(৫২) সূরা ফাতেহা পড়ার পর ইমামের দীর্ঘ মৌনতা: কিছু সংখ্যক মোহাক্কেক আলেম বলেছেন, মোক্তাদীর জন্য ইমামের সূরা ফাতেহা পড়ার লক্ষ্যে দীর্ঘ মৌনতা বেদআত। ইমাম ইবনে তাইমিয়া তাঁর মাজমু'উল ফাতাওয়ায় উল্লেখ করেছেন: ইমাম আহমদ (রঃ) মোক্তাদীর সূরা ফাতেহা পড়ার সময় পরিমাণ মৌনতাকে পসন্দ করতেন না কিন্তু তাঁর কিছু সাথী তা পসন্দ করতেন। নবী করীম (সঃ) যদি একই উদ্দেশ্যে দীর্ঘ মৌনতা অবলম্বন করতেন তাহলে, সাহাবায়ে কেরাম তা অবশ্যই বর্ণনা করতেন এবং ঐ সময়ে তাদের নিজেদের সূরা ফাতেহা পড়ার কথা উল্লেখ করতেন। নবী করীম (সঃ) যে, সূরা ফাতেহার পরে মৌনতা অবলম্বন করেননি তা নিম্নোক্ত হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। আবু হোরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী করীম (সঃ) নামাযের তাকবীরে তাহরীমার পর একটুখানি চুপ থাকতেন। আমি প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি তাকবীর ও সূরা ফাতেহার মাঝে চুপ থেকে কি পড়েন? তিনি উত্তরে বলেন: আমি নিম্নোক্ত দো'আটি পড়ি:
اللَّهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَايَ
রসূলুল্লাহ (সঃ) যদি সূরা ফাতেহার পর মোক্তাদীদের তা পড়ার জন্য ঐ পরিমাণ সময় চুপ থাকতেন তাহলে তারা প্রথম মৌনতার মতো ২য় মৌনতার বিষয়েও অনুরূপ প্রশ্ন করতেন।
সৌদী আরবের পরলোকগত জেনালে মুফতী শেখ আবদুল আযীয বিন বাজ এক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন: প্রকাশ্য কেরাতবিশিষ্ট নামাযে মোক্তাদীর সূরা ফাতেহা পড়ার জন্য ইমামের চুপ থাকার বৈধতার ব্যাপারে সুস্পষ্ট কোন প্রমাণ নেই। তবে ইমাম চুপ থাকলে মোক্তাদীর জন্য সূরা ফাতেহা পড়া বৈধ। আর যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে মোক্তাদী ইমামের কেরাত পড়া অবস্থায় মনে মনে সূরা ফাতেহা পড়তে পারবে এবং এরপর চুপ থেকে ইমামের কেরাত শুনবে। কেননা, নবী করীম (সঃ) বলেছেনঃ 'যে সূরা ফাতেহা পড়ে না, তার নামায হয় না।' (বোখারী, মুসলিম)
আরেক হাদীসে নবী করীম (সঃ) জিজ্ঞেস করেন, 'তোমরা সম্ভবত ইমামের পেছনে কেরাত পড়ে থাক? তাঁরা জবাবে বলেন, 'হাঁ'। তিনি বলেন, সূরা ফাতেহা ব্যতীত এরূপ করবে না। কেননা, যে সূরা ফাতেহা পড়েনা, তার নামায হয়না।' (আবু দাউদ ও ইবনে বিসেবান-হাদীসের সনদ ভাল)
উপরোক্ত হাদীসন্বয় কোরআনের আয়াক্ত আয়াত এবং হাদীসের হুকুমকে বিশেষভাবে গ্রহণ করেছে। আয়াতটি হচ্ছে,
وَإِذَا قُرِئَ الْقُرْآنُ فَاسْتَمِعُوا لَهُ وَانْصِتُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ
'যখন কোরআন পাঠ করা হয়, তা ভাল করে মনোযোগ দিয়ে শুন; তাহলে আশা করা যায় তোমাদের উপর রহম করা হবে।' অর্থাৎ কোরআন তেলাওয়াতের সময় চুপ থাকতে হবে।
হাদীসটি হল:
إِنَّمَا جُعِلَ الْإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ فَلَا تَخْتَلِفُوا عَلَيْهِ - فَإِذَا كَبَّرَ فَكَبِّرُوا وَإِذَا قَرَأَ فَانْصِتُوا
'অনুসরণের জন্যই ইমাম নির্ধারণ করা হয়েছে, তোমরা ইমামের বিরোধীতা করনা। ইমাম যখন তাকবীর বলে, তোমরাও তাকবীর বল এবং তিনি যখন কেরাত পড়েন তখন তোমরা চুপ করে তা শুন।' (মুসলিম)
শেখ আবদুল আযীয বিন বাজ আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন: মোক্তাদীর সূরা ফাতেহা পড়া ওয়াজিব কিনা এ বিষয়ে ওলামায়ে কেরামের মতভেদ আছে। যারা ওয়াজিব বলেছেন, তারা উপরোল্লিখিত প্রমাণাদির ভিত্তিতে এবং উল্লেখিত পদ্ধতিতে তা পড়ার কথা বলেছেন। অপরদিকে যারা বলেছেন, মোক্তাদীর জন্য এটা ওয়াজিব নয় তাদের প্রমাণ হল, আবু বাকরাহ সাকাফীর হাদীস। এ হাদীস অনুযায়ী বুঝা যায়, মোক্তাদী সূরা ফাতেহা পড়তে ভুলে গেলে কিংবা তা পড়ার বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে অজ্ঞ হলে, তা তার জিম্মা থেকে কেটে যাবে। যেমন কোন ব্যক্তি ইমামকে রুকুতে পেলে সে ইমামের সাথে রুকুতে যাবে এবং ওলামায়ে কেরামের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী তার নামায সহীহ হবে। 'আবু বাকরাহ সাকাফী মসজিদে নববীেেত এসে নবী করীম (সঃ)-কে রুকুতে পেয়ে কাতারে শামিল না হয়ে পেছনে রুকুতে যান এবং পরে কাতারে শামিল হন। নবী করীম (সঃ) সালাম ফিরিয়ে বলেন, আল্লাহ তোমার আগ্রহ আরো বাড়িয়ে দিন। তবে আর কখনও এরূপ করবে না।' অর্থাৎ কাতারে শামিল হওয়া ছাড়া নামাযে প্রবেশ করবে না। তিনি তাকে সূরা ফাতেহা না পড়ার কারণে সে রাকাতটি পরে আদায় করার নির্দেশ দেননি।
0 comments:
Post a Comment
Thanks for your comments.