Friday, August 14, 2026

নামাযে সূরার ক্রমধারা অব্যহত রাখার উপর জোর দেয়া

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ 
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

(৫৬) নামাযে সূরার ক্রমধারা অব্যহত রাখার উপর জোর দেয়া: কোরআন শরীফের সূরাগুলোর ক্রমধারা কি আল্লাহ প্রদত্ত, না সাহাবায়ে কেরামের এজতেহাদ প্রসূত সে বিষয়ে মতভেদ আছে। আল্লামা ইবনে তাইমিয়া এবং ইবনে কাসীরের মতে, তা এজতেহাদ প্রসূত। তাই সূরা আগে-পরে পড়লে কোন অসুবিধে নেই। এর প্রমাণ হল, 'হযরত হোজাইফা (রাঃ) বলেন: আমি এক রাত নবী করীম (সঃ)-এর সাথে (তাহাজ্জুদ) নামায পড়ি। তিনি সূরা বাকারা দিয়ে নামায শুরু করেন। আমি ভাবলাম, ১শ' আয়াত শেষে তিনি রুকুতে যাবেন কিন্তু তিনি কেরাত পড়া অব্যহত রাখেন। আমি ভাবলাম, তিনি ১ম রাকাতে সূরা বাকারা শেষ করে রুকুতে যাবেন। কিন্তু তিনি পরে সূরা নেসা পড়লেন। তারপর সূরা আল-এমরান পড়া শুরু করেন এবং তা শেষ করেন.....' (মুসলিম)

ইমাম নওয়ী কাযী আয়াযের বরাত দিয়ে বলেছেন, এটা প্রমাণ করে যে, কোরআনের বর্তমান সূরাসমূহের ক্রমধারা সাহাবায়ে কেরামের এজতেহাদ প্রসূত। কেননা, তাঁরা পরবর্তীতে কোরআন সংকলন করেছেন এবং এটা নবী করীম (সঃ)-এর প্রবর্তিত ক্রমধারা ছিল না। তিনি বিষয়টি উম্মতের উপর ছেড়ে দিয়েছেন। ইমাম মালেকসহ অধিকাংশ ওলামায়ে কেরামের মত এটাই। কাযী আবু বকর বাকেলানীর মতে, কোরআনের সূরাসমূহের ক্রমধারা হয় রসূল নির্ধারিত কিংবা এজতেহাদ প্রসূত। তা সত্ত্বেও পরবর্তীটাই বেশি শুদ্ধ।

মোটকথা, নামাযে সূরাসমূহের ক্রমধারা রক্ষা করার ব্যাপারে নবী করীম (সঃ) থেকে সুনির্দিষ্ট কোন আদেশ বা প্রমাণ নেই। তাই তা ওয়াজিব নয়। তবে ক্রমধারা রক্ষা করা উত্তম বলে সৌদী আরবের স্থায়ী ফতোয়া কমিটি মত প্রকাশ করেছে। (মাজাল্লাতুল বুহুস আল-ইসলামিয়াহ-১৯/১৪৮)


0 comments:

Post a Comment

Thanks for your comments.