Wednesday, August 12, 2026

ইমাম পরবর্তী রাকাতের জন্য উঠা সত্ত্বেও মোক্তাদীর কিছুক্ষণ বসে থাকা এবং আজান, একামত কিংবা তাকবীরের মধ্যে 'আল্লাহু আকবার'

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ 
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

(৩২) ইমাম পরবর্তী রাকাতের জন্য উঠা সত্ত্বেও মোক্তাদীর কিছুক্ষণ বসে থাকা: এটা ঠিক নয়, বরং সুন্নতের খেলাপ। ইমামের অনুসরণ করা ফরজ। রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন : ... إِنَّمَا جُعِلَ الإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِه 'অনুসরণের জন্যই ইমাম নিযুক্ত করা হয়েছে।' (বোখারী, মুসলিম)

৩৩) আজান, একামত কিংবা তাকবীরের মধ্যে 'আল্লাহু আকবার' الله أَكْبَارُ অর্থাৎ আকবার শব্দকে দীর্ঘায়িত করা। এর ফলে অর্থের বিকৃতি ঘটে। أَكْبَارُ-এর একবচন کَبَرُ অর্থাৎ এক মুখ বিশিষ্ট ঢোল। অভিধানে এর আরেকটি অর্থ হল এক ধরনের দীর্ঘজীবি উদ্ভিদ। অথচ 'আল্লাহু আকবার' এর অর্থ হল, আল্লাহ সবচাইতে বড় মহান।

(৩৪) শব্দটি না বাচক অর্থ বুঝালে তাকে মদ সহকারে দীর্ঘায়িত না করা। এর ফলে অর্থ সম্পূর্ণ বিপরীত হয়ে যায়। বিশেষ করে لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ এর মধ্যে ভুল উচ্চারণের কারণে শিরকের গুনাহ হবে। মদ সহকারে পড়লে এর অর্থ দাঁড়ায়: 'আল্লাহ ছাড়া আর কোন মাবুদ উপাস্য নেই।' আর মদ ছাড়া তাড়াতাড়ি পড়লে অর্থ দাঁড়ায়, 'আল্লাহ ছাড়া অবশ্যই আরো মাবুদ এবং উপাস্য আছে।' নাউজুবিল্লাহ। কাফেরকে মুসলমান বানানোর জন্য যে কালেমার প্রবর্তন, ভুল উচ্চারণের কারণে একই কালেমা দ্বারা মোমেন পুনরায় কাফের মোশরেকে পরিণত হয়ে যায়।

অনুরূপভাবে, সূরা কাফেরূনের চার জায়গায় -কে লম্বা করে মদ সহকারে না পড়লে এরূপ বিভ্রাট সৃষ্টি হতে পারে। যেমন:

لَا أَعْبُدُ مَا تَعْبُدُونَ - وَلَا أَنْتُمْ - عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ - وَلَا أَنَا

عَابِدُ مَّا عَبَدُ تُمْ - وَلَا أَنْتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ -

অর্থ: তোমরা যার এবাদত কর, আমি তার এবাদত করি না। আর আমি যার এবাদত করি তোমরা তার এবাদত কর না। তোমরা যার এবাদত কর আমি তাদের এবাদতকারী নই এবং আমি যার এবাদত করি তোমরাও তার এবাদতকারী নও।' এখানে ৪টি জায়গায় শব্দকে মদ সহকারে না পড়লে অর্থ হবে এরূপ: তোমরা যার এবাদত কর আমি অবশ্যই তার এবাদত করি। আর আমি যার এবাদত করি তোমরা অবশ্যই তার এবাদত কর। তোমরা যার এবাদত কর আমি অবশ্যই তাদের এবাদতকারী এবং আমি যার এবাদত করি তোমরাও অবশ্যই তার এবাদতকারী।'

এভাবে মোশরেকদের মূর্তি দেবতার পূজাকে তাকিদ সহকারে স্বীকার করে নেয়া হচ্ছে। ফলে, মোমেন আর মোমেন থাকতে পারছে না। এরূপ আরো বহু আয়াত দোআয় সমস্যা দেখা দেবে। কেউ জেনে বুঝে ইচ্ছা করে এরূপ উচ্চারণ করলে এবং এর অর্থকে গ্রহণ করলে শতকরা ১শ' ভাগ কাফের-মোশরেক হয়ে যাবে। কিন্তু যারা অর্থ বুঝে না এবং এরূপ উল্টা নিয়তও যাদের নেই তাদের ব্যাপারটি আল্লাহ ক্ষমা করবেন বলে আশা করা যায়। কিন্তু বাঁচার সঠিক পদ্ধতি হল, ঠিকমত উচ্চারণ করা।

0 comments:

Post a Comment

Thanks for your comments.