(৫৮) ইমামের সালাম ফিরানোর পর অবশিষ্ট নামায পূর্ণ করার জন্য আংশিক নামায আদায়কারী তথা মাসবুকের তার সাথে কোন ব্যক্তি নতুনভাবে জামা'আতে শরীক হতে চাইলে বাধা দেয়া: জাম'আতে নামায পড়া জরুরী বিধায় যে কোন সুযোগের সদ্ব্যবহার করে মাসবুকের সাথে দাঁড়িয়ে একসাথে নামায আদায় করতে পারে। মাসবুকের একথা মনে করা উচিত নয় যে, সে অন্য এক ইমামের পেছনে আংশিক নামায আদায় করে এখন নিজে কি করে আরেকজনের ইমাম হতে পারে। শরীয়তে তাতে কোন বাধা নেই।
সৌদী আরবের ওলামায়ে কেরামের স্থায়ী ফতোয়া কমিটি এর স্বপক্ষে ফতোয়া দিয়েছে, এ মাসয়ালার সমর্থনে নিম্নোক্ত হাদীস উল্লেখযোগ্য। 'নবী রসূল করীম (সঃ) এক ব্যক্তিকে একা নামায পড়তে দেখে বলেন: এমন কেউ আছে যে, এ ব্যক্তিকে দান করবে অর্থাৎ তার সাথে নামায পড়বে?' (যেন তার নামায জাম'আতে হয়) আবু দাউদ, তিরমিজী, ইবনু খোজায়মা, ইবনু হিব্বান, হাকেম)
আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (সঃ) রমজানে নামায পড়ছিলেন আমি এসে তাঁর পেছনে দাঁড়িয়ে গেলাম। এরপর আরেক ব্যক্তি আমার পাশে এসে দাঁড়াল। তারপর আরেক ব্যক্তি আসায় আমরা এখন একটি দলে পরিণত হলাম। রসূলুল্লাহ (সঃ) যখন বুঝলেন যে, আমরা একদল লোক তাঁর পেছনে নামায পড়ছি এবং তাঁকে ছাড়াই আমাদের জাম'আত বৈধ হবে, তখন তিনি নিজ ঘরে চলে গেলেন এবং নামায পড়লেন। কিন্তু আমাদের সাথে পড়লেন না। সকালে আমরা তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি কি রাত্রে আমাদের উপস্থিতি টের পেয়েছিলেন? তিনি বলেন, হাঁ, সেজন্যই আমি ঐরূপ করেছি। (মুসলিম) অর্থাৎ তাদের একজন তখন ইমামতি করেন।
'হযরত আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (সঃ) নিজ হুজরায় নামায পড়ছিলেন। হুজরার দেয়াল ছিল খাট। লোকেরা রসূলুল্লাহ (সঃ)-কে নামায পড়তে দেখে তাঁর সাথে জামাতে শরীক হয়ে যান, সকালে সবাই এ নামায সম্পর্কে আলোচনা করল। তিনি ২য় রাতও নামায পড়েন এবং লোকেরা তাঁর পেছনে নামায শুরু করেন। (বোখারী)
উপরোক্ত হাদীসগুলো একাকী নামায আদায়কারী ব্যক্তির ইমাম হওয়ার বৈধতা প্রমাণ করে। এক্ষেত্রে ফরজ ও নফল-সুন্নতের মধ্যে পার্থক্য না করাই মূলনীতি। কেননা, পার্থক্য সৃষ্টির পক্ষে কোন প্রমাণ নেই।-
0 comments:
Post a Comment
Thanks for your comments.