(৪৯) এদিক-সেদিক তাকানো: নামাযে আকাশের দিকে তাকানো নিষেধ। নবী করীম (সঃ) বলেছেন: 'সম্প্রদায়ের লোকেরা নামাযে আকাশের দিকে তাকানো থেকে বিরত থাকবে, নতুবা তাদের চোখ তাদেরকে ফেরত দেয়া হবে না।' (মুসলিম, আহমদ, আবু দাউদ, ইবনু মাজাহ, ইবনু খোযায়মা)
সুন্নত পদ্ধতি হল, মুসল্লী নিজ সাজদার জায়গায় দৃষ্টি রাখবে। এ মর্মে হযরত আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (সঃ) কা'বা শরীফে প্রবেশ করে বের হওয়ার আগ পর্যন্ত সাজদার জায়গা থেকে দৃষ্টি সরাননি। (হাকেম তাঁর মোসতাদরাক গ্রন্থে লিখেছেন, বোখারী ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী এটা সহীহ হাদীস। আল্লামা জাহাবী তা সমর্থন করেছেন) নবী করীম (সঃ) তাশাহহুদের সময় শাহাদত আঙ্গুলীর দিকে তাকিয়েছিলেন। এ মর্মে আহমদ ও ইবনু খোজাইমা ভাল সনদ সহকারে আবদুল্লাহ বিন যোবায়ের থেকে বর্ণনা করেছেন। 'নবী করীম (সঃ) তাশাহ্হুদের সময় বাম উরুর উপর বাম হাত এবং ডান উরুর উপর ডান হাত রেখেছেন। শাহাদত আঙ্গুলী দিয়ে ইশারা করেছেন এবং ইশারার দিকে তাকিয়েছিলেন।' এর দ্বারা বুঝা যায় যে, তাশাহহুদের সময় শাহাদত আঙ্গুলীর দিকে তাকানো যায়।
(৫০) হাই তুলে মুখ বন্ধ না করা: হাই তুললে মুখ বন্ধ করতে হবে.. আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, তোমাদের কেউ নামাযে হাই তুললে যথাসাধ্য মুখবন্ধ করার চেষ্টা করবে। কেননা, শয়তান ভেতরে প্রবেশ করে।' (আবু দাউদ)
অন্য রেওয়ায়েতে যথাসাধ্য মুখ বন্ধের চেষ্টার অর্থ হল, হাত দিয়ে মুখ বন্ধ করা। আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন: তোমাদের কেউ হাই তুললে সে যেন হাত দিয়ে মুখ বন্ধ করে।' (মুসলিম)
অলসতার কারণে এবং কোন সময় পেট ভরা থাকলে হাই তোলার প্রবণতা সৃষ্টি হয়। ইবনুল আজি বলেছেন, সর্বাবস্থায় হাই তোলার সময় মুখ বন্ধ করতে হবে। নামাযকে বিশেষভাবে উল্লেখ করার কারণ হল, নামাযই হচ্ছে তা প্রতিরোধের উত্তম স্থান, যাতে করে নামাযের ক্ষতি থেকে বাঁচা যায়।
যদিও সর্বাবস্থায় হাই তুললে হাত দিয়ে মুখ বন্ধ করতে হয়।
0 comments:
Post a Comment
Thanks for your comments.