকু সাজদায় পিঠ সোজা না করা: 

একবার নবী করীম (সঃ) নামায পড়ার সময় আড় চোখে এক ব্যক্তির দিকে তাকিয়ে দেখেন যে, সে রুকু সাজদায় নিজ পিঠ সোজা করে নি। নামায শেষ করে তিনি বলেন: 'হে মুসলমান সম্প্রদায়! যে ব্যক্তি রুকু সাজদায় পিঠ সোজা না করবে তার নামায হবে না।' (ইবনু আবি শায়বা, আহমদ, ইবনু মাজাহ)

নবী করীম (সঃ) আরো বলেছেন, নামায চুরি সর্বাধিক নিকৃষ্ট কাজ। লোকেরা প্রশ্ন করল, নামায কিভাবে চুরি করে? তিনি বলেন, ঠিকমত রুকু সাজদা না করার নাম নামায- চুরি।' (ইবনু আবি শায়বা, তাবরানী, হাকেম, আল্লামা জাহাবী একে সহীহ বলেছেন) এখন প্রশ্ন হচ্ছে, পিঠ সোজা করার মানে কি? উত্তর, নবী করীম (সঃ) যখন রুকুতে যেতেন তখন পিঠ সমানভাবে বিছিয়ে দিতেন। (বায়হাকী সহীহ সনদ সহকারে বর্ণনা করেছে।)

রসূলুল্লাহ (সঃ) রুকুতে এমনভাবে পিঠ বিছিয়ে দিতেন যে, পিঠের উপর পানি ঢাললে তা স্থিতিশীল থাকত। (ইবনু মাজাহ, তাবরানী)

তিনি ভুল নামায আদায়কারীকে বলেছিলেন: রুকুতে গেলে দু'হাতের কজি দু'হাঁটুতে রাখবে, তোমার পিঠকে সম্প্রসারিত করবে এবং রুকুর জন্য অর্থাৎ ঝুঁকে যাওয়ার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করবে। (আহমদ, আবু দাউদ)

তিনি রুকুতে গেলে মাথাকে পিঠ থেকে উপরের দিকেও রাখতেন না এবং নিচের দিকেও বেশি ঝুঁকাতেন না।

0 comments:

Post a Comment

Thanks for your comments.